১৯ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইয়াবা গডফাদার মোস্তাকের সাম্রাজ্য এখনও অক্ষত

  • আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়া!

এইচএম এরশাদ, কক্সবাজার ॥ রামু এলাকার এক সময়ের মুরগি বেপারি ইয়াবা পাচারের ঘটনায় ১৩টি মামলা মাথায় নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ইয়াবা গডফাদার মোস্তাক আহমদ। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেকটা চ্যালেঞ্জ করে এই কারবারি তার মাদক বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। সে আত্মসমর্পণ করেনি, ভয়ও পাচ্ছে না কাউকে। জানা যায়, রামু খুনিয়াপালং ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমদ মুরগির খাঁচার ভেতরে ইয়াবা পাচার করে করে এখন হয়েছেন কোটিপতি। বিপুল টাকা খরচ করে তিনি বর্তমানে ইউপি সদস্য। একের পর এক ইয়াবা মামলার আসামি হয়েও রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রকাশ্যেই রাজনীতি, সভা সমাবেশে অংশগ্রহণ ও আড্ডা দিচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এখনও প্রতি সপ্তাহে ঢাকায় ইয়াবা পাচার করছে বলে জানা গেছে। ভয়ঙ্কর ইয়াবা গডফাদার মোস্তাকের সা¤্রাজ্য এখনও অক্ষত রয়ে গেছে। কক্সবাজার ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তত ডজনাধিক মামলা। ২০১৮ সালের ৮ ও ১৩ অক্টোবর দুই দফায় ঢাকায় র‌্যাব ও পুলিশের হাতে মোস্তাকের সহযোগীরা ইয়াবাসহ আটক হলেও পালিয়ে গেছে গডফাদার মোস্তাক। এ ঘটনায়ও মোস্তাকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে ঢাকায় দায়ের হওয়া দুইটি ইয়াবা মামলার আসামি হয়েও কক্সবাজারে প্রকাশ্যেই আছেন মোস্তাক। মাঝে মাঝে আত্মগোপনে গেলেও এখন প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে ইয়াবা চালান নিয়ন্ত্রণ করছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের হাতে ১০২ ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানেও মোস্তাক, জাফর চেয়ারম্যান, মৌলবি আজিজ উদ্দিন ও মৌলবি রফিক উদ্দিনসহ অনেকে অথিতি ও দর্শকের সারিতে উপস্থিত ছিলেন।

তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা কারবারি এই মোস্তাক কক্সবাজারের রামু খুনিয়াপালং ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার। অভাবের তাড়নায় মোস্তাক আনসার সদস্য হিসেবে চাকরি শুরু করলেও অল্প টাকায় সন্তুষ্ট হতে না পেরে চাকরি ছেড়ে করে শুরু করেন মিয়ানমারের চোরাই পণ্যের ব্যবসা। সেখানেও তার ভাগ্য খুলেনি। পরে শুরু করে মুরগি বিকিকিনি ব্যবসা। এক সময় জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা পাচার কাজে। বর্তমানে মোস্তাক কোটি কোটি টাকার মালিক। গড়ে তুলেছে বিত্তবৈভব, গাড়ি, বাড়ি, ফিশিং বোটসহ আরও অঢেল সম্পদ রয়েছে তার। তালিকাভুক্ত ইয়াবা চোরাকারবারি মোস্তাক আহমদ ওরফে ইয়াবা মোস্তাক পূর্ব গোয়ালিয়াপালং এলাকার আশরাফ মিয়ার পুত্র। তার বাবা আশরাফ মিয়া পেশায় কাঠুরিয়া। কয়েক বছর আগেও খেয়ে না খেয়ে জীবন গেছে তাদের। কিন্তু এখন ইয়াবার কল্যাণে কাঠুরিয়া বাবার সংসারকে কোটিপতির কাতারে নিয়ে গেছে মোস্তাক। তার সহোদর মানব পাচারকারী মনসুরের হাত ধরে মিয়ানমারের চোরাই পণ্যের ব্যবসা শুরু করে মোস্তাক। শুরু থেকেই মিয়ানমার সীমান্ত থেকে চোরাই পথে কাপড়, আচার, বিয়ার, মদসহ নানা পণ্য নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা পাচারে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার পেছনে থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানান, মোস্তাকের বড় ভাই মনসুর গ্রামে গ্রামে ঘুরে মুরগি সংগ্রহের ব্যবসাও করতেন। ভাইয়ের সঙ্গে মুরগি সংগ্রহের আড়ালে মোস্তাক খুচরা ইয়াবা বিক্রি করেছিল। পরে ইয়াবা চালান পাঠাতেন চট্টগ্রাম ও ঢাকায়। ইয়াবা জগতে মোস্তাক পা দেন হ্নীলার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদের (বন্দুকযুদ্ধে নিহত) হাত ধরে। মোস্তাক ছিলেন নুর মোহাম্মদের অন্যতম সহযোগী। তবে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নুর মোহাম্মদ নিহত হওয়ার পর ওই সিন্ডিকেট ছেড়ে নিজেই একটি ইয়াবা পাচার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে মোস্তাক। সিন্ডিকেটে মোস্তাকের অন্যতম সদস্য হিসেবে সম্পৃক্ত করে তার বড় ভাই মনসুর, ঈদগড় ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধির ভাই হাফেজ শহিদুল ইসলাম, খুনিয়াপালং ইউপি সদস্য আবু তাহের টুলু, আরমান, আবদুল গণি, সাইফুল ও মিজানসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে। এদের মধ্যে ইয়াবা নিয়ে অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে। সেই সময় প্রমাণ মেলে ওই ইয়াবাগুলো ছিল মূলত মোস্তাকের। মোস্তাক সিন্ডিকেটের অনেকে গ্রেফতার হলে, সিন্ডিকেট শক্তিশালী করতে যোগ দেয় সিএনজি জাফর, মিজান, সাইফুলসহ কয়েকজনকে। তার ইয়াবা বহনকারী হিসেবে ছিল খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব গোয়ালিয়া পাহাড় পাড়ার আবদুল গণি। তার বাবাও একজন পেশায় চিহ্নিত ডাকাত।