২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যাত্রীবাহী জাহাজ

যোগাযোগ ব্যবস্থা যত সহজ হবে, মানুষে মানুষে দূরত্ব তত কমে যায়। বাড়ে মেলবন্ধন, পারস্পরিক সম্পর্কের মাত্রাও গুরুত্ব পায়। সংস্কৃতির ঘটে বিস্তার। প্রতিবেশীর সঙ্গে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতির ক্ষেত্রও হয় প্রসারিত। তাই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌপথে যাত্রী ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হলে দুই দেশের সম্পর্কের মাত্রা আরও গভীরতর হবে। চিন্তা-ভাবনার হবে বিনিময়। দুই দেশের সাধারণ জনগণের জন্য সুসংবাদ অবশ্যই যে, আগামী মার্চে পরীক্ষামূলক জাহাজ চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। নৌ-প্রটোকল চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৭২ সাল থেকে পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। তবে এতদিন যাত্রীবাহী কোন জাহাজ চলাচল করেনি। গত বছর এসওপি সইয়ের পর যাত্রী ও পর্যটকবাহী জাহাজ চালুর সুযোগ তৈরি হয়। দুই দেশের মধ্যে যাত্রী ও পর্যটক চলাচলের বিষয়টি বাস্তবায়নের পথে এখন। আগামী মাসে কলকাতা-ঢাকা-গৌহাটি নৌরুটে দুটি জাহাজ চলবে। কলকাতা থেকে ঢাকা হয়ে পনেরো শ’ কিলোমিটার নৌপথ অতিক্রম করে জাহাজ দুটি অসমের গৌহাটি পৌঁছবে। এই নৌপথ অতিক্রম করতে সময় লাগবে ১৭ দিন। পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি সফল হলে পরবর্তীতে ভারতের চেন্নাই পর্যন্ত নৌচলাচল পরিকল্পনা রয়েছে।

ইনল্যান্ড ওয়াটার ওয়েজেন্স অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ ও বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন পর্যটকবাহী জাহাজ চালুর বিষয়ে বাংলাদেশকে অনুরোধ পত্রও দিয়েছে। এছাড়া ভারতীয় একটি পর্যটন অপারেটর কোম্পানি আগামী মার্চে পর্যটকবাহী জাহাজ নিয়ে বাংলাদেশে আসার প্রথম প্রস্তাব দেয়। বাংলাদেশ প্রস্তাবের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছে। ভারতীয় একটি ট্যুর অপারেটর পর্যটকবাহী জাহাজ নিয়ে আগামী মাসে কলকাতা থেকে যাত্রা করবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে অসমের গৌহাটিতে ভ্রমণ শেষ হবে। ১৭ দিনের এ ভ্রমণে জাহাজটি ১২ দিনে বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করবে। দুই দেশের মধ্যে যাত্রী ও পর্যটকবাহী জাহাজ চালুর বিষয়ে গত বছরের অক্টোবরে দিল্লীতে অনুষ্ঠিত সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিকিউর’ (এসওপি) সই হয়। দুই দেশের নৌ-প্রটোকল রুট ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচলের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভারতীয় অপারেটর আরভি বেঙ্গল গঙ্গা নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই ভ্রমণ পরিকল্পনা করেছে। সে অনুযায়ী আগামী ২৯ মার্চ পর্যটকবাহী জাহাজ কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করে এক এপ্রিল বাংলাদেশের মংলা বন্দরে বা আংটিহারা, খুলনায় আসবে। এরপর জাহাজটি পিরোজপুর, স্বরূপকাঠি, বরিশাল, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকার সদরঘাট পৌঁছবে। ঢাকা থেকে জাহাজটি মুন্সীগঞ্জ, মাওয়া, আরিচা, সিরাজগঞ্জ হয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারী বন্দরে যাবে। সেখানে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে অসমের গৌহাটির উদ্দেশে যাত্রা করবে। বাংলাদেশ অবশ্য বলেছে, শীতকাল ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ বন্দর পর্যন্ত পুরোপুরি প্রস্তুত আছে। কিন্তু এর পরে নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ছোট জাহাজ ব্যবহার করতে হবে। কারণ এ সময় নদীর পানি কম থাকে। নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে বর্ষাকালে ভ্রমণের ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হবে না। তখন নৌপথে পানি বেশি থাকায় বড় জাহাজ চলাচল করতে পারবে। দুই দেশের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় পুরো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে, পর্যটন ব্যবস্থার আরও বিকাশ সাধন ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে পারস্পরিক সম্পর্কের মান বাড়াতেও এই পদক্ষেপ যুগান্তকারী হবে। দেশ বিভাগের আগে ও পরে দুই দেশের মধ্যে নৌপথে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আকাশ, সড়ক ও রেলপথে যাত্রী পরিবহন চলে আসছে। এখন নৌপথে চলাচল শুরু হলে দুই দেশের সম্পর্কের মাত্রা ও জনগণের মধ্যে সম্প্রীতি উত্তরোত্তর বাড়বে বলে আশা করা যায়।