২৫ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা মহানগরীর ৯৮ ভাগ হাসপাতাল ও ক্লিনিক অগ্নিঝুঁকিতে

  • এ তথ্য ফায়ার সার্ভিসের জরিপ রিপোর্টের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা মহানগরীর ৯৮ ভাগ হাসপাতাল ও ক্লিনিক অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। সংস্থার এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এসব হাসপাতাল বা ক্লিনিকে আগুন লাগলে ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল বা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষেরই কোন প্রকার প্রশিক্ষণ নেই। তাই অগ্নিনির্বাপণে ব্যবহৃত সকল প্রকার সরঞ্জাম সঠিক নিয়মে পরিচালনের কৌশল জানতে সরকারের কাছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে ও হাসপাতাল এলাকায় বিশেষায়িত ফায়ার স্টেশন চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন হাসপাতালের মালিক ও পরিচালকরা। বুধবার রাজধানীর কাজী আলাউদ্দীন রোডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাসপাতালসমূহের মালিক, পরিচালক ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি জানানো হয়। হাসপাতালসমূহের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করণীয় শীর্ষক সভায় রাজধানী ও এর আশপাশের প্রায় ৪ শতাধিক মালিক ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, পিএসসি (অব), পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যুগ্মসচিব হাবিবুর রহমান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সভায় পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে কি-নোট উপস্থাপন করেন। তিনি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।

সভায় সংস্থার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার আলী আহমেদ খান (অব) বলেন, মূলত হাসপাতালে আগুনের ৭০ শতাংশই লেগে থাকে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে। অধিকাংশ সরকারী হাসপাতালের ভবনগুলোই অনেক পুরনো। ওসব ভবনের বৈদ্যুতিক লাইনগুলোও পুরনো। এ জন্য বিদ্যুতের ভল্টেজ সামান্য ওঠানামা করলেও অগ্নিকা-ের সূত্রপাত হয়ে যায়। হাসপাতালগুলোর অগ্নিঝুঁকি কমাতে সর্বপ্রথম পুরনো বৈদ্যুতিক লাইনগুলো পরিবর্তন করা দরকার। এরপর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালেই র‌্যাম্প ও স্পোম ডিটেক্টর স্থাপনের কথা বলেন তিনি।

ব্রিগেডিয়ার আলী আহমেদ বলেন, হাসপাতালগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা একটি স্পর্শকাতর ও উদ্বেগজনক বিষয়। স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে হাসপাতালের দুর্ঘটনায় জীবনহানির আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। কারণ একটি হাসপাতালে যারা অবস্থান করেন তাদের বেশির ভাগই থাকেন রোগী, যাদের পক্ষে অন্যের সাহায্য ছাড়া দুর্ঘটনার সময় বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য পূর্ব প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই। তিনি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের অগ্নিদুর্ঘটনার সম্পর্কে বলেন, ২০১৮ সালের অক্টোবরে আমরা সেখানে একটি মহড়া করেছিলাম। আমরা মনে করি, সেই মহড়ার সুফল হিসেবে সেখানে জীবনহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে আমাদের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করা হলে হয়তো অগ্নিদুর্ঘটনায় সম্পদের ক্ষতিও সহনীয় পর্যায়ে থাকত।

মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের নানা দিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যত নির্দেশনা ও এক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা চেয়ে হাসপাতালের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। এ্যাপোলো হাসপাতালের ফায়ার সেফটি ম্যানেজার ছামেদুল হুদা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এক্সটিংগুইশারের রিফিলের মেয়াদ এক বছরের জায়গায় দুই বছর করা যায় কি না, তা বিবেচনায় নেয়ার জন্য দাবি জানান। তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে ৬শ’ এক্সটিংগুইশার রয়েছে। এগুলোর গায়ে এক বছরের মেয়াদ দেয়া থাকে। কিন্তু দেড় বছর পরেও এগুলো ব্যবহার করে একই ধরনের কার্যকারিতা পাওয়া যায়। এ জন্য এর মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করা যায় কি না, সে বিষয়টি বিবেচনার দাবিও জানান তিনি।