২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লিফটিং ফ্রেম সেট শুরু, আরেক স্প্যান বসছে আগামী সপ্তাহে

 লিফটিং ফ্রেম সেট শুরু, আরেক স্প্যান বসছে আগামী সপ্তাহে
  • পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জল, মাওয়া থেকে ফিরে ॥ পদ্মা সেতুর আরেকটি স্প্যান বসছে আগামী সপ্তাহে। এই লক্ষ্যে লিফটিং ফ্রেম সেট করা শুরু হয়েছে শুক্রবার। স্প্যানের ভার বহন করার জন্য লিফটিং ফ্রেম (স্প্যানকে ঝুলন্ত রাখার কাঠামো) সেট করা হচ্ছে। অন্যান্য খুঁটিতে স্প্যান বসানোর ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। খুঁটিগুলো ওয়েলডিং করে স্থানীয়ভাবে সেট করার পরই এই লিফটিং ফ্রেম সরিয়ে আনা হয়ে থাকে। ‘৬ই’ নম্বর নতুন এই স্প্যান বসতে যাচ্ছে ৩৬ ও ৩৫ নম্বর খুঁটিতে। সেই লক্ষ্যেই সব প্রস্তুতি এখন চলছে। সেতু কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, লিফটিং ফ্রেম সেট করতে তিন দিন সময় লাগে। অনেক সময় আগেই করা সম্ভব হয়। এটি সেট করার পরই হয়ত ঠিকাদার চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি চিঠি দিয়ে স্প্যানটি স্থাপনের তারিখ জানাবে। গত রবিবারের অগ্রগতি সভায় মূল সেতুর এই ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্প্যানটি ফেব্রুয়ারির ২০/২২ তারিখের আগেই স্থাপন করা সম্ভব হবে। স্প্যানটি ভাসমান ক্রেনে বহনের জন্য জেটির কাছেই ক্রেন লাইনে তৈরি রাখা হয়েছে বেশ ক’দিন আগে। এছাড়া ৩৫ ও ৩৬ নম্বর খুঁটিও স্প্যান বহনে উপযোগী হয়েছে আরও আগেই। সেতুর চ্যানেলের নাব্যও সঠিক রয়েছে। তাই এই স্প্যান স্থাপন এখন সময়ের ব্যাপারমাত্র। এ পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ৭ টি স্প্যান বসেছে। এর মধ্যে জাজিরা প্রান্তে ৬ টি ও মাওয়া প্রান্তে অস্থায়ী একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। আগামী ১০ মার্চের মধ্যে জাজিরা প্রান্তে ৩৪ ও ৩৫ নম্বর খুঁটির ওপর ৬-ডি নামের আরেকটি স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে।

পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলী জনকণ্ঠকে শুক্রবার দুপুরে জানান, চীনের নববর্ষ চলছিল। গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের নববর্ষের ছুটি। বছরের একটিই বড় উৎসব তাদের। ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা উৎসবটি পালন করে থাকে। সে কারণে দায়িত্বশীল কিছু চীনা কর্মী ছুটিতে ছিলেন। শতাধিক কর্মী চীনেও গিয়েছিলেন এই উৎসব ঘিরে। তাই স্প্যানটি বসানোর ক্ষেত্রে একটু বিলম্ব হয়। তবে প্রায় সকলেই ফিরে এসেছেন। তাই শুক্রবার থেকে স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকৌশলী জানান, সেতুর সব খুঁটির নক্সা সম্পন্ন হওয়ায় এখন সেতুটি দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাপ দেয়া হয়েছে। তারা যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করেন, তাই এবার ছুটির ব্যাপারেও কঠোরতা ছিল। তিনি জানান, সেতু প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৭শ’ চীনা নাগরিক কর্মরত রয়েছে। যারা এই নববর্ষ পালনে চীনে যেতে পারেননি তাদের জন্য বাংলাদেশেই চীনা নববর্ষের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতির নানা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে ‘ড্রাম মিউজিক’সহ চীনা শিল্পীরা নানা আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর ইভেন্ট প্রদর্শন করে।

দ্রুত সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে গত জানুয়ারি থেকে জনবলও বৃদ্ধি করা হয়েছে। দুই শ’র কাছাকাছি জনবল বৃদ্ধি পেয়েছে। সেতু তৈরির জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিও বৃদ্ধি করা হয়েছে বা হচ্ছে। তাই এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। কোন রকমের গাফিলতির পরিবর্তে কাজের গতি বৃদ্ধির ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে পত্রও প্রেরণ করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এখন সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল হচ্ছে ২০২০ সালে এটি প্রায় চূড়ান্ত। কেউ কেউ সেতু দিয়ে যান পারাপার ’২০ সালের জুনের কথা বলছেন। তবে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যানবাহন চলাচল করবে বলে দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলী নিশ্চিত করেছেন।

প্রকৌশলী জানান, সেতুর এখন মাত্র ৫৩টি পাইল স্থাপন বাকি রয়েছে। বাকি সব পাইলই বসে গেছে। আগামী জুনের মধ্যে সব রকম পাইলই স্থাপন সম্পন্ন করতে হবে। এই নির্দেশনাকে সামনে রেখেই পাইল স্থাপনেরও তোড়জোড় চলছে। সেতুর ৩১ ও ৩২ নম্বর পাইলে ৭টি করে খাঁজকাটা পাইল বসে গেছে। এছাড়া মাওয়া ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটিতে পুরনো ৩টি করে প্লেন বটম পাইল সঙ্গে টম পাইলও বসানো হয়েছে। পাইল বসানো বাকি এমন অন্যান্য খুঁটিতেও পাইল বসানোর প্রক্রিয়া চলছে বা বসানো হচ্ছে।

বর্ষা মৌসুমের আগেই মূল পদ্মার খুঁটি সম্পন্ন করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ নজর দিয়েছে। এছাড়া সেতুর অসম্পূর্ণ প্রতিটি খুঁটিতেও এখন সমানে কাজ চলছে। যে সব খুঁটি সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং স্প্যান বসে গেছে, সেখানে স্ল্যাব বসানোর কাজ চলছে। জাজিরা প্রান্তের স্প্যানে ১৬০ রেলওয়ে স্ল্যাব উঠে গেছে। এ পর্যন্ত ১৪৩০টি রেলওয়ে স্ল্যাব তৈরি হয়েছে। আরও ৪শ’র বেশি রোডওয়ে স্ল্যাব তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। সেতুর মাওয়া প্রান্তের তীরের এক নম্বর খুঁটিও উঠতে শুরু করেছে। এই পাইল ক্যাপের একটি লেয়ার হয়েছে। দ্বিতীয় লেয়ারটি এ মাসের মধ্যেই শেষ হচ্ছে।

নদী ও দুই তীরে সব খানেই এখন কাজ আর কাজ। দুই তীরের প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগসেতুর কাজ আরও এগিয়ে গেছে। দু’তীরের মধ্যে জাজিরা প্রান্তে ৩৯ খুঁটির মধ্যে ৩৬ খুঁটি সম্পন্ন পর্যায়ে। আর মাওয়া প্রান্তে ৩৭ খুঁটির ২০ খুঁটি উঠেছে। সম্পন্ন হয়ে গেছে ৯টি। দু’পারের বাকিগুলোর কাজও চলমান রয়েছে।