১৬ জুন ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু চিরদিনের

  • নাজনীন বেগম

হোসনে আরা শাহেদ রচিত ‘বঙ্গবন্ধু চিরদিনের’ ও ‘টুঙ্গিপাড়ার খোকা’ নামে দুটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে গত বইমেলায়। ঐতিহ্যিক বাংলা ভাষা ও আমাদের গৌরবের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যার নাম, ব্যক্তিত্ব ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা জড়িয়ে আছে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সঙ্গত কারণে গ্রন্থ দুটির রূপকার ভাষা ও স্বাধীনতার মহিমান্বিত পর্বটির সঙ্গে এক, অভিন্ন সুতায় গেঁথে দেন জাতির জনকের জন্ম, বেড়ে ওঠা, নিজেকে তৈরি করা সঙ্গে আবহমান বাংলা ও বাঙালীর চিরায়ত বোধ আর সংস্কৃতিকে লালনের যুগান্তকারী পর্যায়ের ঘটনা পরম্পরা। যে ঐতিহাসিক বিচিত্র বিষয় সম্ভার বাঙালীর প্রতিদিনের জীবনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায় সেখানে জাতির জনক এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্বই নন তার চেয়েও বেশি সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের এক যুগস্রষ্টা মহানায়কও বটে। লেখক ‘টুঙ্গিপাড়ার খোকা’ বইটি শুরু করেন ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্ম নেয়া এই ঐতিহাসিক নায়কের অতি বাল্যকাল থেকে বেড়ে উঠতে থাকা এক শিশুর বৈচিত্রিক জীবনের হরেক রকম কাহিনীর মধ্য দিয়ে। এই ক্ষণজন্মা মহামানবের বর্ণাঢ্য পথপরিক্রমাকে নিয়ে আসতে গেলে শ্যামল বাংলার নদীবিধৌত গোপালগঞ্জের ছোট টুঙ্গিপাড়া গ্রামটি অনিবার্যভাবে গল্পের মূল মর্মার্থে ঝঙ্কৃত হয়। সদ্য মাতৃজঠর থেকে পৃথিবীর আলো দেখা এক অবোধ শিশুর মুষ্টিবদ্ধ হাত আর কান্না যেন জানান দেয় পৃথিবীর সব অভিশাপ মুছে ফেলার দৃপ্ত প্রত্যয়। স্নেহ ও মমতাময়ী জননী পুত্রকে জড়িয়ে ধরে ডাকলেন ‘খোকা’ বলে। হোসনে আর শাহেদ আপন মাতৃত্বের মহিমায় বঙ্গবন্ধুর মায়ের যে অনাবিল অনুভব আর আনন্দ পাঠককে উপহার দিলেন সে জন্য লেখকের পাওনা অভিনন্দন আর সাধুবাদ। নৈসর্গিক বৈভবে সমৃদ্ধ বাংলার রূপ মাধুর্যের নির্মল প্রতিবেশে ‘খোকার’ বেড়ে ওঠাও যেন ছিল এক শিশুর বালক থেকে কৈশোর পদার্পণ করার এক নান্দনিক যাত্রা পথ। গাছ-গাছালি, ফুল-ফুলের ছায়াঘন স্নিগ্ধ মনোরম আবহে আস্তে আস্তে বড় হওয়া খোকা প্রকৃতির কোলে লালিত মানুষদেরও এক অকৃত্রিম ভালবাসা আর মমতায় জড়িয়ে নিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মবার্ষিকীতে এই এক অনন্য সম্পদ যেখানে প্রচ্ছন্নভাবে নিবিড় হয়ে আছে একজন খোকার প্রকৃতি, দেশ আর মানুষের প্রতি পরম দায়বদ্ধতাই শুধু নয় বরং অন্যায়, অবিচার আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ারও এক অনমনীয় বোধ। যে সমৃদ্ধ চেতনায় বঙ্গবন্ধু জীবনব্যাপী তাড়িত হয়েছেন। দেশ ও সাধারণ মানুষের অধিকার আর ন্যায্য দাবি আদায় করতে গিয়ে নিজের মূল্যবান জীবনকেও কখনও তোয়াক্কা করেননি। দুর্বল আর অসহায় মানুষদের প্রতি এই দেশ নায়কের হৃদয়-প্রাণ সব সময়ই সমর্পিত হয়েছে। একদিন টুঙ্গিপাড়ার ক্ষুদ্র সীমানা পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুকে যেতে হয় কলকাতার বৃহত্তর পরিবেশে। নবজাগরণের সমৃদ্ধ সময়ে কলকাতার পরিবেশ ছিল জ্ঞানী-গুণী আর দেশ নেতাদের এক অনন্য পীঠস্থান।

সময়টা ছিল একেবারে স্বদেশী ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এক বিক্ষুব্ধ আবহ। ফলে স্বদেশী ভাবনায় নিজেকে শুধু জড়িয়ে নেয়াই নয় তার চেয়েও বেশি নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ভক্ত বনে যাওয়া সেও এক জীবনের যুগান্তকারী পর্ব।

লেখক ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহ অত্যন্ত সাবলীল এবং সুচিন্তিত অভিমতে পাঠকের সামনে নিয়ে আসেন সেখানে সময়ের প্রজন্ম অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে সমৃদ্ধ হবে। শুধু তাই নয় সমকালীন সমাজের এক স্বচ্ছ প্রতিবেদনও পাঠকের দৃষ্টি কাড়বে। লেখক মূলত গ্রন্থদ্বয় রচনা করেছেন কচি কাঁচাদের জন্য। উৎসর্গপত্রেও তাদেরই মনে রাখা হয়েছে।

তৈরি হওয়া নতুন ও আগামী প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে জানার যে সুযোগ পাবে বইগুলোর মধ্য দিয়ে সেখানে তারা পরিচিত হবে এক অদম্য কিশোর কি উদ্দীপনায় দেশ ও আপামর জনগোষ্ঠীকে নিজের করে নিতে পেরেছিলেন। যা উদ্দীপ্ত তারুণ্যের যাত্রা পথকে আলোকিত করতে নির্ণায়কের ভূমিকা রাখবে। আর সমকালীন আঙ্গিনাকে ছাড়িয়ে যিনি কালান্তরেই শুধু নয় বিশ্বসীমায়ও নিজের অনন্য ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরতে পারেন তিনি শুধু উপস্থিতকাল কিংবা আধুনিক নন একেবারে চিরকালের। লেখকের ‘বঙ্গবন্ধু চিরকালে’র বইটিতে এমনই বার্তা পাঠক সমাজকে আলোড়িত করবে। শব্দ চয়ন, বাক্য গঠন পরিশীলিত, মার্জিত এবং শৈল্পিক বোধে অনুরণিত। পাঠককে অনুপ্রাণিত করতে বইটি অনন্য নির্দেশকের ভূমিকা পালন করবে। গ্রন্থদ্বয়য়ের বহুল প্রচার কামনা করছি।

নির্বাচিত সংবাদ