২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীতে দশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

রাজধানীতে দশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে দশ বছর পর বহুল আলোচিত কবির হত্যা মামলার পলাতক আসামী অস্ত্র মামলায় দশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত টিকটিকি কামাল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হল। দশ বছর আগে শ্যামপুরে ফিল্মিস্টাইলে কবির হোসেন নামের এক স্থানীয় সন্ত্রাসী হত্যা মামলার প্রধান আসামী এই টিকটিকি কামাল। পলাতক জীবনে আরও হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে কিনা সে বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। চাঁদাবাজির টাকা ভাগবাটোয়া নিয়ে তর্কবিতর্কের পরিকল্পিত নাটক সাজিয়ে কবির হোসেনকে হত্যা করা হয়।

পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ আবুল কালাম আজাদ জনকণ্ঠকে জানান, গত ১২ মার্চ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন জুরাইন মেডিকেল রোড থেকে মোঃ কামাল হোসেন ওরফে টিকটিকি কামালকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়। তার পিতার নাম শাহজাহান মিয়া। বাড়ি শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানাধীন গৌরঙ্গের বাজার গ্রামে। সে পূর্ব জুরাইন মেডিকেল রোডের ৪২৪ নম্বর বাড়িতে নিজের নাম পরিচয় গোপন রেখে আত্মগোপনে ছিল।

পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জনকন্ঠকে জানান, গ্রেফতারৃকত টিকটিকি কামাল সহযোগীদের নিয়ে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। ওই এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করত। তারই প্রেক্ষিতে ওই সময় র্যাব তাকে গ্রেফতার করতে সাঁড়াশি অভিযান চালায়।

ধারাবাহিক অভিযানের এক পর্যায়ে ২০০৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিদেশী পিস্তল ও রিভলভারসহ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে হাতেনাতে র্যাবের হাতে ধরা পড়ে। তার বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় অস্ত্র মামলা হয়। ওই মামলায় কামালের দশ বছরের সাজা হয়। ৪ বছর ৫ মাস জেল থাকার পর উচ্চতর আদালত থেকে কোর্ট জামিনে মুক্ত হয়।

জামিনে মুক্ত হওয়ার এক মাসের মধ্যেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এলাকায় আগের মত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে ও চাঁদাবাজি করতে প্রস্তুতি নিতে থাকে। ওই সময় তার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায় আরেক সন্ত্রাসী কবির হোসেন (২৫)। কবির হোসেনকে ২০০৯ সালের ১৭ জুন রাত সোয়া আটটার দিকে কৌশলে রাজধানীর কদমতলীর শ্যামবাবুর ট্রাকের গ্যারেজের ভেতরে নিয়ে যায়।

সেখানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কবির হোসেনের সঙ্গে চাঁদাবাজির টাকা ভাগবাটোয়ার নিয়ে নিজেদের মধ্যে টিকটিকি কামাল, রাসেল ওরফে রাজাকার রাসেল, লিটন ও জসিম উদ্দিন ওরফে দোহান তর্কবিতক শুরু করে। কবির হোসেন সেখান থেকে যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেলে চড়ে বসে।

এ সময় লিটন কবিরের শার্টের কলার ধরে শ্যামবাবুর ট্রাকের গ্যারেজের ভেতরে নিয়ে যায়। নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকটিকি কামাল কোমরে থাকা পিস্তল দিয়ে কবিরের ঘাড়ে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই কবির মারা যায়। কবিরের পিতার নাম আব্দুল জলিল। বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানাধীন ধানীখোলা এলাকার মহিষাটেকী গ্রামে।

এ ঘটনায় কবিরের বড় ভাই মোঃ নজরুল ইসলাম (৪০) বাদি হয়ে অজ্ঞাত খুনীদের আসামী করে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কদমতলী থানা পুলিশ তদন্ত শেষে আসামী টিকটিকি কামালকে পলাতক দেখিয়ে আদালতে চার্জশীট দেয়।

আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবিকে দেয়। ডিবি পুলিশও আসামীকে পলাতক দেখিয়ে আদালতে চার্জশীট দেয়। এরপর মামলাটির তদন্ত দেয়া হয় পিবিআইকে। ঢাকা মেট্রো উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ কামাল হোসেন মামলাটির তদন্ত করেন।