১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উত্তরের ১৬ জেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নে সোয়া দু’কোটি টাকার প্রকল্প

  • ৪ লাখ ১৫ হাজার নতুন সংযোগ দেয়া হবে

ওয়াজেদ হীরা ॥ উত্তরের যত রাতের কালো, দূর করবে বিদ্যুতের আলো। দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর অঞ্জলের ১৬ জেলার মানুষের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুত পৌঁছে দিতে দুটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার। ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়ার যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার তারই অংশ হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আর প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এই দুই বিভাগের পিছিয়ে থাকা মানুষগুলো বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে। এতে করে জীবনমানের আর্থ সামাজিক অবস্থানের পরিবর্তন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীও ইতোমধ্যেই আশা প্রকাশ করে বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার কথা।

জানা গেছে, উত্তরাঞ্চল শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনতে যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করবে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই (নেসকো)। এই দু’টি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ২১৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে ৪ লাখ ১৫ হাজার নতুন বিদ্যুত সংযোগ প্রদান করা হবে। সরকারের তৃতীয় মেয়াদে দ্বিতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রকল্প বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিদ্যুত বিতরণ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গৃহীত দুই প্রকল্প ২০২২ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে প্রকল্প এলাকায় শতভাগ মানুষ বিদ্যুত সুবিধার আওতায় চলে আসবে। আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের প্রতিটি মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত পরিষেবা পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রংপুর বিভাগ বিদ্যুত বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং পুনর্বাসন প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ১২৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। প্রকল্পে সরকারী অর্থায়ন হবে ১০৮৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা আর বাকি ৩৫ কোটি ২৫ লাখ সংস্থার অর্থায়নে হবে। জানুয়ারি ২০১৯ থেকে জুন ২০২২ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রংপুর উপকেন্দ্রের বিদ্যুত সঞ্চালন সক্ষমতা ২২০ মেগাওয়াট বৃদ্ধি পাবে এবং রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রংপুর ও ঠাকুরগাঁও মোট আট জেলার ১ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহককে নতুন সংযোগ দেয়া হবে।

এছাড়াও, বিদ্যুত বিতরণের লক্ষে অনুমোদিত অপর প্রকল্প ‘রাজশাহী বিভাগ বিদ্যুত বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং পুনর্বাসন’ জানুয়ারি ২০১৯ থেকে জুন ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়ন হবে। এতে খরচ হবে ১ হাজার ৯১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এখানে সরকারী অর্থায়ন হবে ১০৫৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আর সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন হবে ৩৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে রাজশাহী উপকেন্দ্রের ৪৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুত সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়বে। রাজশাহীর বিভাগের এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাটের আট জেলায় ২ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ পাবে নতুন করে বিদ্যুতের সংযোগ।

বিদ্যুতের প্রকল্পগুলোর কথা উল্লেখ করে এম এ মান্নান বলেন, বিদ্যুতের যে বিশাল সম্প্রসারণ হয়েছে, এর রাজনৈতিক লাভ আমরা পাচ্ছি। নির্বাচনের সময় আমরা বিদ্যুতের বিষয়টি জনগণের সামনে বেশি উপস্থাপন করেছি। এজন্য গ্রামের মহিলারা ঝাঁকে ঝাঁকে আমাদের ভোট দিয়েছেন। আমার এলাকা হাওড় অঞ্চলে, সেখানে কীভাবে যে বিশাল বিশাল খুঁটি পুঁতেছে, এজন্য আমি গর্বিত।

এদিকে, বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। চলতি সংসদ অধিবেশনে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে দেশের ৯৩ ভাগ এলাকায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে। বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুতায়নের পরিমাণ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। আশা করছি, এই ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ এলাকা বিদ্যুতায়ন করা হবে। প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, জাতীয় গ্রিডের ৭০, ৮০ বা ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এলাকাগুলোকে অফ গ্রিড এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেসব দুর্গম এলাকায় কিভাবে বিদ্যুত পৌঁছানো যায়, সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে। স্বর্ণদ্বীপে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে ১৪ কিলোমিটার পার করে বাংলাদেশে বিদ্যুতায়ন করেছি, তাতে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুত পৌঁছে দেয়া গেছে।

এদিকে, ২০১৭-১৮ সালের এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন স্পীকারের ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে কাছে হস্তান্তর করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম। সম্প্রতি এই বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। ২০০৯ সালে দেশের বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৩ হাজার ৫শ’ মেগাওয়াট।