১৯ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপদ বসতির

বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপদ বসতির
  • এ নগর আপনার

রাজন ভট্টাচার্য ॥ সর্বশেষ চকবাজার ট্র্যাজেডির পর ফের রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা সরব। কেমিক্যাল, প্লাস্টিকের গোডাউন, পারফিউম, গ্যাস রিফিলসহ জরাজীর্ণ ভবনের কারণে গোটা পুরনো ঢাকা এখন মৃত্যুকূপ। এক সময়ের ঐতিহ্যের পুরনো ঢাকা চোখের সামনে সাক্ষাত যমদূত হয়ে দাঁড়াল কারো চোখে পড়েনি ! এখন প্রতিমুহূর্ত সেখানে মৃত্যু হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কিন্তু বাদবাকি এলাকা কি ঝুঁকিমুক্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে রাজধানীর কোন এলাকার মানুষ নিরাপদ নয়। কোথাও ঘিঞ্জি বস্তি, সরু গলি, বাঁশের বহুতল ভবন, অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুত সংযোগ, আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিকীকরণ, ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণ, বাজার, গাদাগাদি মার্কেট, আবাসিক ভবনে অগ্নি নিরাপত্তা সঙ্কট, বারান্দায় গ্রিল কালচার, পরিবহনে মেয়াদউত্তীর্ণ সিলিন্ডারসহ সব মিলিয়ে নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ। অর্থাৎ রাজধানীজুড়েই নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে দেড় কোটির বেশি মানুষের বসবাস। যেখানে নিরাপদ বসতি গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০০৪ সালে পুরনো ঢাকার শাঁখারীবাজারের ভবন ধ্বসের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ২০১০ সালে নিমতলী ট্র্যাজেডিও কারও ভুলে যাবার কথা নয়। সেই অগ্নিকা-ের ঘটনায় ১২৪জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে বেগুনবাড়ি বস্তি এলাকায় একটি অনুমোদনহীন ভবন ধসে ২৫ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি অনেকে আহত হন। এনটিভি ভবন, বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগার দৃশ্যও বহুল আলোচিত ঘটনা। সর্বশেষ চকবাজারের অগ্নিকা-ে ৭০জনের মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি জানান দিয়ে গেল।

গত বুধবার চকবাজারের যে এলাকায় অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে এর ঠিক পাশেই দেশের বৃহত্তম পাইকারি পণ্যের মার্কেট চাঁদনী চক। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই মার্কেটটিতে অগ্নি নির্বাপণের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। আগুন লাগলে বের হওয়ার মতো পরিস্থিতি থাকবে না। ছোট্ট পরিসরে ঘিঞ্জি দোকান, ব্যবসায়ীসহ ক্রেতাদের আনাগোনা, পরিবহনের চাপ, রাস্তারস্বল্পতা, সব মিলিয়ে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের বিপর্যয় যে ঘটবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

টিকাটুলি রাজধানী সুপার মার্কেট, নীলক্ষেত মার্কেট, নিউ মার্কেট, বঙ্গবাজার, শ্যামবাজারের বিভিন্ন পাইকারি পণ্যের আড়ৎ, কাওরানবাজার সব খানেই রয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। বেগুনবাড়ি এলাকায় ভবন ধসের ঘটনা ঘটলেও সেখানে এখনও ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েই গেছে। খুবই অবাক হওয়ার মতো বিষয়, হাতিরঝিল প্রকল্প ঘেঁষে বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতল ভবন। সেখানেই গাদাগাদি করে মানুষের বসতি। তেজগাঁও এলাকায় বেশ কয়েকটি ছাত্রাবাসের অবস্থা খুবই করুণ। তিতুমীর কলেজের ঝুঁকিপূর্ণ ছাত্রাবাস নিয়ে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই। পুরনো ঢাকার প্রতিটি অলি-গলিতে দেখা যাবে ফাটল ধরা ভবন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যে কোন দুর্ঘটনায় রাস্তা সরু হওয়ায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়। বেশিরভাগ আবাসিক এলাকায় ছোট ছোট গলি। তাছাড়া ঢাকা শহরে বড় সঙ্কট হলো প্রাকৃতিক জলাশয় একেবারেই শূন্যের কোটায় নেমেছে। ভরাট হয়ে গেছে বিল, ঝিল থেকে শুরু করে পুকুরও। এমনকি নদীর বুকেও হয়েছে বসতি। ভূমিদস্যুদের করাল গ্রাসে রাজধানীর চারপাশের নদী মৃত্যুর প্রহর গুনছে। আগুন লাগলে একমাত্র ভরসা ওয়াসার পানি।

পাঁচ হাজারের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ॥ দুর্বল নির্মাণ কাঠামো আর রাজউকের নক্সা না মেনে ভবন নির্মাণ করায় রাজধানীতে একের পর ভবন হেলে পড়ার ঘটনা ঘটছে। তবুও থেমে নেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে মানুষের বসবাস। বিশ্লেষকরা বলছেন, দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আর মানুষের মধ্যে আইন না মানার সংস্কৃতি তৈরি হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। অবশ্য, যতদ্রুত সম্ভব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের আশ্বাস কর্তৃপক্ষের।

সম্প্রতি ভূমিকম্পের পর রাজধানীতে হেলে পড়ে কয়েকটি ভবন। বড় ধরনের কোন হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নগরজুড়ে। আলোচনায় আসে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন। নতুন করে তালিকা প্রণয়ন করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ৩৫১টি ভবন চিহ্নিত করা হয় অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেব। যদিও সংস্থাটির জরিপে পাঁচ হাজারের বেশি ভবন রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কাগজে-কলমে সিদ্ধান্ত হলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় বরাবরই থেকে যাচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। রাজউকের তথ্যমতে রাজধানীতে শতাধিক ভবন নিয়ে আদালতে মামলা চলায় এগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তারা।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, শিগগিরই বসবাস অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলা হবে। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। গত সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, যে সকল ইমারত বসবাস অনুপযোগী, ঝুঁকিপূর্ণ তা ভেঙ্গে ফেলার জন্য তাদের (ভবনের মালিক) তাগিদ দেব। তারা যদি ভাঙ্গতে না চান, আমাদের নিজ উদ্যোগে আইনগতভাবে আমরা ব্যবস্থা নেব। অতীতে কী হয়েছে জানি না। এখন থেকে অপরিকল্পিত কোন দালান নির্মিত হবে না। যে দালান বেআইনীভাবে নির্মিত হয়েছে সেক্ষেত্রে আইন তার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এক জরিপে দেখা যায়, ১৯৯৭ সালে কলাবাগানে ভবন ধসে ৭ জন, ২০০২ সালে শাহজাহানপুর ঝিলপাড় এলাকায় ভবন ধসে ৪ জন, ২০০৪ সালে শাঁখারীবাজারে ভবন ধসে ১৯ জন, ২০০৫ সালে সাভারের বাইপাইলে স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ভবন ধসে ৩৮ জন, ২০১০ সালে তেজগাঁওয়ের বেগুনবাড়ি বস্তিতে ভবন ধসে ২৫ জন মারা যায়।

২০১০ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন, রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। অন্যদিকে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, রাজধানীতে ঝুঁকিপূর্ণ ইমারতের সংখ্যা ৭২ হাজার। ইমারত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ৬ থেকে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে পড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

২০০৪ সালে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে ভবন ধসে মৃত্যুর ঘটনার পর রাজউক, বুয়েট ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশন কারিগরি জরিপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও ঐতিহ্যবাহী ভবন শনাক্ত ও তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। তখন ১ হাজার ৫৭৩টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে ঢাকায় আড়াই শতাধিক হেরিটেজ ভবন শনাক্ত করা হয়। যার মধ্যে ৯৩টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে শনাক্ত করা হয়।

একই সঙ্গে হেরিটেজ ঘোষিত এলাকা হিসেবে রাজউক ঋষিকেশ রোড, রেবতীমোহন দাস রোড, বি কে দাস রোড, ফরাশগঞ্জ রোড, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, পানিতলা, প্যারিদাস রোড ও হেমন্ত দাস রোডের নাম তালিকাভুক্ত করে। গেজেট আকারে তালিকাভুক্ত এসব এলাকার মধ্যবর্তী বসতবাড়ি, ইমারত, রাস্তা, গলি ও উন্মুক্ত চত্বরও হেরিটেজ হিসেবে গণ্য হয়।

রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙ্গা নিয়ে আইনী জটিলতার পাশাপাশি রাজউক ও ডিএসসিসির মধ্যে বিরোধ রয়েছে। রাজউক বলেছে, পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙ্গার দায়িত্ব ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের। আর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজউকই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে।

২২ হাজার অবৈধ গুদাম ॥ বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) এক হিসাবে দেখা গেছে, পুরান ঢাকায় ২৫ হাজার কেমিক্যাল বা রাসায়নিক দাহ্য বস্তুর গুদাম আছে। এসবের মধ্যে ১৫ হাজার আছে বাসাবাড়িতেই। মাত্র আড়াই হাজার গুদামকে ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। বাকি ২২ হাজারের বেশি গুদামই অবৈধ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার শিক্ষক ও দুর্যোগ পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, মূল সমস্যা হচ্ছে অগ্নি ব্যবস্থাপনা। কেমিক্যাল থাকলে বা না থাকলেও আগুন ধরতে পারে। কাজেই গুদাম সরিয়ে নিয়ে যেখানে যাবে সেখানেও তো আগুন লাগতে পারে। আমাদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভাবতে হবে।

চকবাজারে অগ্নিকা-ের ধ্বংসস্তূপ নিমতলীর মতোই এখানেও মানুষ বের হতে না পেরে মারা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিস্টেমগুলো কাজ করছে না। চোরের ভয়ে প্রত্যেক বাড়িতে এমনভাবে গ্রিল দিয়েছে যে আগুন লাগলে তা ভেঙ্গে বের হওয়ার অবস্থা নেই। এগুলো নিয়ে কেউ কথা বলে না। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কোন জায়গায় দমকল বাহিনী আগুন নেভানোর আগেই অনেক কিছু ঘটে যায়। ফলে কমিউনিটিভিত্তিক একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার শক্তিশালী, তারা চাইলেই এটি করতে পারে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেন গবেষক আফসান চৌধুরী। তার মতে, চকবাজার দুর্ঘটনার দায় গোটা ব্যবস্থার। আমাদের চোখে কী পড়ছে না তা? নিমতলীর ঘটনার পর ৩৮টি সুপারিশ দেয়া হয়েছিল। সেগুলোর কয়টা বাস্তবায়ন হয়েছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এসব দাহ্য পদার্থ সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। আবার ফিরে এসেছে। প্রশ্ন হলো, ফিরে যেন না আসতে পারে সেটা দেখবে কে?

আগুন নেভানোর অভিযানে থাকা ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন মনে করছেন, ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় যে পরিমাণ দাহ্য সামগ্রীর মজুদ ছিল, তাতে ভয়ঙ্কর এ ঘটনার ক্ষেত্র হয়ত আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল।

নিমতলী দুর্ঘটনার পর নয় বছরেও পুরনো ঢাকা থেকে সরেনি কেমিক্যালের গোডাউন। যদিও সর্বশেষ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল গোডাউন সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মেয়র সাঈদ খোকনও এ ব্যাপারে অনড় অবস্থানের কথা বার বার জানান দিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার অগ্নিকা-ে আহতদের দেখতে গিয়ে পুরান ঢাকার সরু রাস্তা প্রশস্ত করতে দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকনকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার সরু রাস্তা, গলি নতুন করে করতে হবে। রাস্তাগুলো এত সরু যে সেখানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার কোনও উপায় নেই।

তিনি বলেন, পুরান ঢাকায় এত গলি যে, আমরা হেলিকপ্টার দিয়েও পানি দিতে পারিনি। এটাও খেয়াল রাখতে হয়েছে যে হেলিকপ্টারের বাতাস থেকেও আগুন ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই নিরাপদ দূরত্বে থেকে হেলিকপ্টারে সহায়তা দেয়া হয়েছে।

ঢামেকে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কেমিক্যাল গুদামগুলো দায়ী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মোবাইল কোর্ট বসিয়ে অনেক কারখানা অপসারণ করেছি। কিন্তু সেগুলো গড়ে উঠেছে। এগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। ২০০৯ সালে নিমতলীর অগ্নিকা-ের পর আমরা পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম সরাতে চেয়েছিলাম। তার জন্য কেরানীগঞ্জে জায়গা করে প্রজেক্ট নিয়েছিলাম। আধুনিক গুদাম তৈরি করে দিতে চেয়েছিলাম। এসব কেমিক্যালের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। কিন্তু মালিকরা রাজি হয়নি, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।

আগুন নেভানোর জন্য পানির উৎসের অপ্রতুলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় এক সময় অনেক পুকুর ছিল সেগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এক সময় পুরান ঢাকার ধোলাইখাল ও আশপাশে অনেক খাল ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেগুলো দখল হয়ে গেছে, স্থানীয়রা ভরাট করে ফেলার কারণে ওই এলাকায় দুর্ঘটনার সময় পানি পাওয়া যায় না। নেভানোর সময় যদি পানি না পাওয়া যায়, তাহলে ফায়ার সার্ভিসের কী করার আছে?

নিষ্ক্রিয়তার শাস্তি ॥ নিমতলী ঘটনায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর তদন্ত কমিটি যেসব সুপারিশ দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি ৯ বছরেও। সে কারণেই চুড়িহাট্টার আগুন এত ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করেন স্থপতি ইকবাল হাবীব। তিনি বলেন, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে, এটাই হলো বড় ঘাটতি। ঘাটতিটা এখন এমন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে যে নয় বছর ধরে আমরা পুনরাবৃত্তি করার পরও কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে পারলাম না। জনসাধারণও একইভাবে নির্লিপ্ত।

তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে যখন আপনি অদৃষ্টবাদিতায় নিজেকে সমর্পণ করবেন, প্রতিরোধ গড়ার ক্ষেত্রে পুরোপুরি গা ছেড়ে দেবেন তখন ওটাকে আত্মাহুতি ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। অদৃষ্টবাদিতার জন্যই হত্যাকা-গুলো ঘটে চলেছে। আমাদের নিষ্ক্রিয়তার হত্যাকা-, অবহেলার হত্যাকা-। নিমতলীর অগ্নিকা-ের সঙ্গে চকবাজারের ঘটনাকে মিলিয়ে দেখার কথা বলেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক শাকিল নেওয়াজও। ঘটনাস্থলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটা আমাদের ভাল একটা লেসন দিয়েছে, ওয়েক আপ কল দিয়েছে, তোমরা সতর্ক হও।

ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক বলেন, ঢাকার ডেনসিটি বেশি। অল্প জায়গায় বেশি মানুষ বসবাস করে। অনেক অপরিকল্পিত ও অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে। নতুন নতুন ইলেকট্রিক গ্যাজেট, ল্যাপটপ, মোবাইল চার্জারসহ অন্যান্য দাহ্য পদার্থের প্রাপ্যতা বেশি। তাই ঢাকায় অগ্নিকা-সহ অন্যান্য দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি।