২৭ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আধুনিক, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার কাজ শুরু মেয়র আতিকের

আধুনিক, পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার কাজ শুরু মেয়র আতিকের
  • নিয়েছেন নানা পরিকল্পনা

মশিউর রহমান খান ॥ দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নগরের থমকে থাকা উন্নয়নে গতি আনতে বেশ জোরেশোরেই মাঠে নেমে পড়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নব নির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম। আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সুন্দর ঢাকা গড়তে দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই শুরু করে দিয়েছেন নগর সাজানোর কাজ। এদিকে দায়িত্ব পালনে কোন প্রকার গাফিলতি ও যে কোন প্রকার দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না মেয়রের এমন কঠোর ঘোষণার পর পুরোদমে নড়েচড়ে পূর্বের ন্যায় কাজে নেমে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এক সময় অনেকটা অলস সময় পার করা সিটি কর্পোরেশনের পিয়ন থেকে শুরু করে ক্লিনার ঝাড়ুদারসহ সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরাও গা ঝাড়া দিয়ে মেয়রের সঙ্গে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক ২০১৭ সালে ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে লন্ডন গিয়ে পরে হঠাৎ অসুস্থ অবস্থায় ৩০ নবেম্বর তার মৃত্যুর পর রাজধানীর অতি গুরুত্বপূর্ণ অপর সিটি কর্পোরেশনটির সার্বিক উন্নয়ন কর্মকা-ই এক প্রকারে থমকে গিয়েছিল। নামমাত্র দায়িত্ব পালন আর রুটিন ওয়ার্ক করেই কোনমতেই সময় পার করেই সময় কাটাচ্ছিলেন ভারপ্রাপ্ত ও প্যানেল মেয়রগণ। সেই অবস্থা থেকে উঠে আসতে সুদূরপ্রসারি স্বল্প মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে বিশাল কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তবে মেয়র ইতোমধ্যে তিন পর্বের মধ্যে স্বল্পমেয়াদী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে মাঠে নেমেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

১০ মার্চ সকালে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে চেয়ারে বসার পরপরই কর্পোরেশেনের উর্ধতন কর্মকতাদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন আতিকুল ইসলাম। সকল কর্মকর্তাদের কাছে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। একইদিন দুপুরেই সাংবাদিকদের ডেকে নগরের উন্নয়নে কি কি পরিকল্পনা রয়েছে তার বিস্তারিত তুলে ধরেন ও সকল কাজে সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ সহায়তা কামনা করেন। একই সঙ্গে ডিএনসিসির উন্নয়নে সীমানায় বসবাসকারী ও চলাচলকারী সকল শ্রেণীর নাগরিকদের তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহায়তা কামনা করেন তিনি।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, নগরীকে নতুন করে সাজাতে নিয়েছেন নানা পরিকল্পনা। নির্বাচনের সময় দেয়া ইশতেহার ও এর বাইরেও নগরীতে বিভিন্ন সময়ে ঘটা সকল সমস্যার সমাধানকল্পে কাজ করে যাবেন অবিরত। এরই অংশ হিসেবে ১০ মার্চ সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন তার কর্মপরিকল্পনা। তিন মেয়াদী কর্মপরিকল্পনার মধ্যে স্বল্প মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। প্রাথমিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জানা গেছে, আতিকুল ইসলাম প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের রেখে যাওয়া সকল অসমাপ্ত অর্ধসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবেন। নাগরিক উন্নয়নে গৃহীত সকল প্রকল্পই সর্বোচ্চ বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন। এর বাইরে মেয়র হিসেবে নিজেও নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। ঢাকাকে সুন্দর করে সাজাতে ও দৃষ্টিনন্দন করে বিশ্ববাসীর কাছে গড়ে তুলতে বিরামহীন ছুটবেন। নাগরিকদের স্বার্থে, উন্নয়নের স্বার্থে যেখানেই যেতে হয় সেখানেই তিনি যেতে প্রস্তুত। আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, নগরকে সাজাতে ও পরিচ্ছন্ন সুন্দর ঢাকা গড়তে জনগণের প্রতিনিধি নগর পিতা বা মেয়র হিসেবে নয়, নগরের সার্বিক উন্নয়নে আমি জনগণের জন্য কামলা বা কামলার সহযোগী মানে জোগালি হিসেবে পাশে থাকতে চাই। একসঙ্গে জনগণকে নিয়েই তিনি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য সুন্দর ঢাকা গড়তে চান।

ডিএনসিসিকে পরিবর্তনের লক্ষ্যে ও নাগরিকদের সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদানের জন্য নতুন মেয়র বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান। এর মধ্যে নাগরিকদের সমস্যায় পড়লে বা কোথায় কাকে কি বলতে হবে ও সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ হটলাইন চালু করবেন। যার মাধ্যমে যে কোন সমস্যায় তাৎক্ষণিক সাড়া দেবে নগর কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএনসিসির বিরুদ্ধে চলমান নানা দুর্নীতি বন্ধ করতে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করবেন, ডিএনসিসিকে পরিচ্ছন্ন করতে উৎসাহ বৃদ্ধি ও সচেতনতামূলক কাজ করতে আগামী ১৭ মার্চ থেকেই নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিটি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করবেন। আগামী ১ এপ্রিল থেকে সকল অবৈধ বিলবোর্ড, পোস্টার ও দেয়াল লিখনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করবেন। বন্ধ হয়ে থাকা ও ব্যবহার উপযোগী করে অতি দ্রুতই কয়েকটি পার্ক ও খেলার মাঠ জনগণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেবেন। সিটি কর্পোরেশনের জমি দখল নতুন কিছু নয় এ থেকে উত্তরণের জন্য ডিএনসিসির সকল জমি অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করবেন। দিন ও রাতের বেলায় যানজট সৃষ্টিকারী রাস্তার ওপর রাখা সকল প্রকার বাস, ট্রাক, লেগুনা, রিক্সা অটোরিক্সাসহ সকল যানবাহনকে যার যার স্থানে সরিয়ে বাসস্ট্যান্ডে ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া আনিসুল হকের উচ্ছেদ করা তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ড পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে নেবেন তিনি। ডিএনসিসির সঙ্গে যুক্ত হওয়া ৮ ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ পরিকল্পিত উপায়ে গড়ে তুলবেন। রাজধানীর গুলশান ও বনানী বারিধারার মতো এসব ইউনিয়নের সকল রাস্তাঘাট, পার্ক ও খেলার মাঠসহ সকল অবকাঠামোগত উন্নতি করবেন। নগর এ্যাপ পুনরায় চালু করে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই সেবা প্রদান ও সহযোগিতা করবেন।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, নগরকে বিশ্বের যে কোন শহরের ন্যায় আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে মেয়র বদ্ধপরিকর। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মেয়র নানা দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সূত্র জানায়, আতিকুল ইসলাম ডিএনসিসির সকল রাস্তা ও ফুটপাথকে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করবেন। এমনকি রাস্তার ওপর কোন প্রকার নির্মাণ সামগ্রী রেখে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রাস্তার ওপর ফেলে রাখা নির্মাণ সামগ্রীর কারণেই সংস্থাটির ড্রেনগুলো ভরে যাচ্ছে। তাই তা তিনি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে চান। যে কোন নাগরিক বাড়ি বা যে কোন প্রকার স্থাপনা নির্মাণের সময় ফুটপাথ বন্ধ রাখা ও শব্দদূষণ, ধূলিদূষণ যাতে না হয় তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে ও তা পুরোপুরি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। মেয়র ফুটপাথ বন্ধ রেখে দখল করে কাজ করাকে কোনভাবেই মেনে নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। নাগরিকদের চলাচলের পথ ফুটপাথকে নাগরিকদের ফিরিয়ে দিতে ফুটপাথ সবসময়ই খোলা রাখতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবেন। যা সবসময়ই চলবে। যেখানেই সমস্যা সেখানেই তিনি যেতে চান। মেয়র স্পটে বসেই সমাধানের চেষ্টা করতে চান।

শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে রাস্তার দুপাশের দেয়ালে কোন প্রকার দেয়াল লিখন চলবে না। যেসব দেয়াল লিখন পোস্টার ও অবৈধ বিলবোর্ড স্থাপন করা আছে মার্চ মাসের মধ্যেই এসব অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। অন্যথায় আগামী ১ এপ্রিল বিশেষ ক্রাস প্রোগ্রাম পরিচালনা করে নগরের সকল দেয়াল পরিচ্ছন্ন করবে ডিএনসিসি। নগর নোংরাকারীদের উদ্দেশে মেয়রের বক্তব্য নিজের স্বার্থ রক্ষায় শহরকে কোনক্রমেই নোংরা অপরিচ্ছন্ন করতে পারেন না কোন নাগরিক। যেসব নাগরিক তাদের বাড়ির ছাদে, বেলকনিতে বা বাড়ির সামনে সবুজায়ন বা বনায়ন করবেন তাদের বিশেষ কর সুবিধা প্রদান করা হবে। নগরীর প্রতিটি মোড় ও ফুটপাথকে ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করা হবে। ডিএনসিসি সূত্র জানায়, সংস্থাটির সঙ্গে নতুন যুক্ত হওয়া ৮টি ইউনিয়নে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ হাজার ২ শত কোটি টাকার রাস্তা, ফুটপাথ লাইট ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে বিশেষ প্রকল্প নিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া এসব এলাকায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আরও ৭ শত কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকা- সম্পাদন করবে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।

কর ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে মেয়র ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কর আদায়সহ কর্পোরেশনের সকল অর্থ আদায় বন্ধ করতে চান। কোন নাগরিককে যেন কর প্রদান করতে বা এ নিয়ে সহযোগিতা পেতে কোন ক্রমেই সিটি কর্পোরেশনের দ্বারস্থ হতে না হয় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এরই অংশ হিসেবে সকল প্রকার কর ঘরে বসেই দিতে ও ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে কর আদায় করতে অতি দ্রুতই হোল্ডিং ট্যাক্স অটোমেশন করবে সংস্থাটি।