২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংবাদপত্রে বিনোদন

  • সব্যসাচী দাশ

সংবাদপত্রে বিনোদন। এই ধারণা সংবাদপত্রে বেশ পুরনো। তবে প্রাথমিক অবস্থায় সংবাদপত্রের সঙ্গে বিনোদনের বিষয়টা যে যুক্ত ছিল না তা কিন্তু সত্য। সময়ের সঙ্গে এর গুরুত্ব বিচারে যুক্ত হয় বর্তমান সংবাদপ্রত্রের এই অনিবার্য বিয়ষটি। উপমহাদেশ তথা বাংলা ভাষার সংবাদপত্রের যে ইতিহাস তাও কিন্তু কম সময়ের নয়। তবে বাংলা ভাষার সংবাদপত্রে বিনোদনের বিষয় কবে যুক্ত হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে করে বলা মুশকিল। বিশ্ব সভ্যতায় সংবাদপত্রে বিনোদনের বিষয় প্রথম আসে ১৮৩৫ সালে। বিট্রিশ পত্রিকা ‘দ্য সান’-এ। ওই সময় পত্রিকায় কাজ করতেন বিখ্যাত সাংবাদিক জেমস আর্থার লক। সে সময় লক পত্রিকায় একটি সাইন্স ফিকশন গল্প ধারাবাহিক লিখতে শরু করে। যার শিরোনাম ছিল-‘এৎবধঃ গড়ড়হ ঐড়ধী’ লক চাঁদ ও চাঁদের দেশ নিয়ে ‘দ্য সান’-এ ছয়টি কল্পকাহিনীভিত্তিক গল্প লেখেন। এতে সান পত্রিকার বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এরপর সংবাদপত্রে বিনোদন বা আনন্দদায়ক বিষয়গুলো যুক্ত হয় কার্টুনের মাধ্যমে। শুরুর দিকে নিউইয়র্ক জার্নালে (প্রকাশকাল ১৯৩৬-১৯৬৬) অন্যতম চরিত্র ছিল কাটজিনজামার কিডস। দীর্ঘদিন ধরে রুডফ ডিকস তার কার্টুন চরিত্রগুলোর প্রতি আমেরিকানদের আগ্রহ ধরে রেখেছিল। স্থায়ীভাবে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে অন্যান্য পত্রিকায় এ ধরনের প্রকাশিত হতে থাকে। কার্টুনের এ ধারা আজও বিশ্বব্যাপী অব্যাহত আছে এবং তা জনপ্রিয়তার সঙ্গে। বিশ্বে বিনোদন সাংবাদিকতার বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল মার্কিন সাময়িকী ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার।’ এই পত্রিকার মূল লক্ষ্য ছিল হলিউডের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র। মোটকথা বিনোদননির্ভর সবকিছুই ছিল এই পত্রিকার উপাদান। এটাই ছিল পৃথিবীর প্রথম চিত্রজগত সম্পর্কিত পত্রিকা, যার প্রভাব বা আদলেই ভারতসহ অনান্য দেশে প্রকাশিত হয় বহু সিনে ম্যাগাজিন। সংবাদপত্রের প্রাক পর্ব থেকে আজকের দিন। অনেক বিষয় যেমন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তেমনি আবার একাধিক বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে। সবই হয়েছে পাঠকের রুচি এবং অগ্রহের কারণে। সংবাদপত্র সব সময় তার পাঠকের মনরাজ্যকে ধারণ করে ছাপার বিষয় নির্ধারণ করে। তবে এ কথা যেমন অনিবার্য সত্য, তেমনি তথ্য পরিবেশন, জ্ঞান বিতরণ, প্রভাবিত করার পাশাপাশি বিনোদনের খবর ছেপে পাঠককে বিনোদিত করা সমান গুরুত্বের।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংবাদপত্রে বিনোদন খবরের ধারনা বিশ্বব্যাপী বদলেছে। যেমন- ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট। এই দিন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ব্রিটিশ রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়না। যদিও তার মৃত্যুর পর নানা গুঞ্জন সারা দুনিয়ায় শুরু হয়। প্রিন্সেস ডায়না ছিলেন সে সময়ের সবচেয়ে ফটোগ্রাফড নারী। বিয়ে থেকে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত শত শত ক্যামেরা তাঁকে সর্বক্ষণিক খুঁজে বেড়িয়েছে। প্রকাশে, গোপনে তাঁর ছবি তুলতে ফটো সাংবাদিকরা ছিলেন মরিয়া। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে ডায়না চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘তোমরা আমার জীবনকে নরকে পরিণত করেছ।’ ডায়নার মৃত্যুর পর তাঁর ভাই চার্লস স্পেনসার বলেছিলেন, ‘প্রিন্সেস ডায়না ছিলেন আধুনিক যুগে ফটো সাংবাদিকদের সবচেয়ে পছন্দের শিকার।’ ডায়নার মৃত্যুর জন্য প্রকৃতপক্ষে কে দায়ী, তা নিয়ে বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ‘গেলাপ’ একটি জরিপ করেছিল। যাতে ৪৩ শতাংশ মানুষ নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছিল এ মৃত্যুর জন্য চিত্রজগতের ফটো সাংবাদিকরা দায়ী। কাজেই অন্যান্য বিষয়ের মতো বিনোদন সাংবাদিকতা ও যখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয় তখন তার ফল কেবল ব্যক্তির ওপর গিয়ে বর্তায় না বরং সামগ্রিক গোষ্ঠীর ওপর অর্পিত হয়। এমন উদাহরণ আরও আছে। তবে ডায়না মৃত্যুর কিছুকাল পর একবিংশ শতাব্দীতে এসে সবকিছুর সঙ্গে বিনোদনের বিষয়ও খুব দ্রুত বদলাতে শুরু করে। বর্তমান প্রযুক্তি এবং ই-দুনিয়ার প্রভাবে ব্যক্তি জীবন থেকে তারকদের জীবনদর্শন রাতারাতি বদলেছে। এখন বেশিরভাগ তারকাই সাধারণের কাছে নিজে থেকে ওপেন হতে আগ্রহী। যার দৃষ্টান্ত অহরহ। এখন কথা হলো সংবাদপত্রে বিনোদনের পৃষ্ঠায় যে সব খবর বর্তমান সময়ে আমরা পাচ্ছি বা পরিবেশিত হচ্ছে বিশেষ করে, এর পাঠকের জন্য- তার সবটাই কি সত্যিকার মনোরঞ্জনের! না কি বিনোদনের বদলে বেশিরভাগ খবর অন্য সেন্টিমেন্ট তৈরিতে প্রভাবিত করছে। এখানে অন্য সেন্টিমেন্ট বলতে পাঠককে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করাকে বোঝাচ্ছি।

আমাদের দেশে সংবাদপত্রে বিনোদন

কালে কালে আমাদের দেশীয় সংবাদপত্রের বয়স- কিন্তু কম গড়ায়নি। স্বাধীনতার উনিশ বছর আগের চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ আমাদের পরিচালনা এবং প্রযোজনার প্রথম ছবি। সে সময় এই চলচ্চিত্র এবং এর আনুষঙ্গিক খবর সব শ্রেণীর মানুষের ভেতর এক বিশেষ প্রণোদনা সৃষ্টি করে। সমসাময়িক বিনোদন সাংবাদিকতার পথিকৃৎ বলা হতো সাপ্তাহিক চিত্রলীকে। এই পত্রিকা বেশ সময় ধরে পাঠকপ্রিয় ছিল। চিত্রালী প্রকাশিত হতো শুক্রবার। খ্যাতিমান সাহিত্যিক সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক এ পত্রিকার সহÑসম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া প্রখ্যাত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ছাড়াও একাধিক গুণী মানুষ এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও পরবর্তীতে পত্রিকাটি কেবল বিনোদনের মধ্যে গ-িবদ্ধ থাকেনি। এক সময় নিয়মিত গল্প ছেপেছে। সমসাময়িক দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ, মিল্লাত নিয়মিত বিনোদনের খবর ছাপত। দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বিএফডিসি’ বা বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত সত্তর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে আশি-নব্বই হয়ে একেবারে একবিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত সংবাদপত্রে বিনোদনের খবর সাধারণ পাঠক থেকে চিন্তাশীল পাঠকের মনোযোগের বিষয় ছিল। বিশেষ করে এই সময়ে দেশীয় চলচ্চিত্রসহ অনান্য মাধ্যমের উত্থান এবং এর সংশ্লিষ্ট মানুষদের আলাদা আলাদা খবর পাঠকদের অধিক আগ্রহে অপেক্ষা করাত। যদিও এই সময় কেবল সংবাদপত্রই ছিল জাতির কাছে সবকিছু জানার এবং দেখার জানালা। আর চিত্রজগত সে তো ছিল আপামর জনসাধারণের কাছে একে বারেই অন্য রকম বিষয়। যেমন রাজ্জাক-কবরীর দর্শকজয়ী জুটি। শাবানা-আলমগীরের আলোড়িত সামাজিক সিনেমা কিংবা ববিতা-জাফর ইকবালের প্রেম! অথবা নায়ক জাফর ইকবালের অকাল প্রয়াণ। কিংবা ঢাকাই চলচ্চিতের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ্রে জননন্দিত সিনেমা, তার ব্যক্তিগত জীবন, সংসার সবশেষ তার ধূ¤্র্রজাল সৃষ্টির রহস্যময় মৃত্যু! বিনোদনের খবরের হিসেবে পাঠকদের মধ্যে ভিষণ চাঞ্চল্যের বিষয় ছিল। কখন কখন এ সব বিষয়- কেবল বিনোদনের খবরে সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং জনরুচির কথা বিবোচনা করে চলে এসেছে প্রত্রিকার প্রথম পাতায়। চলচ্চিত্রের এমন অনেক আলোচিত অধ্যায় একবিংশ শতাব্দীর শুরুর কয়েক বছর পর্যন্ত ভীষণ কৌতূহলের অধ্যায় ছিল। এমনও দেখা গিয়েছে, বহু পাঠক যাদের সংবাদপত্রের অন্য বিষয়ের প্রতি অনআগ্রহ থাকলেও কেবল বিনোদনের খবর পড়তে নিয়মিত পত্রিকা সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে খুব দ্রুতই এই সময় পরে গিয়েছে। বর্তমানে বিনোদনের খবরে পাঠকের অরুচি ধরেছে! তারমানে এই ক্ষেত্র তার পাঠক হারাতে বসেছে। এখন আর পাতা খুলে কেউ প্রথমেই বিনোদনের পাতায় চোখ রাখে না। শহুরে চা দোকান থেকে গ্রামীণ বাজার এখন আর জনে জনে রুপালি জগত নিয়ে মনোরঞ্জেনের হাট বসে না। এ জন্য কি কেবল সংবাদপত্র দায়ী! অবশ্যই না। তথাকথিত তারার রাজ্যের তারকারা এবং এর সংশ্লিষ্ট মানুষেরা অনেকখানি দায়ী। বর্তমান সিনো বা বিনোদন দুনিয়ায় আগের থেকে জননন্দিত তারকাদের যেমন অনুপস্থিতি তেমনি সংবাদপত্রের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে এক রকম দায়ী করা চলে। আবারও বলছি; এখনার বেশিরভাগ তথাকথিত তারকাদের কাজে নয় নামে বড় হওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা- পাঠক চিন্তার সঙ্গে বয়কট করেছে। তেমনি সমসাময়িক অনেক পত্রিকার বিনোদন সাংবাদিক সংবাদ পরিবেশনের থেকে সংবাদের বিষয়ের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার অনৈতিক চেষ্টায় ব্যাস্ত থাকতে দেখা যায়। যে কারণে, আসল ঘটনা তারা কলম থেকে কাগজে লিখতে পারেন না। এতগেল কেবল চলচ্চিত্রের আশিংক অবস্থা। এছাড়া বিনোদনের খবর বলতে টিভি নাটক, মঞ্চনাটক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংগীত, যন্ত্রসংগীত, সংগীত উৎসব আয়োজন, চলচ্চিত্র সমালোচনা, চলচ্চিত্র পর্যালোচনা, তারকা বা বিশেষ ব্যক্তিত্বদের জীবন বা সাক্ষাতকার। এ সবের সামগ্রীক বিবেচনায় চলচ্চিত্রের পরে এক শ্রেণির পাঠক রুচিতে টিভি নাটক বা এর আওতাভুক্ত কর্মিদের খবর ও ছিল সংবাদপত্রে বিনোদনের একটা উল্লেখযোগ্য পর্ব। বিশেষ করে যখন সত্তর-আশির দশকে আলি যাকের, সারা জাকের, ফেরদৌসি মজুমদার, রামেন্দু মজুমদার, আসাদু জামান নূর, রাসুল ইসলাম আসাদ, তারিক এনাম, হুমায়ন ফরীদি, সুর্বণা মোস্তফা পবর্বতিতে শমী কায়সার, বিপাশা হায়াত, কিংবা জাহিদ হাসান, তৌকির আহমেদ, শহিদুজ্জামান সেলিম সহ আরো অনেকের টিভি এবং মঞ্চে আলোকিত পদচারণার খবর ব্যাপকভাবে আলোড়িত করত পাঠক সমাজকে। কিন্তু, অতীতের এই সোনালি অধ্যায় বর্তমানে প্রায় ম্লান বলা যায়। যে কারণে তাদের খবর এখন আর পাঠকদের মোহিত করে না। এদের নিয়ে যে ধরণের খবর পরিবেশন করা হয় সেখানে পাঠকের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণের বিষয়ও খুব একটা থাকে না। কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের নিয়ে যা ছাপা হয় তা এক রকম স্তুতির পর্যায় পরে। এ ছাড়া সঙ্গীত বা চলচ্চিত্রের পর্যালোচনা বা সমালোচনার অনুপস্থিতি দিন দিন ভাটার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রসঙ্গে আমাদের বাড়ির কাছে এক প্রবীণ সেলুন কর্মীর কথাই বলা যাক। দীর্ঘ তিশ বছর ধরে ঢাকা শহরে নরসুন্দরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। শুরুতে যে সেলুনে কাজ করত, এখন তারই মালিক সে। সম্পর্কের খাতিরে তার কাছে পূর্বের অভিজ্ঞতায় জানতে চাই। সেলিম ভাই আগের মতো খবরের কাগজ পড়েন? উত্তর; ‘পড়ি তবে আগের মতো সময় দেই না আগ্রহও নাই। আগে মনে করেন পেপার পাইলেই প্রথমে সিনেমা-নাটকের খবর দেখতাম। এমন কি প্রায় রাতে কাজ শেষে রাতে নাইট শো’তে হলে যাইতাম। এখন যাদের নিয়ে খবর ছাপা হয়, পড়তে মন চায় না। সিনেমা হলেও যাই না বহুদিন। তবে, মাঝে মাধ্যে হিন্দী সিনেমার খবর পড়ি।’ সেলিমের মতো অল্প লেখাপড়ার মানুষ থেকে অধিক লেখাপড়া মনুষদের একই হাল। এক্ষেত্রে কেবল সংবাদপত্র বা সাংবাদিকতাকে দায়ী করলে বোধ করি ঠিক হবে না। তা বিনোদনের খবর পাঠক সেলিমের বয়ানে পরিষ্কার। সুতরাং যাদের বা যে সেক্টর নিয়ে সংবাদপত্র তার বিনোদনের খবর মনজ্ঞ করবে সেখানকার অনুষঙ্গ দিন দিন দীন থেকে দীনতর হচ্ছে। এই অপ্রিয় সত্য যে বর্তমান।

লেখার শুরুতে উল্লেখ করেছি, বর্তমান সংবাদপত্রের অনিবার্য দিক বিনোদনের খবর ছেপে পাঠককে উৎফুল্ল করা। বিশ্ব সংবাদপত্রের ধারণা আপাতত বলতে না পারলেও আমাদের সংবাদপত্রে বিনোদনের পঠাক দিন দিন যেভাবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তাতে করে বিনোদনের খবর ছাপা হলেও তার জনভিত্তি বা পাঠক প্রতিক্রিয়া এবেবারেই না পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বিনোদন জগতের বাস্তব অবস্থাও চ্যালেঞ্জর মুখে পরেছে।

সত্য শুনতে বা গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করার মতো মানসিকতা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কোন ক্ষেত্রেই নেই বললে চলে। সংশ্লিষ্ট সকলে চায়, যাই নির্মিত হচ্ছে তার ইতিবাচক খবর ছাপা হোক। এক্ষেত্রে পাঠক বা দর্শকদের পছন্দ-অপছন্দের মূল্যায়নের কোন গুরুত্ব তাদের কাছে নেই। যে কারণে, সংবাদপত্রে বড় বড় কাভারেজ পেয়েও সমসাময়িক বহু সিনেমা, নাটক কিংবা সঙ্গীত মিনিমাম সাফল্য অর্জন তো দূরে থাক বরং ব্যর্থতার অতল গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে এসব নামসর্বস্ব শিল্প। এ সত্য পাঠক ভালভাবেই অনুধাবন করে। তাই তো এ বিষয়ে আগ্রহ দিন দিন হারিয়ে যাওটাই স্বাভাবিক। সবকিছুর একটা দায়বদ্ধতা থাকে। পত্রিকা যদি ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা পাতা ভরানোর নামে অযোগ্য খবর ছাপে তাহলে সংবাদপত্র শিল্প নিজেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাবে। তাই শিল্পের গুণগত মান যাচাই এবং পাঠক রুচির কথা ভেবে সংবাদপত্রে বিনোদনের খবর ছাপা হলে উভয়ই লাভবান হবে। অতীতে আমারা দেখেছি সংবাদপত্রে বিনোদনের খবর কিভাবে আসত এবং পাঠক কিভাবে আলোড়িত হতো। তাই তো সময় এবং বাস্তবতা অনুধাবন করে সংবাদ পরিবেশন যথোপযুক্ত।