১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সেবার বিড়ম্বনা

সরকারী সেবা প্রাপ্তির ব্যাপারে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা যে বেশ সুখকর এমন কথা দিব্যি দিয়ে বলা যাবে না। বরং সেবা নিতে গিয়ে পদে পদে বিড়ম্বনা ও জটিলতার উদাহরণ ভূরি ভূরি। দেশে ডিজিটাল পদ্ধতির অনুসরণ জোরেশোরে শুরু হলে সরকারী সেবা প্রাপ্তিতে কিছুটা গতি এসেছে এটা অস্বীকার করার নয়। তবে বাস্তবতা হলো বেশির ভাগ সেবা খাতে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত জবাবদিহি ও টার্গেট পূরণের বাধ্যবাধকতার কারণে মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে সরকারী প্রতিষ্ঠানের এক শ্রেণীর কর্মচারী-কর্মকর্তার মধ্যে সব সময়ে কিছুটা ধীরে চলার মানসিকতা লক্ষ্য করা যায়। প্রশাসন এক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে। এটা পরিষ্কার যে, সরকারী নিয়ম-রীতিতে অহেতুক বাহুল্য ও রিক্ততা কমিয়ে আনতে পারলে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানো সহজতর হয়। শুধু তাই নয়, এই কাজে গতিও আসে।

সরকার সম্প্রতি দুটি উদ্যোগ নেয়ায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে বলে আমরা আশাবাদী। এর একটি হলো জমির নামজারির ব্যাপারে সময় কমিয়ে আনা। সহজীকরণও হচ্ছে ভূমির নামজারির পদ্ধতি। সেবার সময় কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তে গ্রাহক হয়রানিও কমবে, এটা ধারণা করা যায। পঁয়তাল্লিশ দিনের পরিবর্তে আটাশ দিনের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন করা হলে সেটি বাস্তবিকই হবে বিশেষ অগ্রগতি। ল্যান্ড ট্রান্সফার নোটিস (এলটি) জেলা প্রশাসকরা এসিল্যান্ডের কাছ থেকে সংগ্রহ করে তা প্রতিমাসে প্রতিবেদন আকারে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন, এমনটিই সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সেবা সহজীকরণের জন্য এই ব্যবস্থা নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ জন্য নাগরিকদের নামজারি ফি হিসেবে কোন বাড়তি টাকা গুনতে হবে না।

আগে ভবন নির্মাণে অনাপত্তি সনদ নিতে হতো ১৬টি সংস্থার। এর তিন-চর্তুথাংশই রদ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে সম্প্রতি। ফলে নির্মাতাদের ভোগান্তি যে কমবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে পাশাপাশি আমাদের স্মরণে রাখতে হবে যে, নগরে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য দেশে ডেভেলপার কোম্পানির অভাব নেই। এদের জমি নির্বাচন ও ক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। সে কারণেই তাদের অনেকেরই পরিচিতি গড়ে উঠেছে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে। দস্যুতা করে যারা ব্যবসায় বিনিয়োগ করে তাদের কাছ থেকে মানবকল্যাণ আশা করা যায় না। আর সে কারণেই তাদের অর্থায়নে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কারিগরি ত্রুটি যেমন থেকে যায়, তেমনি গৃহনির্মাণ সামগ্রী বা উপকরণ ব্যবহারেও এরা দুই নম্বরির আশ্রয় নেয়। ফলে তাদের তৈরি ভবন হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনগুলো টেকসইও হয় না। যেনতেনভাবে বাড়ি বানিয়ে ফ্ল্যাট হস্তান্তর বা ভাড়া দিয়ে মুনাফা লোটাই এদের প্রধান উদ্দেশ্য। ফ্ল্যাট বা এ্যাপার্টমেন্ট কালচারে একজন কেয়ারটেকার বা দারোয়ান নিয়োগ দেয়া হয়। তার বেতন-ভাতা মেটাতে ভাড়াটিয়াদের ওপর আরোপ করা হয় সার্ভিস চার্জ। এক্ষেত্রেও অতিমুনাফার মানসিকতা লক্ষ্য করা যায়। এদের প্রতিটি পদক্ষেপেই লোক ঠকানো ও মাত্রাতিরিক্ত লোভ। সরকার সেবা সহজীকরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে সেটি প্রশংসাযোগ্য। তবে সেইসঙ্গে এটাও মনিটর করা দরকার যে, নতুন যেসব ভবন নির্মাণ করা হবে তাতে যেন কোন ধরনের অনিয়ম করা না হয়।