১৯ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছোট পর্দায় ভালবাসা ভালবাসি

আজ ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’। সারা বিশ্বের কোটি কোটি প্রেমিক যুগল আজি প্রভাতে গেয়ে উঠবেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সুরে ‘ভালবাসি ভালবাসি/ এই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাজায় বাঁশি/ ভালবাসি ভালবাসি...প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি একযোগে সারা বিশ্বে এই দিবসটি পালন করা হয়। পৃথিবীতে যতগুলো বিশেষ দিবস রয়েছে তার মধ্যে তরুণ-তরুণীদের কাছে এই দিনটির গুরুত্ব একেবারেই অন্য রকম। দিবস মানেই ভিন্ন কিছুর আনন্দের আয়োজন। এবারের ভালবাসা দিবস উপলক্ষেও বিশেষ আয়োজন থাকবে দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলে। তার মধ্যে থেকে বেশ কয়েকটি নাটক আনন্দকণ্ঠ পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন -খোকন ভূঁইয়া

‘পথ গেছে বেঁকে’

অদ্ভুত ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিচয় হয় সাব্বির এবং টিউলিপের। একটি দোকানে দু’জনেই নূপুর কিনতে যায়। সেখানে একই নূপুর নিয়ে দু’জনের মধ্যে খুনসুটি হয়। সেই খুনসুটিটি সাব্বিরের মনে দাগ কেটে আছে। টিউলিপকে পেতে সাব্বির নানাবিধ পিকিউলিয়ার ঘটনা ঘটাতে শুরু করে। এমনই গল্প নিয়ে জাকারিয়া শৌখিনের রচনায় নাজমুল রনি নির্মাণ করেছেন ভালবাসা দিবসের বিশেষ নাটক পথ গেছে বেঁকে। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা অপূর্ব ও তানজিন তিশা। এছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন অবাক, মালিহা, নোলক প্রমুখ। নাটকটি বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষে আজ একটি বেসরকারী টেলিভিশনে ভালবাসা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানমালায় প্রচার হবে। নাটকটি প্রসঙ্গে অপূর্ব বলেন, নাটকের গল্পটি খুবই মজার। প্রথমে গল্পটি এক ভাবে শুরু হয়ে একটা সময় অন্যদিকে মোড় নেয়। মজার কিছু মুহূর্ত আছে। গল্পে টানটান উত্তেজনা রয়েছে। দর্শক খুব মজা পাবে।

‘এন্টিভাইরাস’

তালহা খুবই চঞ্চল ছেলে। চঞ্চল হলে কি হবে তার একটি স্বভাবে সবাই বিরক্ত। কারও সুখ তার সহ্য হয় না। মানুষে মানুষে প্যাঁচ লাগানোতে সে সব সময় ওস্তাদ। সব সময় মুছকি হাসি মাখা মুখে এই মিচকে শয়তানি স্বভাবের জন্য লোকে তাকে ভাইরাস বলে ডাকে। ভাইরাসকে সবাই এভোয়েড করলেও প্রকৃতি তাকে এভোয়েড করে না। পৃথিবীতে একমাত্র মানুষ প্রকৃতি যার হাসি দেখলে ভাইরাস এর ও ভাল লাগে। অনেকেই প্রকৃতিকে বোঝায় ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে, কিন্তু প্রকৃতি তাদের বলে, যে তার সঙ্গে ভাল সে অন্য কোথায় কি তাতে তার কিছুই যায় আসে না। ইউনিভার্সিটির সব ছেলেই প্রকৃতিকে পছন্দ করে, কিন্তু এই ভাইরাস এর ভয়ে কেউ আর প্রকৃতি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। ভাইরাস নিজেও বুঝতে পারে যে সে প্রকৃতিকে পছন্দ করে। কিন্তু প্রকৃতির মনে এখন পর্যন্ত কোন ছেলেই নাড়া দিতে পারেনি। তাছাড়া ছেলেরা প্রকৃতি কে এত প্রপোজ করায় সে নিজেও ছেলেদের ওপর বিরক্ত। টিকলি মাহমুদ এর এমনই গল্প নিয়ে নির্মাতা রাহাত মাহমুদ নির্মাণ করেছেন ভালবাসা দিবসের বিশেষ নাটক এন্টিভাইরাস। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, জাহারা মিতু, তালহা খান তোহিদ আহমেদ তানজিম প্রমুখ। ‘এন্টিভাইরাস’ নাটকটি আজ রাত ৮.০০ মিনিটে নাগরিক টিভির পর্দায় প্রচারিত হবে।

‘অচেনা আলো’

প্রতিবছরের মতো এবারও ভালবাসা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হবে বেশ কয়েকটি বিশেষ নাটক। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি নাটক হচ্ছে ‘অচেনা আলো’। নাটকটি রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। পরিচালনা করেছেন অনন্য ইমন। আর নাটকটিতে অভিনয় করেছেন তানজিন তিশা, জোভান, সাবেরী আলম, জিয়াউল হাসান কিসলু, আনন্দ খালেদ, আরেফিনসহ আরও অনেকে। নাটকের গল্পে দেখা যাবে- তিশা ও জোভান একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী। অনি পৃথার সিনিয়র। তিশার সৎগুণাবলী জোভানকে মুগ্ধ করে। কিন্তু পৃথা কোন ছেলেকে ভালবাসা তো দূর, পরিচিত হতেও আগ্রহী না। কেন তার এই অনীহা তা জানতে দেখতে হবে নাটকের শেষ দৃশ্য পর্যন্ত। নাটকটি সম্পর্কে নাট্যকার শফিকুর রহমান শান্তনু বলেন, ‘প্রেম করে কেউ ইতিহাস হয়। কেউ দীর্ঘশ্বাস। অচেনা আলো দুদিকের আবহকে দর্শকের সামনে তুলে ধরবে।’ পরিচালক অনন্য ইমন বলেন, ‘আমি কখনোই ¯্রােতে গা ভাসিয়ে দেয়ার মতো কাজ করতে চাই না। ভাল গল্প, যথার্থ শিল্পী ও সুনির্মাণের যথেষ্ট সুযোগ থাকলেই কাজ করি। আশা করি, দর্শক এই নাটকটি দেখলেই তা বুঝবে।’ নাটকটি আজ (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯:৫০ মিনিটে এনটিভিতে প্রচারিত হবে বলে জানান ইমন।

মনে প্রাণে

মনে প্রাণে যখন কেউ কাউকে চায়, তখন তাকে পাবার জন্য দিন রাত এক করে ফেলে। তখন তার আশপাশে আশীর্বাদ হয়ে আসে স্বয়ং খোদা। কথাগুলো বলছিলেন জনপ্রিয় নাট্যাভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। সম্প্রতি তিনি অভিনয় করেছেন টেলিফিল্ম ‘মনে প্রাণে’। সেই নাটকের শুটিংয়ে এমনি একটি ডায়লগ দিতে দেখা গেছে তাকে। জাফরীন সাদিয়ার রচনা ও প্রযোজনায় টেলিফিল্মটি নির্মাণ করেছেন তরুণ নির্মাতা রুবেল হাসান

টেলিফিল্মটিতে একটা অনুপ্রেরণার গল্প, একটা ভালবাসার গল্প, জীবনযুদ্ধের গল্প উঠে আসবে। আমাদের জীবনে কিছু কিছু আকর্ষিক দুর্ঘটনা যখন ভাঙচুর করে দেয় আমাদের সাজানো স্বপ্নগুলোকে, তখন ভালবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে গেলে আবারও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। ভালবাসার মানুষটাকে সুখী দেখে আমরা হাসিমুখে জীবন চালিয়ে নিতে পারি। পাশে থেকে বা দূরে গিয়েও সেইসব স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব, যদি আমরা মনেপ্রাণে তা চাই। এমনি দেখতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘মনে প্রাণে’। অপূর্বর বিপরীতে নাটকটিতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় দুই অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী ও মৌসুমী হামিদ। এছাড়াও রয়েছেন খালেকুজ্জামান, বিদ্যা নাথ সাহা, আতিকুর রাহমান শিবলী, ফিরোজ, ফারুক, অনিক প্রমুখ। টেলিফিল্মটিতে একটি গানও রয়েছে। এটি লিখেছেন জাফরীন সাদিয়া নিজেই। এর সঙ্গীত আয়োজনের পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছেন নির্ঝ হাবিব, মিক্সিং করেছেন হৃদয়। ‘মনে প্রাণে’ টেলিফিল্মটি আজ রাত ৯টায় বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভিতে প্রচারিত হবে। এছাড়াও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘জাফরীন স্টুডিওর ইউটিউব চ্যানেলে টেলিফিল্মটি অবমুক্ত করা হবে।

‘রোমিও মাস্ট ডায়’

গল্পের শুরুতেই পিন্টুর সঙ্গে মালার প্রেমটা ভেঙে যায়। মনভাঙা পিন্টু রাস্তাঘাটে ঘুরে নেশা করতে থাকে। আর ওদিকে বিয়ে হতে থাকে মালার। গায়ে হলুদের দিন কি অদ্ভুত সুন্দর করে সাজানো হয় মালাদের বাড়ি। নীল সাদা নিয়ন আলোয় দূর থেকে বাড়িটিতে যেন মনে হতে থাকে একটা নক্ষত্র। কিন্তু বারবার মেঘ হয়ে নক্ষত্রটা ঢেকে দিতে চায় পিন্টু। একদিকে হলুদের সব অতিথিরা আসছে অন্যদিকে পিন্টু বাড়ির সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। হঠাৎ থেমে যায় গায়ে হলুদের সব গান বাজনা। একটা এ্যাম্বুলেন্স গিয়ে থামে মালাদের বাড়ির সামনে। মালার ভাইবোনেরা দৌড়ঝাঁপ করে মালাকে দ্রুত এ্যাম্বুলেন্সে তোলে। এগিয়ে যায় পিন্টু। ক্ষেপে গিয়ে মালার আত্মীয়স্বজনরা মারধর করে পিন্টুকে। তবুও পিন্টু পেছন পেছন হাসপাতালে যায় সেখানে তাকে মারধর করা হয় আবারও। মালার আত্মহত্যার চেষ্টার জন্য পিন্টুকেই দায়ী করতে থাকে মালার পরিবার। মালার পরিবারও মালাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ করার চেষ্টা করতে থাকে। মালার পরিবার কি পারে মালাকে বাঁচাতে? তা জানতে হলে দেখতে হবে নাটকটি। এমনই একটি গল্প নিয়ে রাজীব আহমেদের রচনায় রুবেল হাসান নির্মাণ করেছেন নাটক ‘রোমিও মাস্ট ডায়’। নাটকটিতে মালা চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা ও ইরফান সাজ্জাদ।

নির্বাচিত সংবাদ