১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আনন্দ আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্্যাপন

আনন্দ আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্্যাপন
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিল্পালোকে আলোকিত পুরনো সেই দিনের কথা। স্বাধীন দেশে শিল্পচর্চার ভিত্তিভূমি গড়ার প্রয়াস নিলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠা করলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সময়ের ¯্রােতধারায় শিল্পচর্চার দিগন্ত মেলে ধরা প্রতিষ্ঠানটি পদার্পণ করল প্রতিষ্ঠার পঁয়তাল্লিশতম বছরে। গৌরবময় সেই ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্্যাপিত হলো আনন্দ আয়োজনে। জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারিতে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনী। সেখানে ঠাঁই পেয়েছে রং-তুলির শিল্পিত আঁচড়মাখা ক্যানভাস থেকে শুরু করে নানা বাদ্যযন্ত্রসহ একাডেমির কর্মকা-ভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্র। ছিল মনমাতানো নৃত্য-গীতে সজ্জিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বক্তার কথনে উঠে এসেছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে শিল্পচর্চা ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে নেয়া প্রতিষ্ঠানটির প্রয়াস। এভাবেই মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত অবধি বহুমাত্রিক আয়োজনে মুখরিত হলো সেগুন বাগিচার শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ।

বেলা ৩টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রকলার এক নং গ্যালালিতে প্রদর্শনী উদ্বোধনীর মাধ্যমে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকীসহ শিল্পী ও একাডেমি কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী। এরপর বিকেলে জাতীয় নাট্যশালার লবিতে ভেসেছে সুরের মূর্ছনা। পরিবেশিত হয়েছে একাডেমির যন্ত্রশিল্পীদের পিয়ানো ও মিউজিক্যাল অর্কেস্ট্রার হৃদয়গ্রাহী শব্দধ্বনি। এরপর ছিল আলোচনাপর্ব। এ পর্বের শুরুতে একাডেমির কার্যক্রমের তথ্যচিত্র পরিবেশিত হয়। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির সচিব ড. কাজী আসাদুজ্জামান। আলোচনায় বক্তারা বলেন, জাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারের মাধ্যমে সকল মানুষের জন্য শিল্প সংস্কৃতির প্রবাহ তৈরি করে শিল্প-সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে শিল্পকলা একাডেমি। জাতীয় সংস্কৃতির গৌরবময় বিকাশকে অব্যাহত রাখতে শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলার চর্চা ও বিকাশের উদ্দেশে ১৯৭৪ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিল্পকলা একাডেমির এ্যাক্রোবেটিক দল পরিবেশন করে এ্যাক্রোবেটিক ক্যাপ ড্যান্স, চয়েন থিয়ান, রিং ড্যান্স, সাউদিয়াও, ল্যাডার ব্যালান্স, এরিয়েল, পাইপ ব্যালান্স ও হাই সাইকেল। শিশু শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করে ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর’। ‘ও আলোর পথযাত্রী’ শিরোনামের সঙ্গীত পরিবেশন করেন একাডেমির শিল্পীবৃন্দ। ‘আকাশ ভরা সূর্যতারা’ গানের সুরে পরিবেশিত হয় সমবেত নৃত্য। ছিল শেকড়সন্ধানী ধামাইল নাচের উপস্থাপনা। ‘আমার ঘর খানায় কে’ শীর্ষক বাউলসঙ্গীত পরিবেশন করে একাডেমির শিল্পীবৃন্দ। এছাড়াও এম আর ওয়াসেকের পরিচালনায় ‘একুশে একুশে’ ও ‘চলো যাই এগিয়ে’ গানের তালে পরিবেশিত হয় বৃন্দ নাচ। অনিক বোসের পরিচালনায় শাস্ত্রীয় নৃত্যের সঙ্গে ‘বসন্ত বাতাসে সইগো’ গানের সুরে নাচ করে শিল্পীরা। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন তামান্না তিথি।