২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার শঙ্কায় ১৭২ কৃষক

  • ঘুষ দিলে মিলবে টাকা না দিলে নয়

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ২১ ফেব্রুয়ারি ॥ পায়রা বন্দর ও সন্নিহিত এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের নিমিত্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে ক্ষতিগ্রস্তদের তিনগুণ ক্ষতিপূরণ প্রদান নিয়ে কৃষকের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে। রুরাল পাওয়ার কোম্পানি (আরপিসিএল) লিমিটেডের নির্মাণাধীন তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য জমি অধিগ্রহণকৃত নিশানবাড়িয়ার ১৭২ কৃষক পরিবার এমন শঙ্কায় পড়েছেন। ফসলি জমি ও ঘরের ক্ষতিপূরণ যথাযথভাবে না পাওয়ার খবরে নিশানবাড়িয়া ও লোন্দা মৌজার মানুষ এমন উৎকণ্ঠায় পড়েছেন। এ নিয়ে কৃষকের মনে ক্ষোভ জমেছে। পটুয়াখালী জেলার এলএ শাখার সার্ভেয়ার ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এবং বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আরপিসিএলের নির্বাহী প্রকৌশলীর যৌথ সার্ভে করার পরও ঘরের ক্ষতিপূরণের তিনগুণ টাকা পাবে না এমন খবরে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র মানুষের মধ্যে এমন শঙ্কা দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবাদুল ইসলাম রিপন জানান, তাদের এলএ কেস নম্বর-১১/১৬-১৭ অনুসারে নিশানবাড়িয়া মৌজায় ঘরবাড়ি, পুকুর ও গাছপালার ক্ষতিপূরণের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা প্রস্তুত করতে এলএ শাখার ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা তানিয়া ফেরদৌস, আরপিসিএলএর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল করিম, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এবিএম রুহুল আমিন, কানুনগো ওমর আলী মোল্লা, সার্ভেয়ার মোঃ এনামুল হক, হুমায়ুন কবির, আবুল কালামের সমন্বয়ে মাঠ পর্যায়ে এসে যৌথভাবে তদন্ত বই ‘ক’ ফরম প্রস্তুত করেন ২০১৮ সালের ১১ জুন। পরে গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ ঘরবাড়ি ও গাছপালার মূল্য নির্ধারণ করে অফিসে জমা দিয়েছেন। কিন্তু এলএও অফিসের কর্মচারীরা ৭ ধারার নোটিস দিতে কালক্ষেপণ করে আসছে। রিপনের অভিযোগ যারা তাদের ঘুষের টাকা দিতে রাজি আছে তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দিবে নইলে নয়। আর বাকিরা বঞ্চিত হবেন। এ কারণে ৭ ধারার নোটিস বিতরণ করা হচ্ছে না। এর ফলে আরপিসিএলএর অধিগ্রহণ করা নিশানবাড়িয়া মৌজার ১৭২ পরিবারে এক ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছে। তারা জানান, এমনিতেই গেল বছর ২০১৮ সালে আমন ফসল পাননি। এখন এ মৌসুমে ঘর ও গাছপালার ক্ষতিপূরণের টাকা এবং ফসলি জমির তিনগুণ ক্ষতিপূরণের টাকা পেতেন তাহলে অন্যত্র গিয়ে কিছু ফসলি জমি কিনতে পারতেন। নিশানবাড়িয়ার কৃষক আপেল হাওলাদার, হোসেন হাওলাদার ও হাচন হাওলাদার তিন ভাই জানান, তারা ২০১৭ সালের মে মাসে ছয় ধারার নোটিস পেয়েছেন। কিন্তু আজ অবধি তারা কেউ ক্ষতিপূরণের তিনগুণের টাকা পায়নি। এখন এরা তিন ভাই বর্তমানে বেকার রয়েছেন। একই অভিযোগ সালাউদ্দিন হাওলাদার, মিজানুর রহমান ও সানু হাওলাদারের। ১৭২টি পরিবারের সকল মানুষের অভিযোগের ধরন একই।

ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিক জসিম মৃধা জানান, যেখানে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ তিন ধারার নোটিস বাতিল করে ক্ষতিগ্রস্তদের তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য চার ধারার নোটিস দিয়েছেন। একই মৌজায় তাহলে আরপিসিএল কেন তিনগুণ দেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করছে না। ২০১৭ সালে ২১ সেপ্টেম্বর এক সরকারী গেজেটে পেছনের সকল অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে। সেখানে কেন আরপিসিএল এসব কার্যকর করছে না। ১৭২টি পরিবারের বাড়িঘর গাছপালার ক্ষতিপূরণ নিয়েও তালবাহানার অভিযোগ তাদের। আরপিসিএলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল করিম জানান, যার যা ক্ষতি হয়েছে তা যথাযথভাবে সরকারী নির্দেশনা মতে প্রদান করা হবে। এ নিয়ে কারও কোন শঙ্কার কারণ নেই। সকল বিষয়গুলো একটি চলমান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিঙ্কন জানান, কাউকে হয়রানির কোন সুযোগ নেই। সরকারী যথাযথ নিয়ম মেনেই অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের সেবা দেয়া হচ্ছে। কোন হয়রানির সুযোগ নেই।