২৫ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এক লাখ মোমবাতি জ্বেলে ভাষা শহীদদের স্মরণ করল নড়াইলবাসী

রিফাত-বিন-ত্বহা, নড়াইল ॥ এক লাখ মোমবাতি জ্বেলে নড়াইলবাসী স্মরণ করলেন একুশের অমর ভাষা শহীদদের। নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজের কুড়িরডোব মাঠ প্রাঙ্গণে ‘অন্ধকার থেকে মুক্ত করুক একুশের আলো’ এই শ্লোগান নিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজন করে একুশ উদযাপন পর্ষদ। এ সময় মঞ্চে ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ এই গান দিয়ে শুরু হয় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পরিবেশনা গণসঙ্গীত ও কবিতা। নড়াইলবাসীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী উপভোগ করেন এই মনোহর দৃশ্য।

আয়োজকরা আশা করছেন এবার এক লাখ মোমবাতি জ্বালিয়ে দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি আর সঙ্গীতশিল্পীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য হবে অনুষ্ঠানটি। প্রতিবছরই আয়োজনে স্লোগান থাকে ‘অন্ধকার থেকে মুক্ত করবে একুশের আলো’। একুশে উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক জানান, আমাদের জ্ঞানের যে অন্ধকার, সাম্প্রদায়িকতার যে বিষবাষ্প, সমাজের কূপম-ূকতা-সামগ্রিক এসব অন্ধকারের বিরুদ্ধে একুশের আলো। এ আলো শুধু মাঠের আলো নয়। সামগ্রিক অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জেগে ওঠার প্রত্যয় জাগানিয়া আলো।

ভাষা শহীদদের স্মরণে নড়াইলে ব্যতিক্রমী আয়োজন শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। প্রথম কয়েকজন কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভাবলেন বাঙালীর সবচেয়ে বড় অহঙ্কারের দিন ২১ ফেব্রুয়ারিকে একটু অন্যভাবে পালন করা যায় কি করে। ভাবলেন মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে তো শহীদদের স্মরণের কথা। কিন্তু মোমবাতি জ্বালিয়ে তো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে অনেক শহীদ মিনারে পালন করা হয়। তাহলে। তারা ভাবলেন এই মোমবাতির পরিমাণ যদি বেশি হয়। যে ভাবা সেই কাজ, তারা বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ স্মৃতি সংসদের ব্যানারে এক হতে থাকলেন।

সেদিনের সাংস্কৃতিক কর্মী আব্দুর রশীদ মন্নু, শরফুল আলম লিটু, শামীমুল ইসলাম টুলু, সৈয়দ ওসমান, লিজা, শান্ত, সংগঠক ওমর ফারুক, মলয় কু-সহ আরও অনেকে। যুক্ত হলেন প্রফেসর মুন্সী হাফিজুর রহমান। তাদের অনুপ্রেরণা যোগালেন তখনকার গণসাহায্য সংস্থার কর্মকর্তা আজকের নাট্য নির্মাতা কচি খন্দকার। তারা সিদ্ধান্ত নিলেন এই আয়োজনের স্থান হবে ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠ। এই মাঠটির অবস্থানও চমৎকার। মাঠের তিনপাশে রয়েছে উঁচু রাস্তা। যেখান থেকে নিচে দেখা যায় আলোর প্রজ্বালন। রাস্তাতে প্রচুর মানুষের দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য অবলোকন করার সুযোগ আছে। মানুষ আসলেন দেখলেন বিমোহিত হলেন। উৎসাহ পেলেন আয়োজকরা। প্রথমবার শুরু হয়েছিল ২০ হাজার মোমবাতি দিয়ে। কয়েক শ’ স্বেচ্ছাসেবী নানা আল্পনায় সাজিয়েছিলেন মাঠটিকে। সন্ধ্যার পর মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে উদ্বোধন করলেন বাংলার সূর্যসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা। মোমবাতি কিনে বেশি দামে বিক্রি করে অর্থ যোগাড় করেছিলেন তারা।