২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একাত্তরের বন্ধু পল ও ইলেন কনেট এখন ঢাকায়

একাত্তরের বন্ধু পল ও ইলেন কনেট এখন ঢাকায়

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিদেশী বন্ধু সম্মাননা প্রাপ্ত যুক্তরাজ্যের নাগরিক অধ্যাপক (ডক্টর) পল কনেট এবং তার স্ত্রী ইলেন কনেট গতকাল সকালে ১০ দিনের জন্য ঢাকা পৌঁছেছেন।

১৯৭১-এর এপ্রিল মাসে পল কনেট এবং প্রয়াত মরিয়েটা প্রকোপের নেতৃত্বে লন্ডনে প্রতিষ্ঠিত হয় অবাঙালীদের মুক্তিযুদ্ধ কমিটি ‘এ্যাকশন বাংলাদেশ’। তৎকালীন যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের তিন নেতা যথাÑ খন্দকার মোশাররফ (বর্তমানে বিএনপি নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ), শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক (বর্তমানে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক) এবং মাহমুদ-এ-রোফ (বর্তমানে লন্ডনে এ্যাকাউনটেন্সি পেশায় নিয়োজিত এবং যুক্তরাজ্য বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা) ‘এ্যাকশন বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল। অবাঙালীদের এই সংস্থা সারাবিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পল কনেট এবং ইলেন কনেটকে ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার এ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেন।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হকের সহযোগিতায় কনেট দম্পতিকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ করেন ৭১-এর কয়েকজন বিলাত প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা সর্বজনাব মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু (ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রাক্তন আহ্বায়ক), মহিউদ্দিন আহমেদ (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব), বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আব্দুল মজিদ চৌধুরী মঞ্জু, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম আলো, সাবেক রাষ্ট্রদূত রাজিউল হাসান রঞ্জু, ড. ফজলে রাব্বি মাহমুদ হোসেন, জাকারিয়া খান চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান কায়সার প্রমুখ।

আরও উল্লেখযোগ্য, একাত্তরের জুলাই মাসে ‘এ্যাকশন বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে অপারেশন ওমেগা নামে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এক গাড়ি বহর বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু যশোর সীমান্তে পাকিস্তানী সৈন্যরা গাড়িবহর আটক করে এবং ইলেন কনেটসহ অপারেশন ওমেগার অন্যান্য সদস্যকে গ্রেফতার করে। আরও উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে কনেট দম্পতির প্রথম পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে যার নাম রাখা হয় পিটার উইলিয়াম মুজিব কনেট।