২১ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডাকসু পুনর্নির্বাচন নয়-নতুনদের বরণ করছে কর্তৃপক্ষ

ডাকসু পুনর্নির্বাচন নয়-নতুনদের বরণ করছে কর্তৃপক্ষ

মুনতাসির জিহাদ ॥ দীর্ঘ ২৮ বছরের জড়তা কাটিয়ে গত ১১ মার্চ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন কেন্দ্র করে কয়েকটি প্যানেল আন্দোলনের ডাক দিলেও বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়ে ডাকসুর কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়ার দিকেই এগুচ্ছে। শীঘ্রই একটি সভার মাধ্যমে দায়িত্ব অর্পণের কথা জানিয়েছেন বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান। কোটা সংস্কার আন্দোলন মোর্চার বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বতন্ত্র স্বাধিকার প্যানেল ও বাম মোর্চার প্রগতিশীল ছাত্র জোটসহ কয়েকটি প্যানেল ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের জন্য বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগ ডাকসুতে ২৩টি পদে ও অধিকাংশ হল সংসদে পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে জয়লাভ করে। কিন্তু ডাকসুর ভিপি ও সমাজসেবা পদে কোটা সংস্কার প্যানেলের প্রার্থীদের কাছে হেরে যায় ছাত্রলীগ মনোনীত প্রার্থীরা। কোটার সংস্কার আন্দোলনের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর এই পাঁচটি প্যানেলের আন্দোলনকে সমর্থন জানালেও দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ডাকসুর ভিপি পদে থেকে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কাজ করতে চান জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন নুরুল হক নূর। সেখানে তিনি জানান যে দায়িত্ব নেয়ার প্রশ্নে তিনি এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে এত কারচুপির মধ্যেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমার পক্ষে কাজ করেছে। তারা আমাকে ভোট দিয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি, তাদের মোটিভ কী, তারা কী চাচ্ছে সেটা বোঝার চেষ্টা করছি। তারা যদি চায় যে আমি ভিপি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তাদের জন্য লড়াই সংগ্রাম করি, তাহলে আমি সেটা করব।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সব পদে নির্বাচন চান তিনি। গত বুধবার আন্দোলনরত প্যানেলগুলোকে নিয়ে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেন তিনি। গতকাল রোকেয়া হলে পুনরায় নির্বাচন ও হল প্রাধ্যক্ষের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থন দেন নূর। ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।

কোটা সংস্কার আন্দোলন প্যানেলের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেলের প্রার্থীদের নিয়ে রোকেয়া হলের অনশনরত প্রার্থীদের সঙ্গে একতম পোষণ করেন তিনি। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪/৫ জন শিক্ষার্থীও যদি অনশন করে, তবে তার একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ করছে, তাতে আমি নৈতিকভাবে প্রতি সমর্থন দিয়েছি, এখনও দিচ্ছি।

নবনির্বাচিত ভিপি নূরও রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি বলেন, তিনি আমাকে এবং ছাত্রীদের দেখে নেয়ার যে হুমকি দিয়েছেন, তাতে করে তিনি আর ওই পদে থাকতে পারেন না। তার অবশ্যই পদত্যাগ করা উচিত। অনশনকারীদের সঙ্গে একমত হয়ে ভিসি মহোদয়কে বলেছি যে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ম্যামের বিরুদ্ধে যেহেতু অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, তাই উনাকে পদত্যাগ করতে হবে।

এদিকে নির্বাচনের আগে থেকেই নতুন রূপে সাজানো হয়েছে ডাকসু ভবন। ভবনের ভেতরের ও বাইরের দেয়ালে রং করে আঁকা হয়েছে বিভিন্ন রকমের কারুকার্য। নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ডাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় মোট ৮টি কক্ষে এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে জানা যায়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, নিয়মানুযায়ী একই তারিখে ডাকসু ও সকল হল সংসদে নির্বাচিতদের নিয়ে মিটিং হবে। প্রভোস্টদের সঙ্গে কথা বলে খুব শীঘ্রই তারিখটা নির্ধারণ করা হবে। তবে অভিষেক অনুষ্ঠান আরও পরে হবে।

ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনা একটি ‘মিস কনসেপশন’: রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ॥ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে রোকেয়া হলের একটি কক্ষে তিন ট্রাঙ্ক ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। ওই হলে ডাকসু নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্লাবে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। তিনি বলেন, আমরা সেদিন হল সংসদের প্রার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যালট বাক্স দেখানোর পরে নির্বাচন শুরু করেছিলাম। তাই একটি রুম থেকে ব্যালট পেপার উদ্ধারের ঘটনা সম্পূর্ণ ‘মিস কনসেপশন’।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন রোকেয়া হলের হাউস টিউটর দিল আরা জাহান। এ সময় আলোচিত সেই তিনটি ব্যালট বাক্সও দেখানো হয়। ব্যালট পেপার উদ্ধারের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাক্সগুলো অডিটরিয়ামে পাওয়া গিয়েছিল, সেটা তো ভোটকেন্দ্রের অংশ। ভেতরের ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার পর ব্যবহারের জন্য সেখানে রেখেছিলাম।

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, কোন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়নি। আমি প্রভোস্ট হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা করিনি। আমি মামলার কথা জেনেছি গণমাধ্যম থেকে।

নির্বাচনের দিন সকালে ছয়টি ব্যালট বাক্স প্রার্থীদের সামনে খুলে দেখানোর পর নির্বাচন শুরু হয়। কিন্তু বেলা ১২টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিযোগ করেন, কিছু ব্যালট পেপার সিলগালা করে হলের একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে শরগোল সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ, কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা উপস্থিত হন। বেলা ১টার দিকে নির্বাচন স্থগিত করে দুপুর ৩টা থেকে আবারও নির্বাচন শুরু করার ঘোষণা দেয়া হয়।

রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ড. জিনাত হুদাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মারজুকা রায়না বাদী হয়ে গত সোমবার মামলাটি করেন। সোমবার রাতেই প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ নির্বাচন বাতিলের দাবিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের একাংশ হলের ভেতরে বিক্ষোভ করেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাত থেকে চার দফা দাবিতে অনশনে বসেন রোকেয়া হলের পাঁচ শিক্ষার্থী। তবে এর মধ্যে চারজনই হল সংসদের বিভিন্ন পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

অনশনকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রক্টরিয়াল টিম রয়েছে। আমি নিজেও আবাসিক শিক্ষকদের পাঠিয়েছি, যেন ওদের নিরাপত্তায় কোন ব্যাঘাত না ঘটে। অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচন দেয়ার এখতিয়ার কোন প্রাধ্যক্ষের নেই।