২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্র

সম্প্রতি শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার প্রথম থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ না থাকলেও সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ব্যাপারে অনেক অনিয়ম দৃশ্যমান হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার যশোর বোর্ডের আইসিটি প্রশ্নপত্রে অন্য বিষয়ের কিছু প্রশ্ন সংযোগ করার অভিযোগ ওঠে। বুধবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের একটি অংশ আইসিটি প্রশ্নপত্রের সঙ্গে চলে আসার ব্যাপারটি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা তৈরি করে। প্রশ্নপত্রের এমন ভুলের কারণে বুধবার সব বোর্ডের পরীক্ষা পেছানো হয়। ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের কিয়দংশ আইসিটি প্রশ্নপত্রে ছাপানোটা আসলে মুদ্রণ শিল্পের ত্রুটি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিমত ব্যক্ত করে। এমন অনাকাক্সিক্ষত ভুলের জন্য সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করে। ২ মার্চ অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এই ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়টির পরীক্ষা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে ১৬, ১৭ ও ১৮ তারিখ বিশ্ব ইজতেমার কারণে নির্ধারিত দিনের মাধ্যমিক পরীক্ষা পেছানো হয়। নতুন করে আবারও পরীক্ষা পেছানোর সময় নির্ধারণ করায় পরবর্তীতে ব্যবহারিক পরীক্ষাও অনিবার্যভাবে পিছিয়ে গেল। পরীক্ষার এই দীর্ঘসূত্রতায় ছাত্র-ছাত্রীদের যে পরিমাণ সময়ক্ষেপণ হলো তাতে প্রশ্নপত্রের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছে অনেকে, যা মূল শিক্ষাব্যবস্থারই অন্যতম ত্রুটি হিসেবে বিবেচনায় আসছে। এমন অব্যবস্থাপনার শিকার প্রথম দিন থেকেই পরীক্ষার্থীদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়।

২ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২১ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। গত কয়েক বছর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার যে ত্রুটি-বিচ্যুতি, গত বছর থেকে তা অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে নেমে এলেও কিছু অসঙ্গতি, অনিয়ম এখনও কাটেনি। চলমান এসএসসি পরীক্ষা সেই অব্যবস্থাপনার শিকার। এবারও প্রশ্নপত্র অত্যন্ত কড়া আর সতর্কাবস্থায় পরীক্ষার্থীদের সামনে আনার সব ধরনের কর্মপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়। ফলে অনাকাক্সিক্ষত প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতাপ রক্ষা করা সম্ভব হয়। কিন্তু প্রথম দিনের পরীক্ষাতেই সারা দেশের ১৮টি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণের পর যে ত্রুটি সবার সামনে এসে যায় সেটাও কোনভাবেই সুষ্ঠু পরীক্ষা গ্রহণের নিয়মের মধ্যেই পড়ে না। এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়, যা ছিল আগের পাঠ্যক্রমের আওতায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়ন। এমন ঘটনায় বিব্রতকর যেমন শিক্ষার্থীরা, একইভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও। কিছু কেন্দ্রে সঠিক প্রশ্নপত্র দেয়া হলেও অনেক পরীক্ষার হলে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষার্থীরা উত্তর প্রদান করে। তবে শিক্ষাবোর্ড আশ্বস্ত করে এমন অনিয়মে শিক্ষার্থীরা কোন বেকায়দায় পড়বে না। শিক্ষক সেভাবেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী। এছাড়াও একটি কেন্দ্রে এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের ভুল কোডের (১০১ বদলে ১২৬) কারণে পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্তিতে পড়ে। এখানেও বলা হয় এমন ভুল পরীক্ষার্থীদের উত্তর যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হবে।

তবে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণের ক্ষেত্রে এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি অবশ্যই আরও কড়া নজরদারিতে আনা বিশেষ জরুরী। পবিত্র শিক্ষাপীঠ শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন যাচাইয়ের অন্যতম নির্ণায়ক। সেখানে কোন ধরনের ভুল ভ্রান্তির অবকাশকে আমলে নেয়া ঠিক নয়। বরং যথার্থ তদন্ত সাপেক্ষে সার্বিক ব্যবস্থাপনার অসঙ্গতি বের করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া সঙ্গত। যেসব কেন্দ্রে এমন অনিয়ম দৃশ্যমান হয়েছে, সেখানেই নজরদারি জোরদার করে যথার্থ প্রতিবেদন প্রকাশ করা একান্ত আবশ্যক। নিশ্চয়ই এখানে কারও না কারও গাফিলতি বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা কোনভাবেই পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না। আরও অনেক পরীক্ষা এখানও বাকি। সেসব ক্ষেত্রে আর যেন কোন গোলযোগের সূত্রপাত না হয় তা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।