১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উপজেলা নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে ॥ সিইসি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী ১০ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে এই নির্বাচনে যাতে কোন ধরনের প্রাণহানি না ঘটে। এ দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সারাজীবন যে রকম প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে এ বছরও তেমনিভাবে প্রতিযোগিতামূলক হবে, অংশগ্রহণমূলক হবে, সেরকম গুরুত্ব বহন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরূল হুদা।

মঙ্গলবার উপজেলা ভোটের তৃতীয় ধাপের রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ে ব্রিফিংকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। সিইসি বলেন, বিগত দিনে অনেক সময় নির্বাচন পরিচালনা করতে গিয়ে জীবন হানি ঘটেছে। অনেকে আহত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে এসব বিষয়টি মাথায় রেখেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নূরুল হুদা বলেন, যারা কাজ করেন তাদের প্রতি তিনি সব সময় আস্থাশীল। কাজ করতে গিয়ে হয়ত ভুলভ্রান্তি হতে পারে অনাকাক্সিক্ষতভাবে। অনেকেই স্পর্শকাতর নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন। তাদের হাতে নির্বাচন কখনও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না।

সিইসি আরও বলেন, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। জাতীয় নির্বাচন এবং স্থানীয় নির্বাচনের মধ্যে পার্থক্য আছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবারই প্রথম রাজনৈতিক মনোনয়নে হবার কথা। এর আগে কখনও হয়নি। কিন্তু সেসব নির্বাচন কি প্রতিযোগিতামূলক হয়নি? কেউ কাউকে ছাড় দেয় না। প্রত্যেকেই সেখানে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান নেন। প্রত্যেক প্রার্থী, সমর্থক এবং ভোটাররা কিন্তু সে নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেন, ওই নির্বাচনে ইসি সকল প্রচেষ্টা এবং প্রয়াস সার্থক হয়েছে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনে আপনারা দেখেছেন ভোটার সারিবদ্ধভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে, আনন্দঘন পরিবেশে, নির্বাচন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার জন্য উপস্থিত থাকেন। এটা আমাদের এ সকল দেশের একটা বৈশিষ্ট্য। সেই নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব আপনাদের হাতে। সেই দিক দিয়ে কিন্তু আপনাদের আলাদাভাবে আনন্দ এবং গুরুত্ব বহন করার কথা।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ইসি মাহবুব তালুকদার বলেন, উপজেলা নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় জৌলুশ হারাতে বসেছে। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না। নির্বাচন সার্বিকভাবে অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না, এই সত্যকে মেনে নিয়েই নির্বাচন করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য শব্দ দুটির ঔজ্জ্বল্য থাকে না। তারপরও আনুষ্ঠানিকতার কারণেই নির্বাচন করে যেতে হয়। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, নির্বাচনের মৌলিক কাঠামো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন আইনানুগ হতে হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের দায়িত্ব পালনে কোন শিথিলতা সহ্য করা হবে না। প্রশ্নবিদ্ধ কোন নির্বাচন করতে চাই না। নির্বাচনে নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।