১৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কিশোরগঞ্জে দুই কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যসহ দুইজনের মৃত্যুদন্ড

কিশোরগঞ্জে দুই কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যসহ দুইজনের মৃত্যুদন্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ ॥ কিশোরগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দুই কলেজছাত্রীকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ দুইজনকে ফাঁসি এবং অপর ছয়জনকে চার বছর করে কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। এ সময় মামলার আট আসামীর মধ্যে তিনজন আদালতে উপস্থিত ছিল। বাকীরা পলাতক রয়েছে। রবিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক কিরন শংকর হালদার এ রায় দেন।

ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তরা হলো-নেত্রকোনার পূর্বধলার হাট ব্যারেঙ্গা গ্রামের আঃ ছোবানের ছেলে ও কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনের কনস্টেবল মনিরুজ্জামান ওরফে হলুদ ওরফে সুজন (৩৬) এবং ঝালকাঠির নলছিটি আমিরাবাদ কাওখিরা গ্রামের ফজলে আলী হাওলাদারের ছেলে শামীম হালদার ওরফে জহির (৩৮)। তারা উভয়ে আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে। রায়ে দন্ডপ্রাপ্ত দুইজনের মধ্যে মনিরুজ্জামানকে ২০ হাজার টাকা ও শামীম হালদারকে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আর চার বছর করে দন্ড-প্রাপ্তরা হলো-দিলবর হোসেন (২২), জয়নাল আবেদীন (২৯), মোস্তফা মীর ওরফে রানা (৩৫), আবুল হোসেন ওরফে আবুল (৩৮), কবির হোসেন ওরফে শান্ত (২৫) ও বাবুল মিয়া (৪৫)। রায়ে তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, জেলা শহরের গাইটালের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবু বাক্কার সিদ্দিকের মেয়ে কিশোরগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আফরোজা আক্তার সুমির সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত কনস্টেবল মনিরুজ্জামান হলুদের। তার মাধ্যমে শামীম হালদারের প্রেমের ফাঁদে পড়ে সুমির বান্ধবী একই কলেজের শিক্ষার্থী শহরের তারপাশার বাসিন্দা নূরুন্নবীর মেয়ে আফরোজা আক্তার উর্মি। পরে জমি লিখে দেয়া ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০০৮ সালের ১৬ জুলাই সুমি ও উর্মিকে কিশোরগঞ্জ থেকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যায় কনস্টেবল মনিরুজ্জামান ও শামীম। ওইদিন বিকেলে ঢাকার কাওরান বাজারে অবস্থিত ‘ওয়েস্টার্ন গার্ডেন ইন্টারন্যাশনাল’ আবাসিক হোটেলের দুটি কক্ষে (নং-৩০৬ ও ৩০৭) নিয়ে ওই দুই কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে হোটেল কক্ষে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় মনিরুজ্জামান ও শামীম। পরে হোটেলের ছয় কর্মচারী সবজির টুকরিতে করে তাদের মরদেহ কাওরান বাজার রেললাইনের কালভার্টের নিচে এবং তেজগাঁও রেলস্টেশনের পাশে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়।

এ ঘটনায় আফরোজা আক্তার সুমির বাবা আবু বাক্কার সিদ্দিক বাদী হয়ে ২০০৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতদের আসামী করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। পরে মোবাইলের সূত্র ধরে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা ডিবি পুলিশের ওসি আমজাদ হোসেন তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল আটজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

রায়ে নিহতদের স্বজন ও বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে অবিলম্বে পলাতক আসামীদের গ্রেফতার করে আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পিপি-১ এ্যাডভোকেট এম.এ আফজল এবং আসামীপক্ষে এ্যাডভোকেট সাইফুল হক সাজন ও এ্যাডভোকেট সিরাজ উদ্দিন মামলাটি পরিচালনা করেন।

নির্বাচিত সংবাদ