১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তানী ভাবধারায় বিশ্বাসীদের মূলোৎপাটন এখনও করা যায়নি

  • সংসদে আলোচনা

সংসদ রিপোর্টার ॥ রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ১৪ দলের সংসদ সদস্যরা বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাকিস্তানের ভাবধারা লালন-পালনকারী বিএনপি-জামায়াতকে পরাজিত করতে পারলেও তাদের মূলোৎপাটন করা যায়নি। এরা এখনও দেশবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র করছে। তাই একাত্তরের মতো এবারের নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তি যেভাবে একাট্টা হয়েছিল, এই ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে। সারাদেশেই ১৪ দলের মাধ্যমে দেশবিরোধী শক্তির মূলোৎপাটনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর যারা আলোচনায় অংশ নেন তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, সরকারী দলের ডাঃ ইউনুস আলী তালুকদার, ছানোয়ার হোসেন, খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম, মামুনুর রশীদ কিরন, সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বোন ডাঃ সৈয়দা জাকিয়া নূর ও জাসদের শিরীন আখতার।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ভোলায় একটি বিমানবন্দর নির্মাণের দাবি জানিয়ে বলেন, সব সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। গত ১০ বছরে দেশের যা উন্নয়ন হয়েছে তা দেখে বিশ্ব নেতারাও বলেছেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আর এ উন্নয়নে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পুরস্কারও অর্জন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের অংশীদার দেশের জনগণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণরায় দিয়েছেন। আর গত ১০ বছরে দীর্ঘদিন অবহেলিত-বঞ্চিত ভোলার চিত্রই এখন পাল্টে গেছে। সর্বত্রই এখন উন্নয়নের ছোঁয়া।

জাসদের শিরীন আখতার বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে গণমানুষের ঐতিহাসিক রায়ে প্রমাণ হয়েছে, পাকিস্তানের ভাবধারায় বিশ্বাসী বিএনপি-জামায়াতকে জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। বিএনপি নির্বাচনের নামে জনগণের সঙ্গে তামাশা করেছেন। নির্বাচনকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি বলেই প্রশ্নবিদ্ধ মনোনয়ন দিয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি যাকে মনোনয়ন দিয়েছিল, তিনি এই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাই নন। কিন্তু আমরা নির্বাচনকে যুদ্ধ হিসেবে দেখেছি এবং নিরলস প্রচার চালিয়েই আমরা সেই যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছি। সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে পাকিস্তানীপন্থীদের পরাজিত করতে পারলেও তাদের মূলোৎপাটন করতে পারিনি। তারা এখনও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাই এদের মূলোৎপাটনে ১৪ দলকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে হবে।

ডাঃ ইউনুস আলী তালুকদার বলেন, নির্বাচনে জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিএনপি-জামায়াত নানা ষড়যন্ত্র করছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর পরিবার প্রশ্নে কোন আপোস নেই। এ দুটি বিষয়ে যারা প্রশ্ন তুলবে, সম্মিলিতভাবে তাদের প্রতিহত করতে হবে।

জাতীয় সংসদে কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে লেখা তার স্বরচিত ’এগিয়ে চলো বাংলাদেশ, পাল উড়িয়ে দাও, গড়বে উন্নত দেশ এবার শেখ হাসিনার নাও’ গান পরিবেশন করে বলেন, আমি একজন শিল্পী ও জনপ্রতিনিধি। তিনি মানিকগঞ্জে মেট্রোরেল, উপ-শহর, শিল্পনগরী ঘোষণা এবং গ্যাসের দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের অর্থনীতি এখন অনেক শক্তিশালী। শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আলোকিত সমৃদ্ধির পথে। সে প্রত্যাশায় এবারের নির্বাচনে জনগণ বিপুল ভোটে এই সরকারকে বিজয়ী করেছে।

সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, এই সংসদের পবিত্র স্থানে আমার বাবা শহীদ জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং সদ্য প্রয়াত আমার ভাই সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বসে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক পরিবারেই আমার জন্ম। কি দুর্ভাগ্য, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমাদের কোন ভাল স্কুলে ভর্তি হতে দেয়া হয়নি। কিন্তু মৃত্যু আমাদের ভয় পাওয়া শেখাইনি, শিখেছি কিভাবে স্বাধীনতাবিরোধীদের পরাজিত করতে হয়। বড় ভাই সৈয়দ আশরাফের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাই।