২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মার খেয়ে শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন অভিনেত্রী আন্দ্রিয়া ডিসুজা!

মার খেয়ে শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন অভিনেত্রী আন্দ্রিয়া ডিসুজা!

অনলাইন ডেস্ক ॥ সালমান খানের বিয়িং হিউম্যান ব্র্যান্ডের সিইও মনীশ মান্দানার বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী আন্দ্রিয়া ডিসুজা।

গত ৪ মার্চ আন্দ্রিয়া মুম্বাইয়ের গামদেবী থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। মনীশ মান্দানার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি ৩২৫ ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ৩৩ বছর বয়সি এই মডেল-অভিনেত্রী অভিযোগ করেছেন, ২০১৭ সালের নভেম্বরে মনীশ মান্দানা তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছিলেন। এর ফলে তিনি এক কানের শ্রবণশক্তিও হারিয়েছেন। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে আন্দ্রিনা বলেন, ‘২০১৩ সালের দিকে আমি কাজের জন্য মুম্বাই থেকে দুবাই ছুটোছুটি করতাম। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে মুম্বাইয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করি। ২০১৫ সালে দুবাইয়ে বিয়িং হিউম্যান স্টোরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনীশের সঙ্গে আমার পরিচয়। এরপর আমরা পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করি। ২০১৫ সালের অক্টোবরে আমরা প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চ্যাটিং শুরু করি। আমি জানতাম সে বিবাহিত কিন্তু সে আমাকে বলেছিল, তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না, শুধু সন্তানের জন্য তারা একত্রে থাকছে। আমাদের সম্পর্ক বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে এসে জানতে পারি, একই কথা সে অন্য আরেক নারীকেও বলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাকেও ছেড়ে দিয়েছে। বিষয়টি তার কাছে জানতে চাইলে সে এটি অস্বীকার করে।’

আন্দ্রিয়ার সঙ্গে শারীরিক হেনস্তার ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালে। এ অভিনেত্রী বলেন, ‘একটি পোর্টফোলিও শুটের পর এক বান্ধবী আমার বাড়িতে ছিল। ওইদিন মনীশ যখন আমার বাসায় আসে তখন বান্ধবী যে ঘরে ছিল সরাসরি সেখানে চলে যায় এবং তার পাশে শুয়ে পড়ে। আমি যখন সেই ঘরে যাই, সে আমাকে তাদের মাঝে শুতে বলে। সে যখন দেখে আমি প্রচন্ড বিরক্ত হচ্ছি তখন সে বাসা থেকে চলে যায়। পরের দিন সকালে আমার বান্ধবী জানায়, সে তার সঙ্গে অসদাচরণ করেছে। এরপর বিষয়টি মনীশের কাছে জানতে চাইলে সে আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে। এই ঘটনায় আমার মুখ ফুলে গিয়েছিল। এজন্য বিগ বস-১১ আসরের অডিশনও দিতে পারিনি।’

আন্দ্রিয়া অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা কামাসূত্র থ্রিডি। এ অভিনেত্রীর অভিযোগ, ‘২০১৭ সালের নভেম্বরের দিকে বিষয়গুলো আরো খারাপ হতে থাকে। আমি অন্য এক নারীর সঙ্গে তার তোষামোদ করা চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট পাই। আমি তাকে জানাই-বিষয়টি তার স্ত্রীর কাছে বলব, এতে সে হিংস্র হয়ে ওঠে ও মারধর করে। ঘটনার চার দিন পর চিকিৎসকের কাছে যাই। এরপর আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। আমি হতাশায় ভুগতে থাকি। ছয় মাস পর আমার কাজিন আমাকে জশলোক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে জানানো হয়, আমার ডান কানের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি তার স্ত্রীকে বিষয়টি খুদেবার্তার মাধ্যমে জানাই কিন্তু সম্ভবত তিনি এ কথাগুলো শুনতে উৎসাহী ছিলেন না।’

আন্দ্রিয়া ডিসুজা তার আঘাতের ছবি ও মেডিক্যাল রিপোর্ট পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন। কিন্তু ঘটনার ১৫ মাস পর কেন তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে আন্দ্রিয়া বলেন, ‘আমি সুস্থ হচ্ছিলাম। আর মনীশ ক্ষমতাবান হওয়ায় আমার বন্ধুরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নিরুৎসাহী করে। কিন্তু আমি অবশেষে মানসিকভাবে শক্তি অর্জন করতে পেরেছি এবং সিদ্ধান্ত নিই তার এই ব্যবহারের কথা সবাইকে জানাব। আমি কোনো ক্ষতিপূরণ চাইছি না। আমি ন্যায়বিচার চাই। আমার অভিযোগ গ্রহণ করার জন্য আমি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশ চন্দ্রকান্ত থালে ও তার গামদেবী থানার টিমকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

এ প্রসঙ্গে গামদেবী থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর রাকেশ যাদব সংবাদমাধ্যমটিতে বলেন, ‘আমরা ভিকটিমের জবানবন্দি নিয়েছি এবং একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে মনীশ মান্দানা এখনো কোনো বক্তব্য দেননি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।