২৩ জুলাই ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশগামী ও ফেরত কর্মীদের হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে

ফিরোজ মান্না ॥ বিমানবন্দরে কর্মীদের হয়রানি বন্ধ করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিমানবন্দরে স্থাপিত হেল্প ডেস্কগুলোর সাইনবোর্ড বাংলা ও ইংরেজী উভয় ভাষায় লেখা হয়েছে। দুই ডেস্ক থেকেই কর্মীদের সহযোগিতা দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এদিকে গত বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আকস্মিক পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি বিদেশগামী ও বিদেশ ফেরত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবুধাবি থেকে ফেরার পর আকস্মিকভাবে বিমানবন্দরে সকল যাত্রী কাউন্টার, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, ইমিগ্রেশন কাউন্টার পরিদর্শন করেন। তিনি যাত্রী ও কর্তব্যরত পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেন। এ তথ্য জানিয়েছেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন কর্মী যাতে হয়রানির শিকার না হন তার জন্য যা কিছু করণীয় তাই করা হবে। কোন অনিয়ম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী আর ব্যবসায়ী কারও কোন অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিমানবন্দর পরিদর্শনকালে তিনি ইমিগ্রেশনে মেয়েদের ও ভিজিট ভিসায় গমনকারীদের জন্য আলাদা কিউ বা লাইন তৈরি করার নির্দেশ দেন। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কটি স্থানান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে বিএমইটি থেকে দেয়া স্মার্ট কার্ড কার্যক্রম সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন এবং প্রতিদিন কতজনকে সেবা প্রদান করা হয় তারও একটি তালিকা নিয়েছেন।

ইমরান আহমেদ বলেন, বিদেশে আমাদের মানুষগুলো অমানবিক পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেন। তাদের সুরক্ষা দেয়া আমাদের প্রধান দায়িত্ব। তাদের বিষয়ে কোন প্রকার অবহেলা যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে কর্মীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। কোন কর্মী যাতে হয়রানির শিকার না হন তার জন্য যা কিছু করণীয় তাই করতে হবে। কর্মীরা যাতে কোনভাবেই কোন পক্ষের মাধ্যমে হয়রানির শিকার না হন সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো হবে। এটা আমি বাইরে থেকেই শুনেছি-উচ্চ ব্যয়ে কর্মীদের বিদেশ যেতে হয়। স্বল্প খরচে যদি একজন কর্মী বিদেশ যেতে পারেন, তাহলে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভাল একটা টাকা জমাতে পারেন। বেশি খরচ দিয়ে বিদেশ গিয়ে কর্মীদের কোন লাভ হয় না।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ‘দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ করা হচ্ছে। দক্ষতা উন্নয়নে কয়েকটি মন্ত্রণালয় জড়িত, তারা যাতে সবাই ‘ইফেক্টিভ’ পন্থায় কাজ করতে পারে, সেজন্য জাতীয় একটি সংস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। উন্নত বিশ্বে কর্মী পাঠাতে প্রথম কাজই হলো দক্ষতা উন্নয়ন। কর্মীদের ভাল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এটা করা সম্ভব হবে। তারা যদি দক্ষ হন তাহলে বিদেশে বেতনও বেশি পাবেন। একজন কর্মী যে দেশে যাবেন ওই দেশের ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে কাজেও তিনি ভাল করতে পারবেন। এজন্য ভাষার বিষয়ে মন্ত্রণালয় জোর দিয়েছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভাষা শিক্ষাও চলবে। ভাষা শিক্ষা থাকলে এই সেক্টরে শোষণের মাত্রা অনেক কমে যাবে। তখন নিজেই বুঝতে পারবেন তাকে ঠকানো হচ্ছে কিনা। দালাল চক্রও তাদের নিয়ে কোন কিছু করতে পারবে না।

নির্বাচিত সংবাদ