১৯ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সংবাদপত্রে ফ্যাশন ও লাইফ স্টাইল

  • তৌফিক অপু

পত্রিকায় পোশাকের ডিজাইন দেখে ছুটির দিনের বিকেলেই তা সংগ্রহ করতে বের হয়ে যান রায়হান সাহেব। যাওয়ার আগে ভাল করেই শোরুমটির ঠিকানা এবং দরদাম জেনে বের হন। উদ্দেশ্য হলো পরের সপ্তাহে যে অনুষ্ঠানটিতে রায়হান সাহেব অংশ নেবেন সেটার জন্য পত্রিকায় প্রকাশিত পোশাকটি একদম পারফেক্ট। পত্রিকায় পোশাকের ছবিগুলো দেখে অনেকটা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন রায়হান। শোরুম ঘুরে ঘুরে পোশাক কেনার বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব শুধু এই পত্রিকার ইনফরমেশননের কারণে। শুধু রায়হান নন, অনেকেই পত্র- পত্রিকায় পোশাকের আপডেট থেকে পোশাক সংগ্রহ করে থাকেন। ব্যস্ত জীবনে এখন অনেকেই পত্রিকা পড়ার যেন সময় পান না। তার পরেও পত্রিকায় ফ্যাশন এবং লাইফ স্টাইলের সংবাদগুলো যেন আলাদাভাবে নজড় কাড়ে। অনেকেই পত্রিকার ফ্যাশনের অংশগুলো আলাদা সংগ্রহ করে থাকে।

দিন যত যাচ্ছে মানুষ ততই ফ্যাশন সচেতন হয়ে উঠছে। গ্লোবালাইজেশনের যুগে দেশ-বিদেশের নানা ধরনের আপডেট নিউজ পড়ে নিজেকে সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে সবাই। যার ফলে পত্রিকার আপডেট ফ্যাশন নিউজের প্রতি এখন অনেকেরই ঝোঁক। আর এ ঝোঁকের কারণেই ফ্যাশন-লাইফ স্টাইল সাংবাদিকতার পরিধি দিন দিন বাড়ছে।

সাংবাদিকতা বিভাগে ফ্যাশন এবং লাইফ স্টাইল বড় একটি জায়গা যে দখল করতে পারে তা সর্বপ্রথম অনুধাবন করে দৈনিক জনকণ্ঠ। মানুষের রুচি ও মনন এর সঙ্গে ফ্যাশন আউটলেটগুলোর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে দৈনিক জনকণ্ঠ। এদেশে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয় ‘ফ্যাশন’ নামে পূর্ণাঙ্গ একটি পাতা। যে পাতার পুরোটা থাকে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে ঘটে যাওয়া নানা ধরনের খবর, পোশাকের আপডেট ও নিত্য নতুন ডিজাইনের আগমনী বার্তা। সব মিলিয়ে ফ্যাশনের জগতের পূর্ণাঙ্গ এক রূপ এক পাতায় দেখতে পেয়ে পাঠক বেশ সাদরে গ্রহণ করে ফ্যাশন পাতাটি। বলা যায় সেই থেকে এ দেশে ফ্যাশন সাংবাদিকতারও শুরু। দিন দিন জনপ্রিয় হতে থাকে ফ্যাশন পাতা। আরও বড় পরিসরে মানুষের জীবনের খুনসুটি ভাল লাগা মন্দ লাগা তুলে ধরতে চালু করা হয় ‘যাপিত জীবন’ পাতাটি। মানুষের কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে অন্য একটি জীবনের গল্প তুলে ধরতেই পাতাটি কাজ শুরু করে। একে অপরের সম্পর্কবোধ, ঘরের সৌন্দর্য, রূপচর্চা, খাদ্যাভাস নানা বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতসহ ফিচার নিউজ তুলে ধরে ‘যাপিত জীবন’। এছাড়াও ঠাঁই পায় আইনী বিষয়ক নানা পরামর্শ, মনোজগতের উপদেশ ইত্যাদি। এদেশে এমন বিষয় নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি হতে পারে তা দৈনিক জনকণ্ঠের ‘যাপিত জীবন’ পাতা পড়ে মানুষ বুঝতে পারে। এছাড়া ভোজন রসিকদের জন্য প্রতি সংখ্যাতেই থাকে মুখরোচক খাবারের ছবিসহ রেসিপি। বিংশ শতাব্দীতে যখন এ পাতাগুলো প্রকাশ হয় তখন প্রযুক্তির সঙ্গে এদেশের মানুষের তেমন কোন সখ্যতা ছিল না। এখন যেমন ইউটিউব খুললেই যে কোন খাবারের রেসিপি মুহূর্তেই হাজির হয়ে যায়। তখন সে সুযোগ ছিল না। যে কারণে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করল যাপিত জীবনে ছাপা হওয়া রান্নার রেসিপিগুলো। রীতিমতো পত্রিকায় কাটিং করে নিয়ে অনেকেই রান্নাঘরের দেয়ালে রেসিপি টানিয়েছেন সে রেকর্ডও আছে। যার ফলে যাপিত জীবনের বিষয়গুলো দিন দিন তুমুল জনপ্রিয় হতে থাকে। ফ্যাশন এবং লাইফ স্টাইল সাংবাদিকতা মোড় নেয় অন্যদিকে। সংবাদপত্রের অন্য অধ্যায়ের চেয়েও যেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে ফ্যাশন ও লাইফ স্টাইলের সংবাদগুলো। সাংবাদিকতা জগতে যোগ হয় নতুন মাত্রা। প্রথমবারের মতো দৈনিক জনকণ্ঠের মাধ্যমে পাঠক পরিচিত হয় ফ্যাশন ও লাইফ স্টাইল সাংবাদিকতার সঙ্গে। জীবনকে রাঙাতে খুঁজে পায় নতুন এক অধ্যায়। পরবর্তীতে এদেশে আরও যেসব সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, প্রতিটিতেই ফ্যাশন এবং লাইফ স্টাইল যেন অবধারিত এক অধ্যায় হয়ে ধরা দিয়েছে। সত্যিকার অর্থেই সংবাদপত্রের জন্য ইতিবাচক দিগন্তু উন্মোচন করে দৈনিক জনকণ্ঠ।

ধীরে ধীরে পাঠকের প্রত্যাশানুযায়ী কলেবর বৃদ্ধি পেতে থাকে ফ্যাশন ও যাপিত জীবন পাতাগুলোর। ঋতুভিত্তিক পোশাকের খবরও প্রথম তুলে নিয়ে আসা হয় ফ্যাশন পাতার মাধ্যমে।

এর আগে ঋতুভিত্তিক পোশাক নিয়ে তেমন কোন ধারণাই ছিল না এদেশের মানুষের। ফ্যাশন পাতাই প্রথম জানান দেয়, বৈশাখের পোশাকের ধরন কেমন, বসন্ত ও ভ্যালেন্টাইনে পোশাকের রঙ কেমন হওয়া উচিত। এছাড়া বর্ষায় উপযোগী পোশাক কিংবা শীত পোশাকের নানা খোঁজ খবর ফ্যাশন পাতায় নিয়মিত ছাপা হতে থাকে এবং পাঠকও এর সঙ্গে নিজের একাত্মতা পোষণ করতে থাকে। এছাড়া পোশাক প্রদর্শনী কিংবা ফ্যাশন শো সব কিছুই যেন ফ্যাশন পাতার মাধ্যমেই পূর্ণতা ঘটায়।

এছাড়া ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক হিসেবেও ফ্যাশন পাতার সুনাম রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মসলিন অথবা দেশের গর্ব জামদানির বহু তথ্য-উপাত্ত ছাপা হয়েছে। এমনকি কারিগরদের দুঃখ কষ্ট নিয়েও প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে ফ্যাশন পাতায়।

এদেশের সংবাদপত্র জগতে যুগান্তুকারী এক পদক্ষেপ ছিল দৈনিক জনকণ্ঠের ফ্যাশন ও যাপিত জীবন পাতাগুলো। মানুষের রুচিবোধের উন্নতি এবং পরিবর্তন ঘটিয়েছে পাতাগুলো। এছাড়া সাংবাদিকতা জগতে ভিন্ন এক আমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে দৈনিক জনকণ্ঠ। আজও সে ধারা অব্যাহত রয়েছে।