২৫ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রচলিত প্রথা ভাঙতে চান তিনি

  • রাহুল শর্মা

ঘড়ির কাঁটা চারটা ছুঁই ছুঁই। উপজেলা এসিল্যান্ডের রুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন এক ষাটোর্ধ ব্যক্তি। কিছু বলার আগেই হাউ মাউ করে কাঁদছেন তিনি। এসিল্যান্ড তাকে সান্ত¡না দিয়ে তার সমস্যার কথা জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, কে বা কারা তার পৈত্রিক জমি অন্য কারও নামে নামজারি করেছেন। এখন তিনি চান এর বিরুদ্ধে মামলা করতে। কিন্তু সমস্য হলো সেই নামজারির নথিটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আকষ্মিক এমন সমস্যায় ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি।

শুধু এই সমস্যা নয়, জমি সংক্রান্ত নানা সমস্যায় জমিজমার নথি সংরক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন বিষয়টি অনেকটাই উপেক্ষিত ছিল ফেনী সদর উপজেলা ভূমি অফিসে। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর তার ঐকান্তিক চেষ্টায় নথি সংরক্ষণের জন্য আলাদা রেকর্ড রুম তৈরি করেছেন বিসিএস ৩৩তম ব্যাচের তারুণ্যদীপ্ত এক কর্মকর্তা। তিনি ফেনী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নুরের জামান চৌধুরী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত হাজারো সমস্যা সমাধানে নথি সংরক্ষণের বিকল্প নেই। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর আলাদা রেকর্ড রুম তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করি। এ কাজে আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন স্যার এবং জেলা প্রশাসক স্যার।’ তিনি আরও বলেনÑ ‘ভূমি অফিসগুলোর মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ খুব কম। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, খুবই পরিকল্পিতভাবে রেকর্ড রুমে ফাইলগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। যাতে সাল ও মৌজা নম্বর জানা থাকলে খুব কম সময়েই ফাইল খুঁজে বের করা যাবে। এতে সাধারণ জনগণ আরও বেশি সেবা পাবে এবং কোন রকম হয়রানির শিকার হবে না। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের মতামত নিয়ে ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত একটি সফটওয়্যার/এ্যাপস বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’

অন্যান্য উদ্যোগ : আমাদের দেশে অতি উচ্চ শিক্ষিত মানুষজনও ভূমি বিষয়ক জ্ঞানে অপরিপক্ব। এর সুযোগ নেয় কিছু মধ্যস্বত্বভোগী দালাল। আর এ ধরনের সমস্যা সমাধানে এবং সমাজে এ সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি ফেনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে ভূমি বিষয়ক প্রাথমিক জ্ঞান নিয়ে ছাত্রী ও শিক্ষকদের সঙ্গে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনার শেষে তাৎক্ষণিক কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজয়ী তিনজন ছাত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়। যা ভবিষ্যতে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আয়োজন করা হবে। এ প্রসঙ্গে মোঃ নুরের জামান চৌধুরী বলেন, ‘স্বনামধন্য একটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক একবার ভূমি বিষয়ক একটি সমস্যায় আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি ভূমি বিষয়ক কিছু জানেন না। এ ঘটনার পর থেকেই আমি সাধারণ মানুষকে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করি।’ তার প্রত্যাশা ভবিষ্যতে এ উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, এই উপজেলা ভূমি অফিসে ই-মিউটেশনের কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে থাকলে পৃথিবীর যে কোন জায়গায় বসেই এই অফিসে নামজারীর আবেদন করা সম্ভব হবে।

এছাড়াও তাঁরই উদ্যোগে উপজেলা ভূমি অফিসের সেবা প্রার্থীদের বসার ঘরে (ভূমি নীড়) অফিস সময়ের পরে ভূমি সম্পর্কিত বিভিন্ন আইন, বিধিমালা, পরিপত্র বিষয়ে ক্লাস, সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়রদের অভিজ্ঞতা শেয়ারিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের বাইরে তিনি নানা সামাজিক সেবামূলক কর্মকা-েও নিজেকে যুক্ত করেছেন। তেমনই একটি উদ্যোগ- বেদে ও হিজরা সম্প্রদায়ের লোকজনের জন্য আলাদা কররস্থানের ব্যবস্থা। এই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে এটাই প্রথম। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের পরামর্শক্রমে ফেনী শহর পাশ্ববর্তী কাজির বাগে ২৫ শতাংশ জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান আছে।