২৪ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অক্সফোর্ড স্টুডেন্ট ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের আনিশা

  • সুমন্ত গুপ্ত

বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বে যুগান্তকারী অবদানের শীর্ষ স্বীকৃতি নোবেল বিজয়ীদের ২৮ জন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এটিকে বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে মনে করা হয়। বিশ্বের অগণিত তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন থাকে, একদিন না একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখবেন। গড়ে তুলবেন তার জীবন। কিন্তু কিছু কিছু ছাত্র-ছাত্রী তাদের স্বপ্নের সীমারেখাকেও ছাড়িয়ে যান। তেমনি এক শিক্ষার্থীর গল্প শোনাব আজ। আনিশা ফারুক, ডাক নাম পদ্মা। তিনি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত। আনিশা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিষয়ে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি যে শুধু অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়েছেন তা নয়, সেখানে গিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের নাম অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ আছে, যেমনটা আমাদের দেশেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে। এই ছাত্র সংসদের পদগুলো খুবই মর্যাদাপূর্ণ কারণ, এখানে যারা নেতৃত্ব দেন তারা গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করেন। আনিশা ফারুক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেন। ছাত্রদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে, অধিকার নিয়ে সবার সামনে গিয়ে কথা বলেন। তিন দফায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত পর্বে ১৫২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আনিশা ফারুক। প্রেসিডেন্ট পদের আরেক প্রার্থী এস্পায়ার প্যানেলের এলি মিলনে-ব্রাউন অবশ্য দ্বিতীয় দফায় বাদ পড়ে যান। তবে ফাইনাল রাউন্ডে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী আইভি ম্যানিংয়ের সঙ্গে। এই প্রার্থী পান ১৪১৬ ভোট। বাংলাদেশও আনিশার এই সাফল্যে গর্বিত। তবে আনিশা ফারুক এই পর্যায়ে আকাশ থেকে এসে পড়েননি। এর আগে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মুখপাত্র পত্রিকা ‘অক্সফোর্ড স্টুডেন্ট’ এর চিফ-এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লেবার ক্লাবের কো চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এই ক্লাবের পক্ষ থেকে বিতর্ক, সোশ্যাল ক্যাম্পেইন ইত্যাদি কাজকর্ম পরিচালনার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ তিনি। নির্বাচনী অঙ্গীকারে আনিশা ফারুক সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ছাত্রছাত্রীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। বর্তমান পৃথিবী একটা বড়সড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সকলের মধ্যেই এক প্রকার বিভ্রান্তি। আমাদের সামনে লক্ষ্য কী হওয়া উচিত, কাকে অনুসরণ করা উচিত, কী আমাদের খুশি করবে- সবকিছু নিয়েই আমরা একটু বিভ্রান্ত। ফলে, যে কোন সময়ের তুলনায় এখন ডিপ্রেশন, মানসিক অসুস্থতা প্রকট হচ্ছে। বাড়ছে সুইসাইড। আনিশা কি ঠিক এই বিষয়টিই চিন্তা করে তার প্রায়োরিটি ঠিক করেছেন কি-না জানি না, তবে তার মেনিফেস্টোতে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারটি বেশ প্রাধান্য পেয়েছে। ‘মাইন্ড ইউর হেড’ নামে একটি ক্যাম্পেইনের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন যা মানসিক অসুস্থতা জয় করার জন্য কাজ করবে।

এছাড়া একটি ওয়েলফেয়ার ফান্ড গঠন নিয়ে কাজ করার কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে অক্সফোর্ডের অধীনে কলেজ এবং সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বৈষম্য কমিয়ে আনা যায়। এছাড়া প্রশাসনের সঙ্গে লবি ঠিক রেখে ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার এসেছে তার মেনিফেস্টোতে। রুম বুকিং কীভাবে সহজ করা যায়, কীভাবে স্টুডেন্ট সোসাইটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ঠিক রেখে কাজ করা যায় ইত্যাদি বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। ১৯৬১ সালে অক্সফোর্ড ছাত্র সংসদের যাত্রা শুরু হয়। বিভিন্ন সময় এই ছাত্র সংসদটি শিক্ষা এবং ছাত্রদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে। ইতিহাস সৃষ্টি করে সেই ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হলেন- বাংলাদেশের মেয়ে আনিশা ফারুক!

নির্বাচিত সংবাদ