২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেড় বছর আগে অগ্নিকাণ্ড ঝুঁকির কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস

  • সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ঘটনায় তোলপাড়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় চলছে। নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। প্রায় দেড় বছর আগে ফায়ার সার্ভিসের তরফ থেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল অগ্নিকা-ের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানানো হয়। তারপরেও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়টি নতুন করে জোরেশোরেই আলোচিত হচ্ছে। ফায়ার সার্র্ভিসের তরফ থেকে রীতিমতো তদন্ত করে ঢাকার ৪৩৩টি সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে ৪২২টিই অগ্নিকা-ের ঝুঁকিতে থাকার কথা জানানো হয়। যার মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালও আছে। অগ্নিকা-ের ঝুঁকিতে থাকা হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে প্রয়োজনীয় জলাধার, ভবনের ধারণ সক্ষমতা, হিট ডিটেক্টর, জরুরী নির্গমন সিঁড়ি, লিফটসহ অন্যান্য সুবিধা নেই। যা ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত রিপোর্টের পর গড়ে তোলার কথা ছিল। কেন গড়ে ওঠেনি, সে সম্পর্কে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শেরে-বাংলানগর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। আগুনে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন লাগার ঘটনায় স্বাভাবিক কারণেই রোগী, তাদের আত্মীয়স্বজন, চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালে কর্মরত ও অবস্থানরত সবার মধ্যে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। হাসপাতালটির নতুন ভবনের তিনতলায় আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকসহ সকলে মিলে প্রায় আড়াই হাজার রোগীকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত সাড়ে নয়টায় ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৭ মে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনার পর ২০১৭ সালে ঢাকাকে চারটি অঞ্চলে বিভক্ত করে সব ধরনের স্থাপনা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়া হয় ফায়ার সার্ভিসের তরফ থেকে। ঢাকার ৪৩৩টি হাসপাতাল-ক্লিনিক চিহ্নিত করা হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, যার মধ্যে ১৭৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ আর ২৪৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মাটির নিচের জলাধারের ধারণ ক্ষমতা, অবস্থানকারীর সংখ্যা, প্রবেশদ্বারের প্রশস্থতা, স্মোক ও হিট ডিটেক্টর, মেঝের আয়তন, জরুরী নির্গমন সিঁড়ি, লিফটসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক অনেক কম। মাত্র ১১টি হাসপাতাল-ক্লিনিককে অগ্নিনিরাপদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অগ্নিকা-ের ঝুঁকিতে থাকা হাসপাতালগুলোতে দ্রুত অগ্নিঝুঁকি কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছিল। যা বাস্তবে রূপ পায়নি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে সম্প্রতি সোহরাওয়ার্দীর হাসপাতালে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ জনকণ্ঠকে বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশের হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে ৪৩৩টি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মধ্যে মাত্র ১১টি বাদে সবই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েও তিন দফায় ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কার্যত তেমন কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তদন্ত মোতাবেক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল ঝুঁকিতে রয়েছে।

তালিকায় সরকারী হাসপাতালগুলোর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত হয় তেজগাঁও থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট হাসপাতালকে। সরকারী হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বেসরকারী হাসপাতালগুলোকেও সতর্ক করা হয় তখন। কিন্তু সরকারী-বেসরকারী কোন হাসপাতালই সংস্থাটির এ সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি। সুপারিশও বাস্তবায়ন করেনি।

ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নিঝুঁকিতে থাকা বেসরকারী হাসপাতালগুলোর মধ্যে আছে শমরিতা হাসপাতাল, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার-২, ক্রিসেন্ট গ্যাস্ট্রোলিভার এ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, ধানম-ি জেনারেল এ্যান্ড কিডনি হাসপাতাল, ধানম-ি কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বিএসওএইচ হাসপাতাল, প্যানোরমা হসপিটাল লিমিটেড, ধানম-ি মেডি এইড জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেড ও মেরিস্টোপ বাংলাদেশ। অগ্নিঝুঁকির তালিকা অনুযায়ী এ্যাপোলো ও ইউনাইটেড হাসপাতালের অবস্থা সন্তোষজনক।