২১ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভিএআর বিতর্কের পর অ্যাতলেতিকো-ম্যানসিটির জয়

ভিএআর বিতর্কের পর অ্যাতলেতিকো-ম্যানসিটির জয়

অনলাইন ডেস্ক ॥ চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। বুধবার প্রথম লেগের দুটি ম্যাচেই এনিয়ে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। এই প্রযুক্তির বিতর্ক নিয়েই অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ ২-০ গোলে ওয়ান্দা মেত্রোপোলিতানোয় হারিয়েছে জুভেন্টাসকে। আর শ্যালকের মাঠে ৩-২ গোলে জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি।

নতুন ক্লাব জুভেন্টাসের হয়ে মাদ্রিদে ফেরেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ডকে পুরোনো রূপে পাওয়া যায়নি। নতুন দলের হয়ে তার ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নে বড় ধাক্কা দিয়েছে অ্যাতলেতিকো।

মাদ্রিদ থেকে গোলশূন্য ড্র নিয়ে ঘরে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল জুভেন্টাস। দুই দলের দৃঢ় রক্ষণভাগ কাটাতে পারছিল না কেউ। কিন্তু খেলার শেষ দিকে হোসে গিমেনেস ও ডিয়েগো গোদিনের গোল সিরি ‘এ’ ক্লাবকে হতাশায় ডোবায়।

সপ্তম মিনিটে রোনালদোর দুর্দান্ত ফ্রি কিক মাঠের বাইরে পাঠিয়ে অ্যাতলেতিকোকে বাঁচান গোলরক্ষক জ্যান ওবলাক। পরের মিনিটে দুঃসংবাদ শুনতে হয় স্বাগতিকদের। ৮ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখায় ডিয়েগো কস্তা খেলতে পারবেন না ফিরতি লেগে।

ম্যাচের আধঘণ্টা না যেতেই ভিএআর বিতর্কের শিকার হয় মাদ্রিদ ক্লাব। ২৮ মিনিটে মাত্তিয়া ডি সিগলিওর ধাক্কায় কস্তা পড়ে গেলে তারা পেনাল্টি পাবে ভেবেছিল। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেফারি সিদ্ধান্ত পাল্টে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি কিকের সিদ্ধান্ত দেন।

জুভ গোলরক্ষক উজচেখ শেসনিকে পরীক্ষা দিতে হয় প্রথমার্ধে। আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের শক্তিশালী শট ঠেকান তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল পেতে পারতো মাদ্রিদ ক্লাব। ৪৯ মিনিটে কস্তার শটটি গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। কয়েক মুহূর্ত পর শেসনি দারুণ সেভে গ্রিয়েজমানকে ব্যর্থ করেন।

৫৮ মিনিটে কস্তার বদলি হয়ে মাঠে নামেন আলভারো মোরাতা। তার ৭১ মিনিটের গোল বাতিল হওয়ার ঘটনাই ছিল দিনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। জর্জিও কিয়েল্লিনিকে টপকে শেসনিকে পরাস্ত করে সাবে ক্লাবের জালে বল জড়ান তিনি। কিন্তু ভিএআরে রেফারি সিদ্ধান্ত পাল্টে দেন। প্রযুক্তির স্ক্রিনে কিয়েল্লিনির কাঁধে হালকা ভর দিয়ে উঁচুতে লাফিয়ে লক্ষ্যভেদী হেড করতে দেখা গেছে মোরাতাকে। ইতালিয়ান ডিফেন্ডারের মুখের অভিব্যক্তি দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত নেন, বেশ ভালো ভর দিয়েছিলেন স্প্যানিশ ফুটবলার।

অবশ্য ৭ মিনিট পরই গোল উচ্ছ্বাসে মাতে অ্যাতলেতিকো। জুভেন্টাস কর্নার বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে গিমেনেস খোলেন গোলমুখ। ৮৩ মিনিটে মাদ্রিদ ক্লাব আরও শক্ত অবস্থানে জায়গা করে নেয়। সিরি ‘এ’ ক্লাব একটি ফ্রি কিক রুখতে পারেনি, রোনালদোর গায়ে লেগে ফিরে এলে গোদিন লক্ষ্যভেদ করেন দুরন্ত শটে।

শ্যালকের মাঠে হারের শঙ্কায় পড়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। শেষ দিকে লেরয় সানে ও রহিম স্টারলিংয়ের গোলে জয় ছিনিয়ে আনে তারা। ৩৮ ও ৪৫ মিনিটে নাবিল বেনতালেবের পেনাল্টি গোলে শ্যালকে এগিয়ে যায়। ৮৬ মিনিটে সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গোল করে সমতা ফেরান সানে। আর স্টারলিংয়ের ৯০ মিনিটের গোল জয় নিশ্চিত করে সিটিজেনদের।

সের্হিও আগুয়েরো ১৮ মিনিটে ম্যানসিটিকে এগিয়ে দেন। এরপর প্রথমার্ধেই পেনাল্টি থেকে দুটি গোল হজমের ধাক্কা লাগে।

স্বাগতিকরা প্রথম পেনাল্টি পায় ভিএআর বিতর্ক তৈরি করে। দানিয়েল কালিগুইরিসের শট নিকোলাস ওতামেন্দির ডান হাতে লাগলে রেফারি কার্লোস দেল কেরো গ্রান্দে প্রথমে কর্নারের সিদ্ধান্ত দেন। কিন্তু ভিএআর রিভিউ নিতেই সেটা পাল্টে যায়। সিদ্ধান্ত নিতে প্রায় ৩ মিনিট লেগেছে।

ওতামেন্দির জন্য রাতটা ভালো ছিল না। ৬৮ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। শেষ ২২ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলে ম্যানসিটিকে বেশ কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে, দেখা পেয়েছে সাফল্যেরও।