২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশের বৃহত্তম বিদ্যুত কেন্দ্র পায়রার উন্নয়ন চুক্তি সই

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের সব থেকে বড় বিদ্যুত কেন্দ্র পায়রা তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের যৌথ উন্নয়ন চুক্তি বা জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্ট (জেডিএ) প্রাথমিকভাবে সই করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জামার্নি সফরের সময় শুক্রবার মিউনিখে ইনিশিয়াল সই করেছে বিদ্যুত কেন্দ্রর অংশীদার তিনটি কোম্পানি। একটি কোম্পানি আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির পর সই করবে বলে জানিয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বিদ্যুত কেন্দ্রটির ৫০ শতাংশ অংশীদার। অন্যদিকে বিশ্বখ্যাত বিদ্যুত কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিমেন্স এজি প্রকল্পটির ২০ ভাগ অংশীদার। বিশ্বের আরও দুই নামকরা প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ ওয়েল ও গ্যাস কোম্পানির (বিপি) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট এ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি) বিদ্যুত কেন্দ্রটির সমান ১৫ ভাগ অংশীদার হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জার্মান সফরে শুক্রবার জার্মান সময় ৪টা (বাংলাদেশ সময় রাত নটা) দিকে তার সঙ্গে দেখা করেন সিমেন্স গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী। ওই বৈঠকের পর পায়রাতে বাংলাদেশের সব থেকে বড় কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য জেডিএ ইনিশিয়াল করা হয়। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে জার্মানি থেকে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, সিমেন্স, এনডব্লিউপিজিসিএল এবং সিএমসি ইনিশিয়াল জেডিএ সই করেছে। কিন্তু বিপি অনুষ্ঠানে থাকলেও এখনও তাদের প্রধান নির্বাহীর অনুমোদন না পাওয়ায় সই করেনি। বিপি জানিয়েছে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের বার্ড মিটিং রয়েছে। ওই বৈঠকের পর তারা অনুমোদন পাবে। এর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই চুক্তিতে সই করবে তারা।

বিদ্যুতকেন্দ্র, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, গ্যাস পাইপলাইনসহ প্রকল্প ব্যয় হবে তিন বিলিয়ন ডলার বা ২৪ হাজার কোটি টাকা। জার্মানি ও চীনা ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে বিদ্যুত প্রকল্পটিতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চুক্তি সই এর পর জার্মানি থেকে টেলিফোনে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ এম খোরশেদুল আলম ইনিশিয়াল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পায়রাতে যেখানে কয়লা চালিত এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে সেখানেই তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। এটি হবে দেশের প্রথম এলএনজি চালিত কোন বিদ্যুত কেন্দ্র। কেন্দ্রের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা রয়েছে। এমনকি জমির উন্নয়ন কাজও শেষ হয়েছে। ফলে কাজ শুরু করতে খুব একটা দেরি হবে না বলে জানান তিনি।

নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বলছে, এর আগে ঢাকায় সিমেন্সের সঙ্গে এনডব্লিউপিজিসিএল পৃথক জেডিএ সই করেছিল। সেখানে অন্য এক বা একাধিক পক্ষের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বলা ছিল। তবে সেই অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বিদ্যুত কেন্দ্রর অর্ধেকই থাকতে হবে। আর অন্যদের অংশীদারিত্ব দিতে হলে সিমেন্স তার অংশ থেকে ছেড়ে দেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এনডব্লিউপিজিসিএলের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা চুক্তি সই হওয়ার পর ইমেলে জর্মানি থেকে জানান, বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম এক হাজার ২০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসবে ২০২২ সালে। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনে আসবে ২০২৩ সালে।

বিদ্যুত কেন্দ্রটি বাস্তবায়নের জন্য এনডব্লিউপিজিসিএল, সিমেন্স, বিপি এবং সিএমসির সমন্বয়ে একটি যৌথমূলধনী কোম্পানি গঠন করা হবে। এরপর বিদ্যুত কেন্দ্রটির নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নির্মাণ প্রক্রিয়ার আগেই সম্ভাব্যতা জরিপ শেষ করা পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ করার কাজ শুরু করা হবে।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, পায়রা অঞ্চলে কয়েকটি বড় কয়লা চালিত কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে সরকার কয়লার পাশাপাশি গ্রীন ফুয়েলকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এজন্য এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে কয়লার চেয়ে উৎপাদন খরচ বেশি হলেও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র পরিবেশের জন্য ভাল।

বিদ্যুত কেন্দ্রটি বাস্তবায়িত হলে ৬ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা হবে পায়রার। যার অর্ধেক অর্থাৎ তিন হাজার ১৭০ মেগাওয়াটের মালিকানা থাকবে বাংলাদেশের কাছে। দেশের সব থেকে বড় কয়লা চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র পায়রাতে এ বছরই উৎপাদনে আসছে। কয়লাচালিত কেন্দ্রটি এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করবে। এই কেন্দ্রেও এনডব্লিউপিজিসিএলের অর্ধেক মালিকানা রয়েছে। চীনের সিএমসি এবং এনডব্লিউপিজিসিএল যৌথভাবে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি গঠন করে কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। একই ক্ষমতার আরও একটি কেন্দ্র নির্মাণে করতে যাচ্ছে একই কোম্পানি। আর বাইরে এখানে আরও ১০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বায়ু বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ইউন্ড ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এনডব্লিউপিজিসিএল বলছে, এখানের বায়ু বিদ্যুত উৎপাদনের উপযোগী।