২২ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোচ ছাড়াই অবশেষে হার এড়াল মোহামেডান

কোচ ছাড়াই অবশেষে হার এড়াল মোহামেডান
  • চট্টগ্রাম আবাহনীর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, ময়মনসিংহে নোফেলকে হারালো আরামবাগ

রুমেল খান ॥ তবে কি স্বীকৃত কোচ ছাড়াই ভাল খেলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড? কোচ থাকলে ‘ব্ল্যাক এ্যান্ড হোয়াইট’রা (এখন অবশ্য তারা পরে হোয়াইট এবং গ্রীন কালারের জার্সি!) হারে ও পয়েন্ট হারায় ... অথচ সোমবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দেখা গেল ভিন্ন দৃশ্য। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলে তারা এদিন গোলশূন্য ড্র করে ২০১৬ লীগের রানার্সআপধারী চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের সঙ্গে। ঢাকা লীগের সর্বাধিক ১৯ বারের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান। অথচ তারা সর্বশেষ লীগ জিতেছে সেই ২০০২ সালে। প্রিমিয়ার বা পেশাদার লীগে এখনও শিরোপা জেতা হয়নি ৮৩ বছর বয়সী ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটির (তবে হ্যাটট্রিক রানার্সআপ হয়েছে প্রথম তিন আসরে)। এবারের একাদশতম প্রিমিয়ার লীগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মোহামেডান জিতে শুভসূচনা করলেও (বিজেএমসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে) দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই হারের বৃত্তে আটকা পড়ে। একে একে হারে টানা চার ম্যাচে (আরামবাগের কাছে ৪-১, ব্রাদার্সের কাছে ১-০, শেখ রাসেলের কাছে ৩-০ এবং সাইফের কাছে ২-১ গোলে)।

টাকা-পয়সা নিয়ে ঝামেলার কারণে লীগের শুরু থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন না নয়া ব্রিটিশ কোচ ক্রিস্টোফার ইভান্স (স্বাধীনতা কাপের পরেই চলে যান নিজ দেশে)। ফলে দলের দায়িত্ব নেন সহকারী কোচ আলী আজগর নেছার। কিন্তু প্রথম ম্যাচ জিতলেও তার অধীনে টানা চার ম্যাচ হেরে বসে কলঙ্কের জন্ম দেয় মোহামেডান। অনেক ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, নিজেদের লীগ ইতিহাসে এর আগে কখনও টানা চার ম্যাচ হারেনি মোহামেডান, এটা তাদের সর্বকালের সর্বজঘন্য ফল! ক্লাব কর্তৃপক্ষের সীমাহীন দুর্নীতি, সাংগঠনিক অদক্ষতা ও অযোগ্যতার কারণে এবার মোহামেডান অবনমিত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না (এর আগে ২০১৬ মৌসুমের লীগে অল্পের জন্য অবনমিত হওয়া থেকে বেঁচে যায় মোহামেডান, সেবার ১২ দলের মধ্যে দশম হয়েছিল তারা)।

হারের ‘হালি’ পূর্ণ হওয়ার পর ক্লাব ম্যানেজমেন্টের ওপর নানা কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে দায়িত্ব ছাড়েন আলী আজগরও। ফলে আবারও কোচশূন্য হয়ে পড়ে মোহামেডান। এই অবস্থা নিয়েই সোমবার মাঠে নামে তারা। দর্শকরা ধরেই নিয়েছিল হারের সংখ্যাটা ‘৫’-এ গিয়ে ঠেকিয়ে আরও ‘জাতে’ উঠবে মোহামেডান। কিন্তু আদতে তা হয়নি। সবাইকে অবাক করে বেশ ভাল খেলেই তারা রুখে দেয় চট্টগ্রাম আবাহনীকে।

নিজেদের সপ্তম ম্যাচে এটা চট্টলার তৃতীয় ড্র। ২ জয়ে তাদের পয়েন্ট ৯। পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান আগের মতোই, সপ্তম। পক্ষান্তরে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে এটা মোহামেডানের প্রথম ড্র। ১ জয়ে তাদের পয়েন্ট ৪। পয়েন্ট টেবিলে উন্নতি হলো দু’ধাপ। একাদশ থেকে তারা এখন নবম স্থানে। পেছনে ফেলল রহমতগঞ্জ ও ব্রাদার্সকে।

এই মাঠেই গত ৯ ডিসেম্বর মোহামেডান-চট্টগ্রাম আবাহনী গোলশূন্য ড্র করেছিল, স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের গ্রুপ ম্যাচে। সোমবার প্রথমার্ধে উভয় দলই খেলা শুরু করে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। ৪৩ মিনিটে বক্সের প্রায় পাঁচ গজ দূরে ফ্রিকিক পায় চট্টগ্রাম আবাহনী। দলীয় অধিনায়ক-ডিফেন্ডার মোনায়েম খান রাজুর ফ্রিকিক ফিস্ট করে দলকে বিপদমুক্ত করেন মোহামেডান গোলরক্ষক সারোয়ার জাহান। এছাড়া প্রথমার্ধে মোহামেডান বেশ কটি আক্রমণ শাণালেও তাদের আক্রমণ ফিনিশারের অভাবে গোলের সন্ধান পায়নি। আলী আসগর নেছার কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর এদিন মোহামেডানের ডাগআউটে দেখা যায় তাদের ‘স্বনামধন্য’ ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবুকে, যার কোচিংয়ের কোন লাইন্সেস-অভিজ্ঞতা নেই! মজার বিষয়Ñ বাবুর অধীনে মোহামেডান প্রথমার্ধে কোন গোল খায়নি! প্রথমার্ধে খেলা চলাকালে (তখন ৩০ মিনিট চলে) এক দর্শক বিস্মিত কণ্ঠে বলেন, ‘কি ব্যাপার, মোহামেডান আজ এত ভাল খেলছে, এখনও কোন গোল খায়নি, ঘটনা কি! নাকি আবার পাতানো ম্যাচ খেলছে?’

কয়েক মৌসুম আগেও শিরোপার প্রত্যাশা করলেও এখন মোহামেডান লীগে খেলে শুধুই নিয়ম রক্ষার্থে, রলিগেশন এড়াতে। তাদের বিরুদ্ধে এখন যেকোন দলই জয়ের আশা করতে পারে। ৭০ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে মিডফিল্ডার নাইমুর রহমান শাহেদের ফ্রিকিক বক্সে লাফিয়ে উঠে বিপদমুক্ত করেন মোহামেডান অধিনায়ক এনকোচা কিংসলে। ফিরতি বলে মমদৌ বাও পোস্ট লক্ষ্য করে শট নিলে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত কোন দলই গোলমুখ খুলতে না পারাতে গোলশূন্য ড্র’তেই শেষ হয় মোহামেডান-চট্টলা লড়াই। নোফেলকে হারাল আরামবাগ ॥ একইদিনে ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নিজেদের হোম ম্যাচে নোফেল স্পোর্টিং ক্লাবকে ১-০ গোলে হারায় আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। এই জয়ে ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে আরামবাগ। মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সর্বনিম্ন স্থানে আছে নবাগত নোফেল স্পোর্টিং ক্লাব।