২০ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অগ্নিঝুঁকি ও প্রতিরোধ সক্ষমতা

পুরান ঢাকার নিমতলী-চকবাজার ট্র্যাজেডির পর সর্বমহলে অগ্নিঝুঁকি রোধের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির আশা করতেই পারেন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। কোন কারণে আগুন লাগতে পারে এমনটা ভেবে নিয়েই আধুনিক ভবনে অগ্নিপ্রতিরোধ বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট এবং ধূমপানের কারণে সিগারেটের না নেভানো আগুন থেকে আগুন লাগা এবং তা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাই বেশি ঘটতে দেখা যায়। ফলে আগুন লেগে গেলে সে আগুন নেভানোর সক্ষমতা থাকা অবশ্য কর্তব্য। আগুনের মহাঝুঁকির মধ্যে বসবাস করা কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রায় এক দশক আগে নিমতলী ও সম্প্রতি চকবাজারে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং তাতে যে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে সেটি মর্মান্তিক।

৯ বছর আগে নিমতলীর ঘটনার পর সরকার গঠিত কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করেছিল; যার মধ্যে ছিল পুরান ঢাকার ৮০০ রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সরিয়ে ফেলা। এরপর তৎকালীন শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু কমিটি গঠন পর্যন্তই শেষ। নিমতলীর ঘটনার পর গুদাম সরানো নিয়ে কিছুদিন লোক দেখানো তৎপরতা চললেও পরবর্তী সময়ে সবকিছু চলে যায় হিমাগারে। গুদাম-কারখানা থেকেই যায়।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বলেছে, অগ্নিদগ্ধ ভবনসহ আবাসিক এলাকায় কোন ভবনেই গুদাম করা বা কারখানা স্থাপনের অনুমতি তারা দেয়নি। অর্থাৎ সেখানে স্থাপিত সব গুদামই অবৈধ। তাহলে সেই গুদামগুলো কেন সরানো হলো না? চকবাজারের আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা নিশ্চয়ই রিপোর্ট দেবে, সুপারিশ করবে। কিন্তু দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণগুলো দূর করার নিশ্চয়তা পাওয়া জরুরী।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি আগুনের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে যাব? শুক্রবার জনকণ্ঠের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অগ্নিঝুঁকির প্রসঙ্গটি। ফায়ার সার্ভিসের জরিপ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে যে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে ঢাকা মহানগরীর ৯৮ ভাগ হাসপাতাল ও ক্লিনিকই রয়েছে অগ্নিঝুঁকিতে। এসব হাসপাতাল বা ক্লিনিকে আগুন লাগলে ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল বা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার প্রশিক্ষণ নেই। তাই অগ্নিনির্বাপণে ব্যবহৃত সকল প্রকার সরঞ্জাম সঠিক নিয়মে পরিচালনা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং হাসপাতাল এলাকায় বিশেষায়িত ফায়ার স্টেশন চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন হাসপাতালের মালিক ও পরিচালকরা। বুধবার রাজধানীতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাসপাতালসমূহের মালিক, পরিচালক ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এমন দাবি জানানো হয়। মালিকদেরও উচিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো অগ্নিপ্রতিরোধের উপযোগী করে গড়ে তোলা।

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, হাসপাতালগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা একটি স্পর্শকাতর ও উদ্বেগজনক বিষয়। স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে হাসপাতালের দুর্ঘটনায় জীবনহানির আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। কারণ একটি হাসপাতালে যারা অবস্থান করেন তাদের বেশিরভাগই থাকেন রোগী, যাদের পক্ষে অন্যের সাহায্য ছাড়া দুর্ঘটনার সময় বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য পূর্ব প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই। আমরা আশা করব সংশ্লিষ্ট মহল কালবিলম্ব না করে অগ্নিঝুঁকি প্রতিরোধে সক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য করণীয় যা কিছু আছে সেটি করবেন। মানুষের জীবন নিয়ে আর কোন অবহেলা নয়।