১৯ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২০-২১ মার্চ তিস্তা রোডমার্চ সফল করতে সংবাদ সম্মেলন

  ২০-২১ মার্চ তিস্তা রোডমার্চ সফল  করতে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব সংবাদদাতা, রংপুর ॥ তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বাসদ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ঊদ্যোগে আগামী ২০-২১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বগুড়া-তিস্তা ব্যারেজ রোডমার্চ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় স্থানীয় সুমি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাসদ জেলা সমন্বয়ক কমরেড আব্দুল কুদ্দুস। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, নওগাঁ জেলা বাসদ সমন্বয়ক জয়নাল আবেদীন মকুল প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বাসদ সদস্য সচিব মমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নদীমাতৃক বাংলাদেশ আজ মরুকরণের হুমকীর মুখে। উজানে ভারত কর্তৃক একতরফা পানি সরিয়ে নেয়ার আগ্রাসী তৎপরতা ও আমাদের সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, নদ-নদী-পানি সম্পদ সম্পর্কে ভ্রান্তনীতি ও দখল-দূষণে সহস্রাধিক নদী কমে ২৩০-এ নেমে এসেছে। খরা মৌসুমে বেশিরভাগ নদীতে পানি থাকে না। বাংলাদেশের সীমানা থেকে প্রায় ৭০ কি.মি. উজানে গজলডোবায় বাঁধ দেয়ার কারণে শুষ্ক মৌসুমে ২০১১খ্রি. পর থেকে ভারত সরকার তিস্তা নদীতে পানি ছাড়ছে না। খরা মৌসুম আসতে না আসতেই পানি প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে তিস্তায় গড়ে পানি প্রবাহ ছিল ১০০০ কিউসেক। ঐতিহাসিক গড় (১৯৭৩-১৯৮৫) অনুযায়ী পানির প্রবাহ থাকার কথা কমপক্ষে ১০ হাজার কিউসেক। আমরা আরো বেশি উদ্বিগ্ন হচ্ছি যে,গত ৭মার্চ ২০১৯ ভারত সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে তিস্তার উৎপত্তিস্থল সিকিমে নতুন বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে। ৫,৭৪৮.০৪ কোটি রুপি ব্যয়ে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সিকিমের সিরওয়ানি গ্রামে ২৬.৫ মিটার উচ্চতা সম্পন্ন বাঁধটি নির্মাণ হবে (তথ্যসুত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১১ মার্চ ২০১৯)। তিস্তা ব্যারেজের বিভিন্ন ক্যানেলের মাধ্যমে সেচ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী কমান্ড এলাকায় ১ লক্ষ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে যে সেচ সুবিধা প্রদান করা হতো; এখন তা কমে শুধু নীলফামারীতে ৮ হাজার হেক্টরে নেমে এসেছে। শুধু তিস্তার পানিই সমস্যা নয়, ভারতের সাথে অভিন্ন ৫৪টি নদীসহ ৫৭টি আন্তর্জাতিক নদীর পানি বন্টনের সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করা দরকার।

এ ছাড়া অভিন্ন নদীর অববাহিকার অন্তর্ভুক্ত দেশের ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণ, পানির ব্যবহার নিয়ে বিরোধ, পরিবেশ রক্ষার সমন্বিত ও যৌথ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য চীন, ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভূটানের সাথে যৌথ কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার আর সরকারের নতজানু নীতির প্রতিবাদে এবং তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলÑবাসদ-এর পক্ষ থেকে আগামী ২০ মার্চ বুধবার বগুড়া সাতমাথা থেকে সকাল দশটায় রোডমার্চ উদ্বোধন করবেন দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সংগ্রামী জননেতা কমরেড খালেকুজ্জামান। পথে পথে গংসংযোগ,সভা-সমাবেশ শেষে রোডমার্চে অংশগ্রহণকারীগণ রাত্রি যাপন করবেন রংপুরে। পরের দিন ২১শে মার্চ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির মাঠ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হতে রোডমার্চের যাত্রা শুরু হবে।পাগলাপীর,বড় ভিটা, জলঢাকা, চাপানী হাট হয়ে বিকেল ৩টায় তিস্তা ব্যারেজ সাধুর বাজারে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।