২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আতিকুল ইসলামকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান ব্যবসায়ীদের

  • ডিএনসিসি নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে সকল কর্মব্যস্ততা ছেড়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলামকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) বাংলাদেশ আয়োজিত আগামী প্রজন্মের স্বপ্নের ঢাকা শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএসহ সকল ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের নেতৃবৃন্দ আতিকুল ইসলামকে তাদের সমর্থনের ঘোষণা দেন। এ সময় জেসিআই বাংলাদেশের সদস্য, এফবিসিসিআই-এর সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ-এর সভাপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি, বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাসির, বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অব জেসিআই ইরফান ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট শারা কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় এফবিসিসিআই-এর সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, আমাদের পোশাক শিল্পের দুটি নক্ষত্র হলো সালাম মুর্শেদী ও আতিকুল ইসলাম। বিজিএমইএতে দেখেছি তারা সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নজরে বিষয়টি এসেছে। আতিকুল ইসলাম নগর পিতা হবেন না, তিনি হবেন ঢাকা উত্তরের সেবক। যতই কর্মব্যস্ততা থাকুক না কেন ২৮ ফেব্রুয়ারি সবাই ভোট দিয়ে আতিকুল ইসলামকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন। বিজিএমইএ-এর সভাপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভোটকেন্দ্রে না গেলে কোন লাভ হবে না। পরিবার-পরিজন নিয়ে আতিকুল ইসলামকে ভোট দিতে হবে।

বিজিএমইএ- এর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি বলেন, ‘দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ব্যবসায়ীরাই।

তাই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পেয়েছেন ব্যবসায়ী মহলের মানুষরাই। উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিয়ে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক যে স্বপ্ন দেখেছেন তা বাস্তবায়ন যাতে হয় সেজন্য আতিকুল ইসলামকে ভোট দিতে হবে। আমাদেরকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলে নাগরিকদের সেবা দিতে ও সমস্যা সমাধান করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্ট ঢাকা গড়া ও সিটি কর্পোরেশনকে জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। একই সঙ্গে নাগরিকগণই মেয়রের ভূমিকা পালন করবেন। যখন সমস্যা তখনই সমাধানের মাধ্যমে নাগরিক সেবা বাড়াতেই এমন উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে জানান তিনি। আতিকুল ইসলাম বলেন, যেখানে সমস্যা চিহ্নিত এবং সমাধান হবে এ্যাপের মাধ্যমে। আপনারাই নাগরিকরা মেয়রের ভূমিকা পালন করবেন। মেয়র নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। ‘স্মার্ট ঢাকা’ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু এটা আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ সেহেতু জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট, ম্যারেজ সার্টিফিকেট, ডেথ সার্টিফিকেট নিতে কাউকে আর নগর ভবনে যেতে হবে না। সব সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইনে ঘরে বসেই যেন আপনি পান তার ব্যবস্থা করব। যেখানে ময়লা, আবর্জনা, ম্যানহোলের ঢাকনা নেই সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলে নগর এ্যাপে দেবেন। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বরত কর্মকর্তা তা সমাধানে পদক্ষেপ নেবে। সেই সমস্যা যদি সংশ্লিষ্টরা সমাধান না করেন সঙ্গে সঙ্গে মেয়রের কাছে এই বিষয় নোটিফিকেশন-ঘণ্টা বেজে উঠবে। সঙ্গে সঙ্গে মেয়র সেসব কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসবেন। সেই এ্যাপের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা এ্যাপসটি উন্নয়নের কাজ করছেন। সব মিলিয়ে আমি নির্বাচিত হলে সিটি কর্পোরেশনকে একটি জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলব।

আওয়ামী লীগের মনোনীত এ মেয়র প্রার্থী বলেন, আজ ঢাকা তার বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। বিএনপির সময় মোবাইল ফোনের দাম ছিল এক লাখ টাকা। এখন তা হয়েছে সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা। সবার হাতে হাতে ফোন। নগর এ্যাপ তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোন সমস্যা হলে ছবি তুলে নগর এ্যাপে আপলোড করে দিন। তাহলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান করা হবে। জবাবদিহিতা শক্ত করা হবে। জবাবদিহিতা না থাকলে সুশাসন করা সম্ভব হবে না। নগর এ্যাপের মাধ্যমেই নগরীর সমস্যার সমাধান হবে তবে এ শহরের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে একে বসবাস উপযোগী করে তোলা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। নাগরিকদের সামান্য সচেতনতা এবং সহযোগিতাই পারে ‘সবাই মিলে সবার ঢাকা’ গড়ে তুলতে।