১৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফাগুন দিনে ‘ফাগুন হাওয়া’

  • রুহুল আমিন ভূঁইয়া

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন কেবল বাঙালীর নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেই এক অনন্য ঘটনা। মায়ের ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে বাংলা মায়ের ছেলেরা। আমাদের জাতীয়তা বোধ এবং জাতিসত্তা উত্থানে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন এক অনিবার্য অধ্যায়। আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনেক সিনেমা থাকলেও ভাষা আন্দোলন সেভাবে উঠে আসেনি সেলুলয়েডের পর্দায়। স্বাধীনতার বীজ বপন করা ভাষা আন্দোলন এসেছে জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ ও শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘বাঙলা’ চলচ্চিত্রে। বহু সময় পার হলেও এই বিষয় সিনেমার পর্দায় উঠে আসেনি। তবে বায়ান্নর ফাগুনে মাতৃ ভাষার জন্য যে জয়ধ্বনি উঠেছিল, তা এখনও ফোটানো যায় গল্পে, গানে, সিনেমায়। সেই ধারাবাহিকতায় সু-অভিনেতা এবং গুণী পরিচালক তৌকীর আহমেদ নির্মাণ করেছেন ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক সিনেমা ‘ফাগুন হাওয়ায়’। আগামীকাল প্রেক্ষাগৃহে আসছে ’৫২-এর পটভূমি নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’। টিটো রহমানের ‘বউ কথা কও’ গল্পের অনুপ্রেরণায় জনপ্রিয় অভিনেতা-নির্মাতা তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ছবিটি আগামীকাল (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেশব্যাপী ’৫২-এর পটভূমি নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ৫২টি হলে মহাসমারোহে মুক্তি পাবে। ছবিটিতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও সিয়াম আহমেদ। এরই মধ্যে এ ছবিটির ফার্স্ট লুক, ট্রেলার ও টিজার প্রকাশ পেয়েছে অন্তর্জালে। ছবির ফার্স্ট লুকে দেখা গেছে, তিশা ও সিয়ামের গায়ে জড়ানো পঞ্চাশের দশকের পোশাক। সাজসজ্জা দেখেও বোঝার উপায় নেই যে তারা এই সময়ে বাস করেন। আদ্যোপান্ত পঞ্চাশের দশকের আবহেই হাজির তারা। ভাষা আন্দোলনের ওপর নির্মিত ‘ফাগুন হাওয়ায়’ শুধু পোশাকে নয়, তিশা ও সিয়াম এক হয়ে রাজপথে নেমেছেন বাংলা ভাষার অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। ছবির ফার্স্ট লুকে তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। ফার্স্ট লুক, ট্রেলার ও টিজার প্রকাশের পর থেকেই ছবিটি নিয়ে মানুষের মাঝে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

‘চলতি সময় থমকে দাঁড়ায়, জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি হায়/ তোমারই হাত ধরতে চাই, ফাগুন হাওয়ায়/কী মায়ার কোন সে নেশায়, বারেবার মন ছুটতে চায়, চেনা মুখ ঘুরপাক খায়, চোখের পাতায়/আমি বার বার বহুবার তোমাকে চাই, আমি বার বার হাজার বার তোমাকে চাই.../’ মিষ্টি এই সাজানো কথাগুলো একটি গানের। যার শিরোনাম ‘তোমাকে চাই’। এটি রয়েছে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত সিনেমা ‘ফাগুন হাওয়ায়’-তে। সম্প্রতি গানটি ইউটিউবে প্রকাশের পরই দর্শক ও সমালোচকরা এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ‘তোমাকে চাই’ গানটি লেখা, সুর ও সঙ্গীতায়োজন পিন্টু ঘোষের। গেয়েছেন সুকন্যা মজুমদার ঘোষ ও পিন্টু ঘোষ। তাদের দুর্দান্ত গায়কীতে এক মুহূর্তের জন্য মুগ্ধতায় ডুবেছে সবাই। এছাড়া গানের দৃশ্যে সিয়াম আহমেদ ও নুসরাত ইমরোজ তিশার সাবলীল অভিনয় ও সাদাসিদে রসায়ন নজর কেড়েছে দর্শকের। ইউটিউবে গানটির মন্তব্যের ঘরে চোখ রাখলেই মিলছে সেই প্রমাণ। এর আগে তৌকীর আহমেদের ‘হালদা’ সিনেমায় গান করেছেন পিন্টু ঘোষ ও সুকন্যা। সেই সিনেমার গানগুলোও পেয়েছিল ব্যাপক জনপ্রিয়তা। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত, ওয়ালটন নিবেদিত এবং দি অভি কথাচিত্র পরিবেশিত ‘ফাগুন হাওয়ায়’র চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন নির্মাতা তৌকীর আহমেদ নিজেই। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন খ্যাতিমান অভিনেতা আবুল হায়াত, আফরোজা বানু, ফারুক হোসেন, সাজু খাদেম, আজাদ সেতু, হাসান আহমেদ ও বলিউডের অভিনেতা যশপাল শর্মা প্রমুখ।

‘ফাগুন হাওয়ায়’ নিয়ে খ্যাতিমান অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘ফাগুন হাওয়ায়’ আমরা একটি মফস্বলে সেই সময়ের মানুষের ভাবনা, আন্দোলন, চেতনাকে রূপক অর্থে তুলে ধরেছি, যা ঢাকা শহরের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়েছে। খুব পরিশ্রম করে ছবিটা বানিয়েছি। ’৫২-এর সালকে ফুটিয়ে তোলার জন্য দেশের অন্য এলাকায় সব কিছু তৈরি করে নির্মাণ করেছি। আমি মনে করি অভিনয় শিল্পীদের সুঅভিনয় এবং সুনির্মাণের যে চেষ্টা করেছি, তাতে দর্শকদের ভাললাগবে। ছবিটি নিয়ে নুসরাত ইমরোজ তিশার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফাগুন হাওয়ায়’ আমি দীপ্তি চরিত্রে অভিনয় করেছি। চরিত্রটি কেমন করেছি তা জানতে হলে ছবিটি হলে গিয়ে সবাইকে দেখতে পাবে। এবং নাসির চরিত্রে সিয়াম অনেক ভাল অভিনয় করেছে। আশা করি ছবিটি সবার ভাললাগবে। তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় কাজ করে কেমন লেগেছে প্রশ্ন রাখতেই ‘হালদা’ খ্যাত এই অভিনেত্রী বলেন, ‘নিঃসন্দেহে তৌকীর ভাই একজন ভাল নির্মাতা। তার নির্মাণে কাজ করার আনন্দ আমি ‘হালদা’র সময় টের পেয়েছি। তা ছাড়া আন্দোলন নিয়ে আমাদের দেশে খুব একটা ছবি নির্মিত হয়নি। এমন একটি ঐতিহাসিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারার আনন্দই অন্যরকম। ছবিটি নিয়ে আমি আশাবাদী। কারণ, ভাষা আন্দোলনকে উপজীব্য করে এর আগে তেমন করে ছবি নির্মিত হয়নি। অনেকেই মনে করেন মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ভাষা আন্দোলনের ছবি হেবী ওয়েটের গল্প হয়, গুরুগম্ভীর সংলাপ থাকে। কিন্তু এ ছবিতে মোটেও তেমন নেই। খুব সহজভাবে গল্প বলা হয়েছে। সবাই হলে এসে অবশ্যই দেখবেন ছবিটি। -বললেন তিশা।