২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘জয় বাংলা’য় বাংলা মাতান তরুণ তৌহিদ

  • মোয়াজ্জেম হোসেন

‘জয় বাংলা জিতবে আবার নৌকা/শেখ হাসিনার সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন।’ সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচার গান হিসেবে হাট-মাঠ, অলি-গলি, রাস্তায় কান পাতলেই শোনা গেছে এই গানটি। প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

অনেকেই গানটি ভালবেসে তাদের মোবাইলে কলার টিউন হিসেবে ব্যবহার করছেন। এছাড়া সারাদেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা নৌকার জয়গানটি নিয়ে ‘ফ্লাস মব’ করেছে। ইউটিউবে অসংখ্য চ্যানেল থেকে নানারকম ভিডিও করে এটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রিয় গানে পরিণত হয়েছে তরুণ প্রজন্মের কাছে।

ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই গানটি নিয়ে তৈরি হয়েছে সবার আগ্রহ। এ গানের নেপথ্যে নায়ক কারা? কারা গানটি তৈরি করেছেন। কে লিখেছেন? নৌকার জয়গানটির লেখা ও প্রযোজনায় ছিলেন তরুণ তৌহিদ হোসেন। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন যৌথভাবে সরোয়ার ও জিএম আশরাফ। সঙ্গীতায়োজনে ছিলেন ডিজে তনু ও এলএমজি বিটস। সম্পাদনা ও কালার সমন্বয়ে ছিলেন হৃদয় হোসেন।

তারুণ্যের প্রতীক হয়ে ওঠা ‘জয় বাংলা’ গানের কারিগর তৌহিদ হোসেনের পৈত্রিক বাড়ি বাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানায়। ছেলেবেলা থেকেই খুব মেধাবী ও কর্মঠ তৌহিদ, ব্যক্তি জীবনে একজন আইটি ব্যবসায়ী। শিক্ষাগত জীবনে এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেছেন। তরুণ তৌহিদ হোসেন ছাত্রজীবন থেকেই চেয়েছিলেন নিজে কিছু করতে যার মাধ্যমে নিজের পাশাপাশি দেশের শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানেরও জায়গা হয়। সে চিন্তা থেকেই নানা চড়াই-উতরাই পার করে ফিফু-টেক (ঋওঋঙ ঞবপয) নামে এক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু। যেটি বিভিন্ন কোম্পানির হয়ে কল সেন্টারের কাজ করে। আস্তে আস্তে কঠোর পরিশ্রম আর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যায় তৌহিদ। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০০ লোক কাজ করছে। তৌহিদ হোসেন বর্তমানে বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার এ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের সাধারণ সম্পাদক। যুক্ত আছেন বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে। আছেন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিউম্যান রাইট্স মনিটরিং অর্গানাইজেশনের ডিরেক্টর পদে।

তৌহিদ হোসেনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম ‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’ গানটির ভাবনা সম্পর্কে।

তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচার কমিটির সদস্য ছিলাম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে ভিন্ন কিছু একটা করার পরিকল্পনা মাথায় ঘুরছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই গানটি করেছি। তাছাড়া, তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করতে গানটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস ছিল। দেশের জন্য, উন্নয়নের পক্ষে ভাল কিছু একটা করতে পেরে ভীষণ ভাল লাগছে। গানটি এরই মধ্যে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের মাঝে ছড়িয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারকে নিয়ে গানটি লেখা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি যখন বিপিও (বিজনেস প্রসেসিং আউটসোর্সিং) ব্যবসায় জড়িত হই তখন ১ এমবিপিএস ইন্টারনেট কিনতাম ৭০-৮০ হাজার টাকায়। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার টানা দশ বছরের শাসনামলে এটিকে নিয়ে এসেছে ৫০০ টাকায়। এটা আমি আমার নিজ চোখে দেখলাম। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সকল ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য এনেছে। আর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলটিকেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

তাছাড়া সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্য থেকেও আমি মনে করি দেশের মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগ সরকারকে আবার ক্ষমতায় নিতে এই সরকারের অবদান ও উন্নয়নগুলো জণগনের কাছে তুলে ধরা উচিত। তাই এই গানটির মাধ্যমে কিছু উন্নয়ন তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যদিও এত বিশাল পরিমাণ উন্নয়ন একটি গানের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব না। এই গানটি ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরার ও প্রচার করার চেষ্টা করেছি।

এই গানটি করার আগেও আরও তিনটি গান করেছিলাম। কিন্তু সেগুলো এতটা সাড়া পায়নি। মোটামুটি মানুষ শুনেছে কিন্তু এতটা ভাইরাল হয়নি।

গানের টিমটা কিভাবে তৈরি করলেন?

গানের টিমে থাকা প্রত্যেকেই আমার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। এবং প্রত্যেকেই তরুণ। আমি আমার টিমে তরুণদের বাছাই করেছি কারণ তরুণদের দিয়েই তারণ্যের ভাললাগা বের হবে। তরুণ সমাজ যেটি গ্রহণ করবে তা আমাদের ভাললাগার সঙ্গে খাপ খাবে। তাই আমাদের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ সমাজের পার্টিসিপিয়েট করার জন্য এই গানটি করেছি। গানটির মধ্যে আমরা এমনভাবে মিউজিক দেয়ার চেষ্টা করেছি যাতে কেউ বার বার শুনলেও বিরক্ত না হয়ে যায়। ২৫ নবেম্বর আমরা প্রথম গানটি ছাড়ার পর এটাতে ভাল সাড়া পেয়ে আওয়ামী লীগের জয়ের পর আবারও আমরা আরেকটি গান করি ‘জয় বাংলা, জিতল আবার নৌকা’ শিরোনামে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে জয়লাভ করার পরপরই এই গানের সঙ্গে জড়িত সকলকে গণভবনে ডাকেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা সাক্ষাত করতে যান ৪ জানুয়ারি তারিখে। এছাড়া ১৯ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশে লাখ লাখ জনতার সামনে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সামনে রেখে প্রথম কোন মঞ্চে গানটি গায় তারা। এর আগে কয়েকটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কোন মঞ্চে গানটি তারা গায়নি।

এ বিষয়ে তৌহিদ বলেন, আমরা আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে ছাড়া আর কোন স্টেজ পারফর্ম করব না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখেই তারা স্টেজ পারফর্ম করে এই গানের তখন লাখ লাখ জনতা ও তরুণ-তরুণীকে এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বসিত দেখা গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজেও হাততালির মাধ্যমে সবাইকে উচ্ছ্বসিত করেছেন।

গানটি এতটা সাড়া পাবে এমন চিন্তা ছিল কিনা?

প্রশ্নের উত্তরে তৌহিদ বলেন, আমরা আমাদের ভাললাগা থেকে গানটি করেছিলাম। তখন বুঝতে পেরেছিলাম যে কিছুটা ভাল হয়েছে গানটি। কিন্তু এমন অভাবনীয় সাড়া পাব ভাবতেই পারিনি। আমি তরুণ প্রজন্ম ও দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই যারা এই গানটির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রচারণা করেছেন। তৌহিদ আরও বলেন, তবে আমার একটা বিষয় সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে সেটা হলোÑ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া এ বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ একসঙ্গে এবার জয় বাংলা স্লোগানটি দিয়েছে এবং শুনেছে।

গানটি নিয়ে যে প্রাপ্তিটা ছিল সেটা কী পেয়েছেন?

জবাবে তৌহিদ বলেন, সারা পৃথিবী যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রোল মডেল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সেখানে তিনি নিজে এই গানটি শুনে আমাদের গণভবনে ডেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু আছে বলে মনে হয় না।

গান নিয়ে আগামীতে অন্য কোন ভাবনা আছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ বলেন, ভবিষ্যতে আরও ভাল কিছু কাজ দেশ ও জাতিকে উপহার দিতে চাই। আশা করি দেশবাসী আমার সঙ্গে থাকবেন এবং আমাকে সমর্থন দিয়ে যাবেন।

ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান তৌহিদ?

অবশ্যই অনেক সুন্দর একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই। এজন্য আমাদের অনেক ক্ষেত্রে অটোমেশন আনতে হবে। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ এমন সব ক্ষেত্রে। আমার ইচ্ছে আমার কোম্পানিতে কমপক্ষে পাঁচ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাতে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পারি।

তিনি যোগ করেন, বিভিন্ন মিনিস্ট্রি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা পুরনো পদ্ধতিতেই চলছে। আমরা এগুলিতে নতুনত্ব আনতে চাচ্ছি এবং আমার আইটি কোম্পানির মাধ্যমেও ডিজিটালাইজেশন করার চেষ্টা করব।

তাছাড়া আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও উন্নত করা দরকার কেননা আমাদের সময়ের অনেকটা বড় অংশ রাস্তায় কেটে যায়। সেক্ষেত্রে এটাকে ডিজিটালাজড করে যাতে আমদের সময় বাঁচানো যায় সে ব্যবস্থা আশা করি জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার অবশ্যই করবেন। শেখ হাসিনার সরকার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করে গড়ে তুলবে।

নির্বাচিত সংবাদ