২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিনিয়োগ বাড়ছে

দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো বর্ধিত বিনিয়োগ। একটি দেশ তখনই অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করে, যখন দেশের অভ্যন্তরীণ উৎসগুলো সম্প্রসারিত হয়। নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা গেলে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়। অর্থনীতিতে বাড়ে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ। আর তাতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো, বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা। বেসরকারী খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যুত, গ্যাস, পানির সংযোগ প্রাপ্তি, বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ, নিষ্কণ্টক জমির প্রাপ্যতা প্রভৃতি বিষয় নিয়ামক ভূমিকা পালন করে থাকে। শেখ হাসিনার সরকারের নানামুখী কার্যকরী বিনিয়োগ বান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে বিগত দশ বছরে বাংলাদেশে দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্পনীতি, প্রবৃদ্ধি কৌশল ও সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বমূলক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়াতেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে নয়া বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সে দেশের বেসরকারী খাতের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া বিদ্যুত সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেয়। এতেই প্রমাণিত হয় যে, শেখ হাসিনার সরকার গত দশ বছরে যে উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তার ইতিবাচক কিছু দিক এরই মধ্যে দেশে ও বিদেশে প্রতিফলিত হয়েছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আছে অনেক বাধা। আছে বিপুল বিঘœ। তবু এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। আছে শত্রুতা। আছে উল্টো গাড়ির অপচালক। তবু সঠিক পথে অগ্রসরমান বাঙালীর প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বা ‘বাংলাদেশ একটি উন্নয়নের পরীক্ষাগার’ জাতীয় শ্লেষ ও বিদ্রƒপ গায়ে না মেখে বাঙালী আত্মশক্তি অর্জনের পথে এগিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে মর্যাদার আসনে স্বদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের ক্রমোন্নতির বিষয়টির স্বীকৃতিও মিলেছে। দেশে নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে। শেখ হাসিনার সরকার প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকার এক শ’টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে এবং অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমও বাস্তবায়ন করছে। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্টভাবে কোন বিষয়গুলোকে প্রতিবন্ধকতা বলে গণ্য করছেÑ সেগুলো শনাক্ত হওয়া জরুরী। সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ সঙ্গত। বিনিয়োগ বিকাশে সরকার বিভিন্ন বিনিয়োগবান্ধব কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ১০ থেকে ১৫ বছরের কর অবকাশ এবং বিদ্যুতের ওপর থেকে ১০ বছরের ভ্যাট মওকুফ। বাংলাদেশের সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি সুনির্দিষ্ট করের মানদ- অনুসরণ করে এসব কার্যক্রম পরিচালন করা হচ্ছে।

চলতি বছর দেশে পূর্ণাঙ্গ ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু হতে যাচ্ছে। এতে উদ্যোক্তারা এক জায়গা থেকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব অনুমতি পাবেন। এতে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের অগ্রগতি হবে। কেন্দ্র চালু হলে বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। সরকার ব্যবসা সম্পর্কিত আইন কানুন ও বিধিনিষেধ কিছুটা সংশোধন করে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১৭৬ থেকে কমিয়ে একশ’র নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমানে অন্তত ১৭ খাতে কর অবকাশ সুবিধা পাচ্ছেন বিদেশীরা। তাদের মুনাফা প্রত্যাবাসন বা ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রেও বিধিবিধান শিথিল করা হয়েছে। কম সুদে ঋণও পাচ্ছেন। তাই বিদেশীরা বিনিয়োগে ঝুঁকছেন। সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে বিদেশী বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি প্রয়োজন।