২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদেশি চ্যানেলে থেকে নামমাত্র রাজস্ব পাচ্ছে সরকার

বিদেশি চ্যানেলে থেকে নামমাত্র রাজস্ব পাচ্ছে সরকার

অনলাইন রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের জনপ্রিয়তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আর এ জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে বিজ্ঞাপনের বড় বাজার, অথচ সেখান থেকে নামমাত্র রাজস্ব পাচ্ছে সরকার।

অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো) বরাতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় পাঁচ কোটি টিভি গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি বছর প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়। এর ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিলে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরকারের আদায় হয়; যার একটি বড় অংশ বিদেশি চ্যানেলগুলোর কাছ থেকে আসার কথা। কিন্তু সরকার তা পায় না।

অভিযোগ আছে, বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে দেশের টাকা ‘অবৈধভাবে’ বিদেশে ‘পাচার’ হয়।

এ অবস্থায় সরকার বাংলাদেশে ডাউনলিংকপূর্বক সম্প্রচারিত সকল বিদেশি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে বিদেশি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি থেকেই যাচ্ছে।

যদিও ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন-২০০৬ এর ধারা ৯ -এর ১৩ নং উপধারায় বিদেশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের পরিষ্কার উল্লেখ করা এই নীতি ২০০৬ ও পরে ২০১০ সালে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

যেখানে স্পষ্ট বলা হয়, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনে বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তাই প্রশ্ন উঠছে, সরকারের জারি করা নির্দেশে যদি শুধু দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধের কথা থাকে, তবে সেটা বাংলাদেশের টেলিভিশন এবং বাংলাদেশে বিজ্ঞাপনের বাজারের জন্য কতটা স্বার্থের অনুকূলে? যেখানে বিদেশি চ্যানেলে কোনরূপ বিজ্ঞাপন প্রচার করার কথা নয়!

টেলিভিশন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য বিদেশি কোন চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না- এটা দুই বছর আগের পরিপত্র। এই নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য সম্প্রতি আবারও বলা হয়েছে। মূলত এখানে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। আইনে ডাউনলিংকপূর্বক বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের বিষয় উল্লেখ থাকলেও শুধু দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধের কথা প্রচার করা হচ্ছে। আর এটা যদি হয়, তবে বাংলাদেশের সম্প্রচার খাত খুব বেশি লাভবান হবে না।

‘বাংলাদেশে ডাউনলিংক ওয়েতে যেসব বিদেশি চ্যানেল দেখানো হচ্ছে, সেখানে প্রচুর পরিমাণে বিদেশি বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। কিছু বহুজাতিক কোম্পানি যদি এখন বাংলাদেশে বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় বা অন্য দেশের বিজ্ঞাপন চালু করে দেয়, তবে বাংলাদেশের মিডিয়াতে তারা যে বিজ্ঞাপন দিতো সেটা আর দিবে না। কারণ, বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে তো তারা ভোক্তা পেয়েই যাচ্ছে। ফলে সরকারের নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে এ খাত তেমন লাভবান হতে পারছে না বা পারবে না। বরং বলা যায়, যে লাউ সেই কদু অবস্থা।’

তারা আরও বলছেন, বাংলাদেশের দর্শকরা ফি দিয়ে বিদেশি চ্যানেল দেখুক, সেখানে কোনও বাধা নেই। কিন্তু তারা বিজ্ঞাপনহীন (ক্লিনফিড) দেখুক। যেটা সরকারের আইনে উল্লেখ আছে। এটা বিশ্বের সব জায়গায় আছে। এটা করা হলে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপনী বাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর অবদান টিকে থাকবে। বাঁচবে টিভি শিল্প।

সূত্র মতে, টেলিভিশন মিডিয়ায় বাংলাদেশের বর্তমান বিজ্ঞাপনের বাজার এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকার। সরকার যদি এখন ক্লিনফিড চ্যানেল দেখার বন্দোবস্ত করে দেয় অর্থাৎ বিজ্ঞাপন ছাড়াই বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য বিদেশি চ্যানেল দেখার সুযোগ করে দেয়, তবে এই বাজারে আরও ৫০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন বাড়বে। যা সরকারের রাজস্ব বাড়াতেও সাহায্য করবে।

কিন্তু আইনের প্রয়োগের অভাবেই সেটা হচ্ছে না। সরকার তথা বিটিআরসি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের যা যা দেখভাল করার কথা, সেটাও হচ্ছে না। সরকারের সংশ্লিষ্টরা এক্ষেত্রে চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এতে আমাদের দেশীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে পড়ছে, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

অবশ্য দুইদিন আগে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ আবারও এ ব্যাপারে জোর নির্দেশনা দিয়েছেন। অ্যাটকোর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিদেশি কোনও চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আগামী ১ এপ্রিলের পর থেকে কেউ যদি এই আইন ভঙ্গ করে, তবে সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

তাই দেশীয় টিভি চ্যানেল খাতকে বাঁচাতে হলে সরকারের আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন দরকার।