২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইতিহাস বিকৃতি ঘটায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বই বাজেয়াফত

  • প্রকাশের দায়িত্বে থাকা শুভঙ্কর সাহাকে আদালতে তলব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অন্তর্ভুক্ত না করে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে গ্রন্থের পুরাতন সকল সংখ্যা বাজেয়াফত করে তা বাজার থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে গ্রন্থের সম্পাদক শুভঙ্কর সাহাকে আগামী ১২ মার্চ তলব করেছে হাইকোর্ট। ওইদিন তাকে আদালতে হাজির হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস গ্রন্থের পুরাতন সংখ্যায় বঙ্গবন্ধুর ছবি না ছাপানোর ব্যাখ্যা দিতে হবে। আদালত বলেছে, উনি হাজির না হলে সংশ্লিষ্ট থানাকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বনে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন এবং তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী অর্পণ চক্রবর্তী, কামারুজ্জামান কাকন ও শুভজিৎ ব্যানার্জী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার।

শুভঙ্কর সাহা বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস বইয়ের সম্পাদনা কমিটির সম্পাদক ছিলেন। এই বইয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি না ছাপানোর বিষয়ে বলেছেন, ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি পাওয়া যায় নি। গত সোমবার অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্তকমিটি হাইকোর্টে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে তাতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অন্তর্ভুক্ত না করায় ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে। একই সঙ্গে বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গাফিলতি ও সমন্বয়হীনতা ছিল।

আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অন্তর্ভুক্ত না করে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে বইটির সম্পাদনা পরিষদের প্রধান ও সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহাকে আগামী ১২ মার্চ তলব করেছেন হাইকোর্ট। বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি কেন খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও পূর্বপাকিস্তানের সাবেক গবর্নর মোনায়েম খানের ছবি কেন সংযোজন করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে শুভঙ্কর সাহাকে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের বইয়ে ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট এক রিটের শুনানি নিয়ে গত ২ অক্টোবর ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইয়ে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তদন্ত করে অর্থ সচিবকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

বইটি নিয়ে আলোচনা সমালোচনা ওঠার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ গ্রন্থের পা-ুলিপি তৈরি ও প্রকাশনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় ২০১৩ সালের জুন মাসে। এবিষয়ে তখন উপদেষ্টা কমিটি ও সম্পাদনা নামে দুটি কমিটি গঠিত হয়। ওই কমিটি দুটি পা-ুলিপি চূড়ান্তের পর গ্রন্থটি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি প্রকাশনার পরপরই এতে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যত্যয় পরিদৃষ্ট হলে বাংলাদেশ ব্যাংক গবর্নর গ্রন্থটি বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেন এবং গ্রন্থটি রিভিউয়ের জন্য একজন ডেপুটি গবর্নরের নেতৃত্বে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করেন।

এরমধ্যে ড. কাজী এরতেজা হাসানের রিটের পর গত বছরের ২ অক্টোবর রুল জারি করে এ ঘটনা তদন্তে অর্থ সচিবকে একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এ আদেশ অনুসারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থ বিভাগ) ড. মোঃ জাফর উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের মতামত অংশে বলা হয়, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ ব্যাংকের নামকরণ করেন। গ্রন্থটির দ্বিতীয় অধ্যায়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত রয়েছে। এ কারণে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস বইয়ে অন্তর্ভুক্তি করা অত্যাবশ্যক ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বঙ্গবন্ধুর ছবি খুঁজে পাওয়া যায়নি-এ যুক্তিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি বইয়ে অন্তর্ভুক্তি না করার বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত। গ্রন্থটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অন্তর্ভুক্ত না করায় ইতিহাস বিকৃত হয়েছে মর্মে কমিটি মনে করে।