২৫ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তীব্র বদ্ধ দন্তমজ্জার প্রদাহ

দাঁতের তীব্র ব্যথার অনুভূতি কি ধরনের যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই ভাল বলতে পারবেন। দাঁতে ক্ষয় হতে হতে যখন তা দন্তমজ্জা পর্যন্ত অগ্রসর হয় তখনই দাঁতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় যা দন্তমজ্জার প্রদাহ বা পালপাইটিস নামে পরিচিত। দন্তমজ্জার প্রদাহ যখন বদ্ধ ধরনের হয় তখন তা খুবই যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে যা একিউট ক্লোসড পালপাইটিস বা তীব্র বদ্ধ দন্তমজ্জার প্রদাহ নামে পরিচিত। তীব্র বদ্ধ দন্তমজ্জার প্রদাহ বিভিন্ন কারণে হতে পারে। কোন রোগীর দাঁতে স্থায়ী ফিলিং বিদ্যমান অনেক দিন ধরে। হঠাৎ একদিন দেখা গেল, রোগী দাঁতে তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ব্যথা রাতের বেলা তীব্র আকার ধারণ করে। রোগী সাধারণত ব্যথার যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন, এমনকি বাড়ির সবার ঘুম হারাম করে দেন ব্যথার বিচিত্র অনুভূতি প্রকাশ করার মাধ্যমে। এক্ষেত্রে ব্যথার ওষুধ কেজি হিসেবে রোগীকে সেবন করালেও ব্যথা সামান্য কমতে পারে কিন্তু সাধারণত ব্যথা সম্পূর্ণ চলে যায় না। তবে ঘুমের ওষুধ দিলে কোন কোন ক্ষেত্রে রোগী ঘুমিয়ে পড়ে কিন্তু ঘুম থেকে জাগা মাত্র রোগী আবার ব্যথার যন্ত্রণা অনুভব করতে থাকে। এ অবস্থায় বুঝতে হবে রোগী দাঁতের স্থায়ী ফিলিং ছিল ঠিকই কিন্তু স্থায়ী ফিলিংয়ের পাশে সূক্ষ্ম দন্ত ক্ষয় হয়ে দন্তমজ্জা পর্যন্ত তা প্রসারিত হয়ে ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু আক্রান্ত স্থান স্থায়ী ফিলিং দ্বারা বদ্ধ তাই ব্যথার তীব্রতা স্বাভাবিক ব্যথার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে থাকে। একিউট ক্লোসড পালপাইটিস বা তীব্র বদ্ধ দন্তমজ্জার প্রদাহ অস্থায়ী ফিলিংয়ের ক্ষেত্রেও হতে পারে।

যে সব কারণে একিউট ক্লোসড পালপাইটিস বা তীব্র বদ্ধ দন্তমজ্জার প্রদাহ হতে পারে তা নিম্নরূপ :

স্থায়ী ফিলিংয়ের পাশে পুনরায় সূক্ষ্ম দন্তক্ষয় হলে যা মার্জিনাল লিকেজ নামে পরিচিত।* অস্থায়ী ফিলিং ঠিকভাবে না করলে।* ফিলিং করার সময় দন্তক্ষয়ের আক্রান্ত স্থানে মেকানিক্যাল ট্রমা বা আঘাতের কারণে দন্তমজ্জার কোন ক্ষতি হলে।* লাইনিং প্রয়োজন হলে তা প্রদান না করে ফিলিং করলে পরবর্তীতে একিউট ক্লোসড পালপাইটিস হতে পারে।* প্রয়োজনে অস্থায়ী ফিলিং না করে সরাসরি স্থায়ী ফিলিং করলেও এমনটি হতে পারে।

চিকিৎসা : তীব্র বদ্ধ দন্তমজ্জার প্রদাহে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী ফিলিং বা অস্থায়ী ফিলিং উঠিয়ে ফেলতে হবে। ফিলিং উঠিয়ে ফেলার পর আক্রান্ত স্থান নরমাল স্যালাইন ওয়াটার দিয়ে পরিষ্কার করে সেখানে ইউজিনল ড্রেসিং প্রদান করতে হবে। এটুকু কাজ করলেই রোগীর দাঁতের ব্যথা অর্ধেক কমে যাবে। রুট ক্যানেল চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তা শুরু করতে হবে দেরি না করে। ব্যথার সময় ডাক্তার না পাওয়া গেলে রোগীকে ঘুমের ওষুধ দেয়া যেতে পারে। তবে তা খুবই সাময়িক তাই দাঁতের এ ধরনের ব্যথায় আগে থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এ কারণেই ৬ মাস পর পর বা আপনার সুবিধাজনক সময় ডেন্টাল চেক আপ করিয়ে নেয়া ভালো।

ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

মোবাইল: ০১৭৮১-৭৫২১৯৭