১৯ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুবাইয়ে মুগুরুজা-কাসাতকিনার জয়

দুবাইয়ে মুগুরুজা-কাসাতকিনার জয়
  • চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় পর্বে সিমোনার মুখোমুখি বাউচার্ড

জিএম মোস্তফা ॥ দুবাই চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়েই মিশন শুরু করেছেন গারবিন মুগুরুজা এবং দারিয়া কাসাতকিনা। রবিবার টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বের ম্যাচে স্প্যানিশ টেনিস তারকা মুগুরুজা কঠিন লড়াইয়ের পর ৪-৬, ৬-৩ এবং ৬-৩ গেমে পরাজিত করেন ইউক্রেনের দায়ানা ইয়াসট্রেমস্কাকে। আরেক ম্যাচে রাশিয়ার দারিয়া কাসাতকিনা ৬-৩, ৩-৬ এবং ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন বাছাই মাগদালেনা ফ্রেচকে। এছাড়াও জয় দিয়ে দুবাইয়ের এই টুর্নামেন্টে যাত্রা করেছেন কানাডিয়ান টেনিসের প্রতিভাবান খেলোয়াড় ইউজেনি বাউচার্ড।

বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক শীর্ষ তারকা গারবিন মুগুরুজা। রবিবার দুবাইয়ে দায়ানা ইয়াসট্রেমস্কার মুখোমুখি হন। তবে ঘাম ঝরিয়ে ম্যাচটা জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকেট নিশ্চিত করেন তিনি। ১৮ বছরের তরুণীর বিপক্ষে তিনবার মুখোমুখি হয়ে প্রথম কোন ম্যাচ জিতলেন মুগুরুজা। এই জয়ে তাই স্বাভাবিকভাবেই খুশি তিনি। ম্যাচের শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে গারবিন মুগুরুজা বলেন, ‘ট্যুর ম্যাচে এই মুহূর্তে ইয়াসট্রেমস্কাকেই আমার সবচেয়ে বেশি হিটার খেলোয়াড় বলে মনে হয়। কিন্তু এবার তার বিপক্ষে আমি ভাল খেলেছি। আর এটাই জয়ের মূল কারণ। আমি মনে করি আমার সার্ভ খুব ভাল হয়েছে। তবে সে কোর্টে খুব আত্মবিশ্বাসী ছিল।’ আরেক ম্যাচে মুগুরুজার মতো কাসাতকিনাকেও জয়ের জন্য তিন সেট খেলতে হয়েছে। ২০১৮ সালের ফাইনালিস্ট কাসাতকিনা। এবার অবশ্য ফাইনাল জয়ের লক্ষ্য নিয়েই কোর্টে নেমেছেন তিনি। প্রথম সেটে কষ্টার্জিত জয়েও তাই সন্তুষ্ট রাশিয়ান তারকা। তার লক্ষ্য এখন টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতেও পারফর্মেন্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা।

মুগুরুজা-কাসাতকিনার কষ্টের জয়ের দিন সহজেই প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরিয়েছেন ইউজেনি বাউচার্ড। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক পাঁচ নম্বর খেলোয়াড় এদিন সরাসরি সেটে ৬-৩ এবং ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন বেলারুশের ভেরা লেপকোকে। প্রতিপক্ষকে হারাতে কানাডিয়ান তারকার সময় লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। ২০১৪ সালে টেনিস কোর্টে আলো ছড়িয়েছিলেন বাউচার্ড। সেবার উইম্বলডনের ফাইনালেও জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। পারফর্মেন্সের সেই ধারাবাহিকতা আর ধরে রাখতে পারেননি এই কানাডিয়ান তারকা। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। দুবাইয়েও জয়ের পরও জানালেন স্বরূপে ফেরার বিষয়ে দারুণ আশাবাদী বাউচার্ড। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডেই অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে তাকে। কেননা, দ্বিতীয় পর্বে যে তার প্রতিপক্ষ বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকা সিমোনা হ্যালেপ!

এদিকে, দীর্ঘদিনের বন্ধু স্ট্যানিস্লাস ওয়ারিঙ্কাকে হারিয়ে রটারডাম ওপেন টেনিসের শিরোপা জিতেছেন গায়েল মনফিলস। ফাইনালে সুইস ওয়ারিঙ্কাকে ৬-৩, ১-৬ এবং ৬-২ গেমে পরাজিত করে ক্যারিয়ারের অষ্টম শিরোপা জয় করেন মনফিলস। তিন বছর আগে এই টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়েছিলেন ফ্রেঞ্চ তারকা মনফিলস। দ্বিতীয় সেটে ওয়ারিঙ্কার কাছে বিধ্বস্ত হলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই কোর্ট ছেড়েছেন মনফিলস। শিরোপা জয়ের পর উচ্ছ্বসিত মনফিলস ফাইনালে প্রতিপক্ষ ওয়ারিঙ্কা সম্পর্কে বলেছেন, ‘এটা একটা অবিশ্বাস্য সপ্তাহ ছিল। স্ট্যানিস্লাসও এই জয়ের একটি অংশ। আমরা একসঙ্গে অনেক বিষয় আলোচনা করি। সে আমার খুব ভাল একজন বন্ধু। পুরো সপ্তাহটা স্ট্যান ও আমার জন্যই ভাল কেটেছে। আশা করছি ভবিষ্যতে অনেক লড়াইয়ে আমরা মুখোমুখি হব।’

ডাচ বন্দর নগরীতে ২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ওয়ারিঙ্কা। হাঁটুর অস্ত্রোপচার শেষে প্রায় ১৮ মাস পর কোন টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলাটাও তার জন্য বিশেষ কিছু। ২০১৭ সালের জুনে সর্বশেষ ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে খেলেছিলেন ওয়ারিঙ্কা। সে কারণেই তিনবারের গ্র্যান্ডস্লাম বিজয়ী এই সুইস তারকা বলেন, ‘অবশ্যই ফাইনালে খেলাটা দারুণ বিষয়। এই টুর্নামেন্টে যেভাবে খেলেছি তাতে আমি দারুণ খুশি। এখানে আমি চার ভাল ম্যাচ খেলেছি। পুরো টুর্নামেন্টেই নিজের মান বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য আমাকে আরও কিছু টুর্নামেন্ট খেলতে হবে।’ গত ১১ বছরের ইতিহাসে রটারডামের ফাইনালে এই প্রথম দু’জন অবাছাই খেলোয়াড় অংশ নিলেন।

নির্বাচিত সংবাদ