২২ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডানেডিনে ইজ্জত রক্ষার লড়াই মাশরাফিদের

ডানেডিনে ইজ্জত রক্ষার লড়াই মাশরাফিদের
  • নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে বুধবার ভোর ৪টায় শুরু, হারলেই হোয়াইটওয়াশ টাইগাররা

মোঃ মামুন রশীদ ॥ গতবার থেকে এবারের তেমন পার্থক্য নেই। তফাতটা যেন বেড়েছে দু’দলের মধ্যে। সেটি মূলত বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার কারণে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুটি ম্যাচে বেশ লড়াই করেছিল সফরকারী বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তবু শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের লজ্জাই বরণ করতে হয়েছিল। এবার প্রথম দুই ওয়ানডেতে কোন লড়াই করতে পারেনি মাশরাফি বিন মর্তুজার পুরো দলটাই। দুই ম্যাচেই ৮ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নিয়ে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। তাই একই ভাগ্য বরণ করতে চলেছে সফরকারীরা। শুক্রবার ডানেডিনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে আরেকটি হোয়াইটওয়াশ ঠেকানোর লড়াই মাশরাফিদের। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি বুধবার ভোর ৪টায় শুরু হবে।

সর্বশেষবার সফরে এসে ২০১৬ সালের শেষদিন নেলসনে হোয়াইটওয়াশ ঠেকানোর লড়াই ছিল মাশরাফিদের। এবার ভেন্যু পরিবর্তন হলেও একই লড়াইয়ের সামনে পড়ে গেছে বাংলাদেশ দল। তিন ফরমেট মিলিয়ে এবারের দুটি ওয়ানডেসহ মোট ২৩ ম্যাচ খেলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে কিউইদের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল ১০ ওয়ানডে খেলেছে তাদের মাটিতে। জিততে পারেনি একটিও। ২০০৭ সালের নিউজিল্যান্ড সফরে মোহাম্মদ আশরাফুলের অধিনায়কত্বে প্রথমবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। সেই সিরিজে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে হেরেছি স্বাগতিকদের কাছে। এরপর সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে হারে ২০১০ সালে। ২০১৬-১৭ সালে সিরিজে মাশরাফির দলকে একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। অর্থাৎ তিন সিরিজই শূন্য হাতে শেষ হয়েছে। এবার প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটে এবং দ্বিতীয় ম্যাচেও ৮ উইকেটে হার দেখেছে। বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাই কাল হয়েছে দলের জন্য। উভয় ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই যে বিপর্যয়ে পড়েছে সফরকারীরা সেখান থেকে ধুঁকতে ধুঁকতে মোহাম্মদ মিঠুন লোয়ার অর্ডারদের সঙ্গে নিয়ে লড়েছেন। সে কারণে সম্মানজনক একটি সংগ্রহ পেয়ে গেলেও নিজেদের মাটিতে তা অনায়াসেই টপকে গেছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের বোলাররাও বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেননি স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের ওপরে।

সবমিলিয়ে দ্বিপাক্ষিপ সিরিজে ১১ ওয়ানডে খেলে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা পর্যন্ত করতে পারেনি সফরকারী বাংলাদেশ দল। তবে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ১৩ মার্চ হ্যামিল্টনে স্বাগতিকদের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ের পর মাত্র ৩ উইকেটে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দেশের বাইরে কিউইদের বিপক্ষে এমন নাজেহাল পরিস্থিতি থাকলেও এবার সফরে আসার আগে সর্বশেষ যে দুই ওয়ানডে পরস্পরের মধ্যে হয়েছিল দু’টিতেই জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের ১৭ মে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে কিউইদের ৫ উইকেটে পরাজিত করে মাশরাফিরা। ঠিক এক মাস পরই ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও নিউজিল্যান্ডকে একই ব্যবধানে হারিয়ে দেয় তারা। কিন্তু সর্বশেষ সে দুটি জয় আর বিশ্বকাপে হ্যামিল্টনের সেই স্মৃতিটাকে বড় অনুপ্রেরণা ধরা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মাঠে দেখা যায়নি। যদিও কোচ স্টিভ রোডসসহ ক্রিকেটারদের অনেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। এবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জেতার প্রত্যয় জানিয়েছিলেন তারা। কিন্তু উল্টো করুণ দশা দেখা গেছে। এর কারণ মূলত দলের মূল ব্যাটিং ভরসাদের চরম ব্যর্থতা। দুই ম্যাচেই নির্ভরযোগ্য বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল সুবিধা করতে পারেননি। প্রথম ওয়ানডেতে ৫ রানে আউট হওয়া তামিম দ্বিতীয় ম্যাচেও করেছেন ৫। সাকিব না থাকায় ব্যাটিং লাইনআপে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে সেটা পূরণ করতে পারেননি বারবার ব্যাটিং নিয়ে সমালোচিত সৌম্য সরকার। তবে ৩০ ও ২২ রানের দুটি মাঝারি ইনিংস খেলেছে যা টপঅর্ডারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুটি ইনিংস। ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিকুর রহীম ৫ ও ২৪ এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১৩ ও ৭ রান করতে পেরেছেন। আর এ কারণেই মাশরাফির দলের এমন দুর্দশা।

যে উইকেটে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা কিউই পেসারদের সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন, সেখানে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট চালিয়েছেন। আসলে গতির লড়াইয়েই পর্যুদস্তু হয়েছে বাংলাদেশ। এই কন্ডিশনে একেবারে অভ্যস্ত কিউইদের জন্য বাংলাদেশ দলের মাঝারি গতিসম্পন্ন পেসাররা ডালভাত। কিন্তু তীব্র গতির কিউই পেসারদের কাছে একেবারে অসহায় বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা। দু’দলের ব্যবধানটা এখানেই। সেই ব্যবধানটা কাটিয়ে উঠতে হলে অবশ্যই পেসারদের বিপক্ষে সফল হতে হবে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের। মিঠুন টানা দুই অর্ধশতক হাঁকিয়ে কৌশলটা দেখিয়ে দিয়েছেন।

দলে ঠাঁই পেয়ে সমালোচিত সাব্বির রহমানও দেখিয়েছেন কিভাবে খেলতে হবে এমন উইকেটে। মিঠুন ৬২ ও ৫৭ রান করেছেন আর সাব্বির করেছেন ১৩ ও ৪৩। এর সঙ্গে আরও জরুরী তামিম, মুশফিকের ব্যাটে রান আসা। বুধবার হোয়াইটওয়াশের লজ্জা ঠেকাতে ভাল ব্যাটিং করে বড় দলীয় সংগ্রহ গড়া ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। কারণ, কিউই ব্যাটসম্যানরা আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। তাদের চাপে ফেলার জন্য হলেও বাংলাদেশী বোলারদের আত্মবিশ্বাসের জোগান দিতে হবে ব্যাটসম্যানদেরই।