১৯ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অভিমত ॥ সুন্দর আগামীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে

  • দলিল উদ্দিন দুলাল

সমাজ বা দেশে সর্বক্ষেত্রে তরুণরা হলো প্রাণশক্তি। যে সমাজ বা দেশ এই তরুণ শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পেরেছে তারাই অতি দ্রুত উন্নতির ছোঁয়া পেয়েছে। কেননা তরুণদের মাঝেই লুকিয়ে আছে হাজার সম্ভাবনার দুয়ার। তারা যা পারে নানা সীমাবদ্ধতা বা কারণে তার অনেক কিছুই প্রবীণদের দ্বারা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। প্রবীণরা প্রায়শ তাদের অতীত অভিজ্ঞতার কথা বলে থাকেন। তারা তাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণদের সমন্বয় করে তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন। এটাই তরুণ ও প্রবীণদের এক সঙ্গে পথচলা। এই চলার মাঝে খাদ নিখুঁত। অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝে সমন্বয় করে চললে জাতি, ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রের মঙ্গল হবেই, হবে।

বর্তমান এই বাংলাদেশের মানুষ যে অবস্থায় আছে, সেখানে এদেশের সরকারপ্রধান তরুণ ,নবীন-প্রবীণদের মনের কথা বুঝেন। তাদের দূরদর্শিতা, মেধা ও প্রজ্ঞার জন্য আজ দেশ উন্নতির পথে অগ্রসর হচ্ছে। কিন্তু সমাজে কিছু দুষ্ট চক্র থাকে, যাদের সংখ্যা খুবই কম। তারাই সমাজ ও রাষ্ট্রকে কলুষিত করে থাকে। তার জন্য রাষ্ট্রের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাও রয়েছে। তাদের কাজ হল এগুলোকে দমন করা। মানুষকে মানুষ হতে হবে। মানবিক গুণ দ্বারা সেসব সমাজ বিরোধীদের বোঝাতে হবে। তারপর অপরাধ বা অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষ করে, সমাজের সচেতন মানুষদের এক্ষেত্রে আরও বেশি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের বাড়ি, মহল্লার আশপাশের তরুণ ও যুবকরা কি আচরণ করছে এবং তাতে সমাজে কি প্রভাব পড়ছে তা অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। তবেই কেবল সমাজ পরিচ্ছন্ন হবে। এ সমাজ নিজে নিজে কখনও খারাপ হয় না বা হতে পারে না। এ সমাজ খারাপ হয় মুষ্টিমেয় দুষ্ট লোক দ্বারা- সেই লোকগুলো আমাদের পরিবার অথবা আশপাশের পরিবারেই রয়েছে। সবাই সচেতন হলে, বিশেষ করে তরুণদের ভাল পথের দিক নির্দেশনা দিলে সে সমাজ সুন্দর রাখা সম্ভব হবে। তরুণদের সৎ থাকার, সৎ পথ অবলম্বনের জন্য পরামর্শ দিলে, ভাল মানুষদের উদাহরণ দিলে তারা কোন দিন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে পারে না। ৪৭ বছর আগে বঙ্গবন্ধু ডাক দিয়েছিলেন বাংলার জনগণের কাছে, দেশ স্বাধীন করার জন্য। তিনি বলেছিলেন,Ñ ‘তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।’ সেদিন জনগণ তার কথা রেখেছিল। সেদিন তরুণরা তাদের জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছিল। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই বঙ্গবন্ধুকে সহযোগিতা করেছিল। আজ ৪৭ বছর পর তারই কন্যা বাংলার রতœ, বিশ্ব মানবতার মা, বিশ্বনেত্রী আবার ডাক দিয়েছেন, যুব সম্প্রদায়ের কাছে সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, অন্যায়-অবিচার দূর করার। সেটা হতে হবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে। ভোটের মাধ্যমে সমুচিত জবাব চেয়েছেন। তার প্রতিফলন অবশ্য বাংলার মানুষ একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাকে জয়ী করার মাধ্যমে ঘটিয়েছে। তরুণ সমাজ তার সঙ্গে একমত পোষণ করে তাকে ক্ষমতায় এনেছে। এই সাফল্য ধরে রাখতে আমাদের সবাইকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

ভাল কাজকে ভাল বলতে হবে। খারাপ কাজকে সমাজ থেকে মন থেকে সমুলে উৎপাটন করতে হবে। দেশরত্ন শেখ হাসিনার মাথা সমুন্বত রাখতে হবে, রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে হবে, সবাইকে যার যার ওয়াদা পালন করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর কন্যার ডাকে সারা দিয়ে আজ বাংলার জনগণ যে সারা দিয়েছেন, তাতে বিশ্ব অবাক হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার কথায় নির্ভর করে আগামী দিনের বাংলাদেশের উন্নয়নে আরও বেশি সচেষ্ট হবে। সকল ক্ষেত্রে আমরা একযোগে কাজ করতে পারলেই আসবে আমাদের কাঙ্খিত সফলতা তথা শেখ হাসিনার সফলতা।

লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা