২১ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লক্ষ্য অর্জনে দরকার টেকসই গণতন্ত্র

  • সানেমের চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের উন্নয়নে বিদেশী ঋণ বা অনুদানের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণের সময় এসেছে। এমন মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ের পরিধি বেড়েছে। এ লক্ষ্যে নেয়া হচ্ছে নানামুখী পদক্ষেপ ও কৌশল। তিনি মনে করেন, উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে দরকার টেকসই গণতন্ত্র। তিনি বলেন, নানা পদক্ষেপ নেয়ার পর এখনও সমাজে কিছুটা বৈষম্য রয়ে গেছে। তা নিরসনে কাজ করা হচ্ছে। এর ফলও মিলছে হাতেনাতে। কমেছে দারিদ্র্যের হার সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারী গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনোমিক মডেলিং- সানেমের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সুশাসনের নতুন চ্যালেঞ্জ : অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, বাণিজ্য ও অর্থব্যবস্থা’ শীর্ষক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সানেমের চেয়ারম্যান বজলুল হক খন্দকার। এতে বক্তব্য রাখেন, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, এসকাপ-এসএসডব্লিউ’র পরিচালক ড. নাগেশ কুমার ও বিআইডিএস গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়েক সেন। এছাড়া সম্মেলনের সাতটি প্যানেলে ৩০টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষকরা।

এম এ মান্নান বলেন, গ্রামে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। দারিদ্র্য কমছে, সাক্ষরতার হার বাড়ছে, মানুষের আকাক্সক্ষা বাড়ছে উৎপাদনও প্রান্তিকভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, আমরা যখন শুরু করেছিলাম তখন প্রতি পাঁচজনে দু’জনের বেশি ছিল দরিদ্র, এখন প্রতি পাঁচজনে একজন। আমরা এখন পারব এই বিশ্বাস মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। এখন অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমানে প্রতি পাঁচজনে একজন দরিদ্র উল্লেখ করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, যারা দরিদ্র তারা একটু হাত-পা নাড়ছে। আমরা বলছি না যে আমরা বৈষম্য দূর করতে পেরেছি। এরই মধ্যে যাদের সম্পদ আছে তারা বহুগুণে আরও ওপরে চলে গেছে। আমরা ব্যথিত, কিন্তু আমরা বাস্তবতাকে স্বীকার করি। বৈষম্য, দীর্ঘকালের বঞ্চনায় আমরা এগুলো স্বীকার করি। এগুলো মেনে নিয়েই আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। ওপরের মাত্রাটা অনেক বেড়ে গেছে, নিচের মাত্রাটা সামান্য হলেও বেড়েছে। প্রতি পাঁচজনে একজন এখনও দরিদ্র, আমরা যখন শুরু করেছিলাম তখন প্রতি পাঁচজনে দু’জনের বেশি ছিল দরিদ্র। সরকার সব ক্ষেত্রের উন্নয়নে কাজ করছে জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন,

সব ক্ষেত্রে হাত দিচ্ছি আমরা। খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি সব খাতে উন্নয়নের লক্ষ্য সরকারের। এসব কাজ করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে কিছু ভুল হয়। সেগুলো আবার আমরা শুধরে উঠার চেষ্টা করি। গ্রামে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সরকার একটি বৈপ্লবিক অর্জন এনেছে। বিল অঞ্চলে খুঁটি দিয়ে বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়া খুব সহজ কাজ নয়। সেই কাজটিও সরকার করেছে। নানা কারণেই গ্রাম এখন পরিবর্তিত হয়ে গেছে। দারিদ্র্যের ওপর আঘাত আসছে। সাক্ষরতার হার বাড়ছে। মানুষের আকাক্সক্ষা বাড়ছে। উৎপাদনও প্রান্তিকভাবে বেড়েছে। আমরা এখন পারব এই বিশ্বাস মানুষের মধ্যে রোপণ ও বপন করতে পেরেছি। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে আমরা কাজ করছি। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশ ও নিজের উন্নয়নে দৈহিক ও কায়িক পরিশ্রমের বিকল্প নেই। ঋণের মাধ্যমে সহায়তা, বলা হয় কোমল হার। তবে অন্ধকার ঘরে বসে হিসাব করে দেখি, এটা আসলে ততটা কোমল নয়। সেমিনারে বক্তারা বলেন, এই যুগে প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রযুক্তি খুব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

উচ্চ বৈষম্য যেমন প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাধা, আবার উচ্চ প্রবৃদ্ধি টেকসই করাও কঠিন। এই দু’টির জন্য সহায়ক নীতি গ্রহণ করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য-ব্যবস্থার বিভিন্ন নিয়মকানুনের কারণে এই দেশের গ্রামের কৃষকদের বিশ্ববাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে না। তারা শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের (এসডিজি) অন্যতম লক্ষ্য তথ্য-উপাত্ত প্রাপ্তিতে ব্যাপক ঘাটতি আছে। বিকেলে ‘প্রসপ্রেক্টাস এ্যান্ড রিস্ক ফর দ্য গ্লোবাল ইকোনোমি ইন ২০১৯’ শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক গবেষক ড. তানউইর আকরাম। অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন সানেমের গবেষণা পরিচালক ড. সায়েমা হক বিদিশা।