২৩ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশ্ব মাতানো রোমান্টিক সিনেমা

  • সারতাজ আলিম

টাইটানিক

পৃথিবী যতদিন আছে এই সিনেমাও মনে হয় ততদিন টিকে থাকবে মানুষের হৃদয়ে। কিছু ছবি বার বার দেখলেও দেখার খিদে থেকে যায়। এমনই এক সিনেমা টাইটানিক। টাইটানিক মানে কিছু আবেগ, কিছু অনুভূতি, এক টুকরো প্রণয় আর চোখের জল ধরে রাখার চেষ্টা। ১৯১২ সালে টাইটানিক জাহাজডুবির পটভূমিতে নির্মিত এই ছবি লুকিয়ে আছে ছেলেবুড়ো সবার অন্তরে। আর একবার দেখে ফেলতে পারেন তাহলে!

দ্য নোট বুক

আর দশটা রোমান্টিক সিনেমার থেকে এই ভিন্ন স্বাদ দেবে এই সিনেমা। অসচ্ছল এক তরুণের ধনী পরিবারের তরুণীর সঙ্গে প্রণয়। বাঁধা আসে তাড়াতাড়িই! মানুষ যে তার প্রিয় মানুষ বা প্রিয় মুহূর্তগুলো কখনই ভুলতে পারে না সেটা খুব সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। সিনেমাটি শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত দর্শককে ধরে রাখবে। শেষে দিয়ে যাবে একটা তৃপ্তি!

মি বিফোর ইউ

ভালবাসা দিয়ে মানুষের কঠিন কোন সিদ্ধান্ত বদলানো যায়? সেটা না গেলেও ভালবাসার মানুষটা শেষ পর্যন্ত নিজের সর্বস্ব দিয়ে লড়ে যায়। হয়ত মুখ দিয়ে ভালবাসি কথাটা বলা হয় না কিন্তু প্রতি মুহূর্তে কাজ দিয়ে বোঝানো হয়। প্যারালাইজড এক তরুণ সিদ্ধান্ত নেয় ৬০ দিন পর সে আত্মহত্যা করবে। চেয়ারে অসাড় দেহ নিয়ে তার জগতটা ধূসর হয়ে যাচ্ছিল। তার জীবনটা রঙ্গিন করতে পারবে কেউ?

দ্য ফল্ট ইন আওয়ার স্টার

রোমান্টিক গল্প হলেও সিনেমা এগিয়েছে একটু ভিন্নভাবে। সিনেমার গল্পটা দুজন ক্যান্সার আক্রান্ত তরুণ-তরুণীর প্রেমে পড়া নিয়ে। চার্চে নির্দিষ্ট দিনে মিলিত হয়ে ক্যান্সার আক্রান্তরা নিজেদের অনুভূতি বিনিময় করত। এমনই একদিনে এক তরুণী খেয়াল করে অদ্ভুত চোখে এক তরুণ তার দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর? জীবনের কিছু ইচ্ছা পূরণে শুরু হয় নতুন এক যাত্রা। প্রতিটা সেকেন্ডই উপভোগ করার মতো এক মাস্টারপিস এই সিনেমা।

লা লা ল্যান্ড

ভালবাসার গল্প, স্বপ্নের মেঘ স্পর্শ করার গল্প। সাধারণ একটা গল্পের অসাধারণ উপস্থাপনা। স্বপ্নের তাড়া করা দুই তরুণ-তরুণী যেন জীবনের সুরটা খুঁজে পাচ্ছিল না। হঠাৎই একদিন নতুন করে সুর খুঁজে পাওয়া। গল্প, গান, সুর, স্বপ্ন, এগিয়ে চলা আবার একসময় বাঁধা পড়া। তারপর আছে দারুণ এক শেষ দৃশ্য।

এই সিনেমাটি নিয়ে সমালোচকরা বলেন, লা লা ল্যান্ড সিনেমা জগতকেই যেন আশার আলো দিয়েছে। নতুন করে দর্শকরা সিনেমার প্রেমে পড়েছে।

ক্যাসাব্ল্যাঞ্চা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে বহু মানুষ মরক্কোর ছোট্ট শহর কাসাবাঙ্কায়। এই নাইটক্লাবের মালিক হঠাৎই দেখা পান তার প্রাক্তন প্রেমিকা এবং তার স্বামীর। একই সময়ে কেন্দ্রীয় চরিত্র রিকের হাতে আসে কিছু ট্রানজিট পেপার যা দিয়ে নিজ দেশে ফিরতে পারত তার প্রাক্তন। পূর্বের ভালবাসার দোহাই দিয়ে ট্রানজিট পেপার চায় রিকের প্রাক্তন প্রেমিকা। সঙ্গে শুরু হয় সৃতিচারণ। হাজারটা প্রশ্ন জন্ম দিবে এই সিনেমা। জানতে হলে পুরোটা দেখে ফেলতে হবে। দারুণ প্লট আর ইনগ্রিড বার্গম্যানের মন ছুঁয়ে দেয়া অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করতে বাধ্য। ১৯৪২ সালে অস্কার পেয়েছিল এই সিনেমা।

রোমান হলিডে

ছকে বাঁধা জীবন কতদিন ভাললাগে? কেমন লাগবে কারও নিজের সব শখ, ইচ্ছাগুলোকে মাটিচাপা দিয়ে পরিবারের বাঁধা ধরা কিছু নিয়মের মধ্যে বাঁচতে। তার উপর পরিবারটি হয় রাজপরিবার তাহলে নিয়মের বেড়া হয় আরও উঁচু। রাজকুমারী এ্যান একদিন পালিয়ে যায় তার ইচ্ছাগুলোকে পূরণ করতে। আমেরিকান এক সাংবাদিককে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে শুরু করে ইউরোপ। ১৯৫৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমা এখনও দর্শকের মনের সুপ্ত ইচ্ছাকে গা ঝাড়া দিয়ে বের করে আনে।

এ্যালাইড

কোনটা আগে? আপনার প্রিয়তমা স্ত্রী না দেশ? ঠিক কি অনুভূতি হবে যখন একজন সেনা অফিসার জানতে পারবেন তার স্ত্রী প্রতিপক্ষের গুপ্তচর। ব্যাপারটা এখানেই শেষ হলে ভাল হতো কিন্তু ট্র্যাজেডি লুকিয়ে আছে গল্পে। কোন একটা কারণে বাধ্য হয়ে গুপ্তচরের কাজ করছিল সেই নারী। শেষ পরিণিতি কি হবে তাহলে?

দ্য বিফোর ট্রিলজি

১৯৯৫ সালে বিফোর সানরাইজ, ২০০৫ সালে বিফোর সানসেট এবং ২০১৩ সালে বিফোর মিডনাইট সব মিলে ৩টি ছবি আছে এই ট্রিলোজিতে। প্রতিটা সিনেমাতে আছে একই নায়ন নায়িকা। হুট করেই ছুটে চলা ট্রেনে পরিচয় এক তরুণীর সঙ্গে। এভাবেই শুরু গল্পের। নায়কের অনুরোধে নায়িকা নেমে পড়ে ট্রেন থেকে। মাঝের গল্প না হয় দর্শকই দেখে নেবে। ১৮ বছর পর ট্রেন থেকে নেমে পড়া সেই দুজনকেই বয়স্ক অবস্থায় দেখা যায়।

এই তিনটি সিনেমার কোন না কোনটিতে দর্শক নিজেকে খুঁজে পাবে। সিনেমাগুলো জন্ম দেবে হাজারো চিন্তা, পাওয়া যাবে ব্যক্তিত্বে প্রকাশ। গল্পে সাসপেন্স টুইস্ট কম থাকলেও যে গল্প দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে পারে তার প্রমাণ এই ছবি।

নির্বাচিত সংবাদ