১৯ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনায় শেষ হলো বিশ্ব এজতেমা

মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনায় শেষ হলো বিশ্ব এজতেমা

মোস্তাফিজুর রহমান টিটু ও নূরুল ইসলাম টঙ্গী থেকে ॥ টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি লাভের আশায় মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে অশ্রুসিক্ত নয়নে দুই হাত তুলে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের আমিন, আল্লাহুমা আমিন, সুম্মা আমিন ধ্বনিতে মুখরিত আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এবারের ৫৪তম বিশ্ব এজতেমা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। মোনাজাতে লাখ লাখ মুসল্লি নিজের কৃতকর্মের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং কেঁদে বুক ভাসান। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কামনা করা হয়। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, অগ্রগতি, ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মুক্তি এবং দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার তৌফিক কামনা করা হয়। আগামী বছর (২০২০ সাল) ৩, ৪ ও ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে মাওলানা সা’দ পন্থীদের বিশ^ এজতেমা। বিশ্ব এজতেমার মূল নজমের জামাতের সদস্য মোঃ হারুন-অর-রশিদ প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ওই তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এবারের বিশ্ব এজতেমার দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশ্ব তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি দিল্লীর হজরত মাওলানা সা’দ আহমেদের অনুসারীদের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এজতেমায় আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন সা’দ অনুসারী দিল্লীর মাওলানা শামীম। প্রায় ১৭ মিনিট স্থায়ী এ মোনাজাত মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে শুরু হয় এবং তা চলে ১২টা ০২ মিনিট পর্যন্ত। তাৎপর্যপূর্ণ এই আখেরী মোনাজাতে জীবনের সব পাপ-তাপ থেকে মুক্তি, আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করা হয়। এ সময় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়াদ জানান লাখ লাখ মুসল্লি। আল্লাহর দরবারে আকুতি মিনতি করে চোঁখের পানিতে বুক ভাসান ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনিতে মধ্যাহ্নের আকাশ-বাতাস মুখরিত করে মহান ও দয়াময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখ লাখ মুসল্লি আকুতি জানান।

মঙ্গলবার আখেরী মোনাজাতে শরিক হতে সূর্য উদোয়ের পূর্ব থেকেই শুরু হয় এজতেমামুখী ধনী-দরিদ্র, যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের ঢল। যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় গাড়ি না পেয়ে পায়ে হেঁটে মুসল্লিরা ধাবিত হয় এজতেমা ময়দানে। আখেরী মোনাজাতের আগেই এজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অগণিত মুসল্লি এজতেমা এলাকার বিভিন্ন সড়ক, অলি-গলি, মিল কারখানা ও বাসা-বাড়ির ছাদে এবং নৌকাসহ বিভিন্ন যানবাহনে বসে মোনাজাতে অংশ নেন। অনেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মোনাজাতে শরিক হন। এতে পুরো এলাকায় এক ধর্মীয় আবহ বিরাজ করছিল।

এদিকে সোমবার আখেরী মোনাজাতের পূর্বে এজতেমা ময়দানের মিডিয়া সেন্টারে স্থানীয় সংসদ সদস্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল সাংবাদিকদের জানান, আগামী বিশ্ব এজতেমা দু’পক্ষকে নিয়ে একসঙ্গে একটানা অনুষ্ঠানের চেষ্টা চালানো হবে। দু’পক্ষ আন্তরিক হলে সব কিছুই সম্ভব।

সা’দ পন্থীদের ২০২০ সালের বিশ্ব এজতেমা ॥ মাওলানা সা’দ পন্থীদের আয়োজনে টঙ্গীর এজতেমা ময়দানে আগামী বছরের (২০২০ সালের) ৩, ৪ ও ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব এজতেমা। বিশ্ব এজতেমার মূল নজমের জামাতের সদস্য মোঃ হারুন-অর-রশিদ প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ওই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও চলতি বছরের ২২ হতে ২৬ নবেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী মাওলানা সা’দ অনুসারীদের জোড় এজতেমা অনুষ্ঠিত হবে টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমা ময়দানে।

শেষ দিনে বয়ানকারী ॥ মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাদ ফজর উর্দুতে বয়ান করেন দিল্লীর হাফেজ ইকবাল নায়ার। পরে বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতি ওসামা বিন ওয়াসিফ।

হেদায়তি বয়ানে যা বলেন ॥ হেদায়তি বয়ানে মাওলানা শামীম মুসলিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আল্লাহর জন্য দৈনিক ৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হবে এবং মসজিদে কমপক্ষে ২০ জনকে দ্বীনের দাওয়া দিতে হবে। পরামর্শ করে কাজ করলে তা সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়। সকল কাজই পরামর্শ করে করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আখেরী মোনাজাতে মহিলাদের অংশগ্রহণ ॥ তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত ৫৪তম বিশ্ব এজতেমায় আখেরী মোনাজাতে শতশত মহিলা মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতশত মহিলা মুসল্লি এজতেমা ময়দানের আশপাশে, কল-কারখানা ও বাসা-বাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আখেরী মোনাজাতে অংশ নেন।

বিদেশী মেহমান ॥ মাওলানা সা’দ পন্থী মাওলানা মোঃ আশরাফ আলী জানান, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন,অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ প্রায় ৩৬টি ভিনদেশের তবলীগ জামাতের সহস্র্রাধিক বিদেশী মেহমান এবারের এজতেমায় অংশগ্রহণ করেন।

মোনাজাত শেষে যানজট ॥ মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়া মানুষ একযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরার চেষ্টা করেন। এতে টঙ্গীর আশপাশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় জনজট ও যানজট। ফলে আবারও পায়ে হেটে রওনা দেয় মুসল্লিরা।