১৮ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১২ এপ্রিল সারাদেশে সিনেমাহল বন্ধ ঘোষনা প্রদর্শক সমিতির

১২ এপ্রিল সারাদেশে সিনেমাহল বন্ধ ঘোষনা প্রদর্শক সমিতির

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের চলচ্চিত্র ব্যবসায় দূরাবস্থার কারণে ১২ এপ্রিল সারাদেশে সিনেমাহল বন্ধ ঘোষনা করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। এ উপলক্ষে রাজধানীর রিপোর্টারস ইউনিটি মিলনায়তনে আজ বুধবার সকালে প্রদর্শক সমিতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষনা দেয়া হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ, প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাশ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান উপদেষ্টা মীর্জা আবদুল খালেক, আবুল হোসেন, মিয়া আলাউদ্দিন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাশ। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র ব্যবসায় দূরাবস্থা কাটিয়ে উঠার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আমরা তথ্যমন্ত্রী ও তথ্য সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কিন্তু তারা সুনির্দিষ্টভাবে সিনেমাহল গুলিকে বাচানো, দেশীয় ছবির উৎপাদন বাড়ানো ও উপমহাদেশীয় ছবি আমদানির বাধাসমূহ অপসারণের কোন কার্যকর পথনির্দেশ দিতে পারেননি। সিনেমাহল ১২শ পয়ত্রিশ থেকে ১শ চুয়াত্তরে নেমে আসা, দেশীয় ছবি নির্মানের সংখ্যা পয়ত্রিশ-চল্লিশটাতে নেমে যাওয়ার পরও পরিচালক এবং শিল্পীদের রুজী রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে কেবলমাত্র এই অজুহাতে উপমহাদেশীয় ছবি আমদানীর বিরোধীতা করা হচ্ছে।

তারা দীর্ঘ ৪৭ বছর প্রটেকশন পাওয়ার পরও ছবির গুনগত মান নীচের দিকে যাচ্ছে ক্রমাগত। অথচ এটা ধ্রুব সত্য যে পাকিস্তান আমলে ভারতীয় বাংলা/ হিন্দী এবং পাকিস্তানী উর্দূ ছবির সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা যেমন করেছে, তেমনি শিল্পমানসম্পন্ন ছবিও হয়েছে। প্রতিযোগিতার অভাবে ছবির গুনগত মান নিম্নমূখী হয় এটাই বাস্তব সত্য। প্রদর্শক এবং প্রযোজকের পূঁজি ধ্বংস হয়েছে, সিনেমাহলের পঞ্চাশ হাজার শ্রমিক পরিবার বেকার হয়েছে, চলচ্চিত্রের বাজার নষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে, নতুন পূঁজি বিনিয়োগ হচ্ছে না, এমনটি মেধাসম্পন্ন বানিজ্যিক ছবির নতুন পরিচালক এবং শিল্পীও আসছেন না।

যখন থেকে আমরা উপমহাদেশীয় ছবি আমদানির দাবী করে আসছি, তখন থেকে আমাদেরকে আশ্বস্থ করা হচ্ছে, ভাল পরিচালক আসছেন, আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তার উদাহরণ কি সিনেমাহলের অবস্থা ১শ চুয়াত্তরে নেমে আসা এবং দেশীয় ছবির নির্মানসংখ্যা পয়ত্রিশে নেমে এসেছে।

এই নেতিবাচক অবস্থা এবং অসহায়ত্ব থেকে উত্তরণের আশা আমরা বহুদিন ধরেই করে আসছি। কিন্তু আর ধৈয্য ধারণের সুযোগ নেই। আগামীতে ব্যবসাসফল হতে পারে সম্ভাব্য এমন ছবিও আমাদের সামনে আছে বলে আমরা আশ্বস্ত হতে পারছি না। সিনেমাহল বন্ধের জন্য মালিকদের উপর দোষারোপ করে হাস্যস্পদ যুক্তির অবতারণা করা হচ্ছে, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য।

পাশাপাশি উচ্চহারের বিদ্যুতবিল. শ্রমিক কর্মচারির বেতনসহ অন্যান্য খরচের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকায় প্রতিটি সিনেমাহল মালিকদের লোকসানের পরিমান বাড়ছে। এই অসহনীয় এবং নেতিবাচক অবস্থায় সিনেমাহল বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আমাদের সামনে কোন কার্যকর বিকল্প নেই। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ১২ এপ্রিল ২০১৯ থেকে সারা দেশে সিনেমাহল বন্ধ করে দেব।

অনেক দিন থেকেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সিনেমাহল মালিকদের কাছ থেকে চাপ আসছিল, কিন্তু আমরা সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি বলে ধৈর্য্য ধরে এতদিন অপেক্ষা করছি। কিন্তু যারা ধৈর্য্য ধরতে পারেননি তারা অসহায় হয়ে আগেই হল বন্ধ করে দিয়েছে। এপরও আমরা সকল মহলের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, বাস্তবতা উপলব্দি করে বৃহত্তর স্বার্থে এগিয়ে আসার জন্য।

সিনেমাহল সাময়িক বন্ধ থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, চুড়ান্ত সিদ্বান্ত হয় নাই যে আমরা ক্রমাগত বন্ধ রাখব কিনা। হল মালিকদের নিয়ে সাধারণ সভায় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তিনি বলেন, আমরাতো ব্যবসায়ী, শ্রমিক বা কর্মচারী না যে সাদা কাফনের কাপড় বেঁধে হলে গিয়ে ঢিল মারবো। একটা ফোরামের মধ্যদিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমরা আশাই আছি সবারইন শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।

ভারতীয় ছবি আমদানির ক্ষেত্রে তিনি বলেন, হলিউডের সাথে ঢাকায় যদি ছবি রিলিজ হয়, তাহলে কলকাতার সাথে ঢাকার ছবি রিলিজ হবে না কেন? ভারতীয় ছবি বলে নয়, আমাদের সিনেমাহল মালিকদের প্রস্তাব হচ্ছে, প্রতি সপ্তাহে ছবি আসবে, সেই ছবি চালাবো। সেটা ভাল হতে পারে আবার খারাপ হতে পারে। মাঝে কিছুটা ভালর দিক ছিল জয়েন্ট ভেঞ্চারের ছবি নিয়ে। কিন্তু এতো নিক্তি দিয়ে মেপে কোন কাজ করা সম্ভব নয়। সে কারণেই কোন জয়েন্ট ভেঞ্চারের ছবি করতে কেউ আগ্রহী হচ্ছে না। পরিচালক ও শিল্পী সমিতি আন্দোলন করে।

এখন যদি সব সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে খুব ভাল ছবি হলেও তারা চালাবে কোথায়। আমাদের শ্লোগান হচ্ছে ‘সিনেমা হল বাঁচলে চলচ্চিত্র বাঁচবে’।