২২ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তি

পেঁয়াজ ও ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা। এছাড়া আমিষের প্রধান উৎস ব্রয়লার মুরগির দামও ৫ টাকা বেড়ে ১৬৫-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাক-সবজি, মাছ-মাংস, চাল, ডাল, আটা ভোজ্যতেল এবং চিনি বিক্রি হচ্ছে আগের দামে। শবে-বরাত ও রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের দাম যেন না বাড়তে পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার কথা বলছেন সাধারণ ভোক্তারা। ভোক্তাদের আশঙ্কা, রোজা সামনে রেখে পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যের দাম বাড়তে পারে। অথচ পেঁয়াজের প্রধান উৎস ভারতে গত কয়েক বছরের মধ্যে এখন সর্বনিম্ন দামে এ পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজর, মুগদা বড় বাজার, ফার্মগেট কাঁচা বাজার এবং নিউমার্কেট ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, নিত্যপণ্যের বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও বেড়েছে মুরগির দাম। প্রতিকেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫-১৭০ টাকা পর্যন্ত। ব্রয়লারের পাশাপাশি ককটেল, পাকিস্তানি ফার্ম ও দেশীয় জাতের মুরগির দামও চড়া। চৈত্রের হঠাৎ গরমে পেঁপে, কাঁচকলা এবং করল্লার মতো গ্রীষ্মকালীন সবজির চাহিদা বেড়েছে। তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব সবজি। সরবরাহ কমে গেছে শীতকালীন শাক-সবজির।

এবার মধ্য জানুয়ারি থেকেই চাহিদা বাড়ায় মুরগির দাম আর কমছে না। বরং সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে যাচ্ছে আমিষের প্রধান উৎস মুরগির দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরের অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে এখন মুরগির চাহিদা বেশি। বিশেষ করে পিকনিক, বিয়েশাদীসহ বিভিন্ন ধরনের উৎসব পার্বন শুরু হওয়ার কারণে মুরগির চাহিদা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কাওরান বাজারের মুরগি ক্রেতা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হানিফ জনকণ্ঠকে বলেন, কয়েক মাস ধরেই মুরগি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকলে দাম বাড়ার কথা নয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, গরু ও খাসির মাংস বড় লোকের খাবার। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৫০০-৫৫০ এবং খাসির মাংস ৭৫০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এত দাম দিয়ে স্বল্পআয়ী মানুষের পক্ষে মাংসের স্বাদ নেয়া সম্ভব হয় না। ফলে বেশির ভাগ মানুষের ভরসার জায়গা ব্রয়লার মুরগি। কিন্তু এখন এই মুরগি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দিক চিন্তা করে খামারে যাতে মুরগির উৎপাদন বাড়ে সেদিকে সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন।

এদিকে, আড়াই মাস আগেও প্রতিকেজি ফার্মের ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১১০-১১৫ টাকা কেজি। সেই মুরগি এখন জাতভেদে ১৬৫-১৭০ টাকার উপরে বিক্রি করা হচ্ছে। বেশি টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরু ও খাসির মাংস। অন্যদিকে বাজারে মাছের দামও চড়া। দাম বেড়ে আর কমছে না। দেশীয় জাতের মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম কম নয়। বিশেষ করে রুই, কাতলা, মৃগেলের মতো কার্প জাতীয় মাছ মান ও জাতভেদে ২৫০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া চিংড়ি ও ইলিশ মাছের দামও বাড়তি। মানভেদে প্রতিকেজি গলদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৬০০-১২০০ টাকায়। এছাড়া মাঝারি মানের প্রতিজোরা ইলিশ কিনতে ভোক্তাতে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। প্রতিকেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে। ভোক্তারা বলছেন, শবে-বরাত ও রমজান সামনে রেখে আগে থেকেই পেঁয়াজসহ অন্যান্য দাম বাড়ানোর একটি পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে এখন থেকে দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারী উদ্যোগ প্রয়োজন।

এদিকে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ কমে যাওয়া এবং শীতের প্রকোপ কমে যাওয়ার কারণে বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির চাহিদা বাড়ছে। মানভেদে প্রতিহালী কাঁচকলা ৩০-৪০ এবং প্রতিকেজি পেঁপে জাত ও মানভেদে ৩০-৩৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। শীতকালীন সবজি বিক্রি হচ্ছে ২০-৪০ টাকার মধ্যে। ফকিরাপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা খলিল জানান, এ সময় শীতের সবজির সরবরাহ কমে যায়। আবার নতুন সবজি আসতে শুরু করেছে। সরবরাহ বেড়ে গেলে গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম কমে আসবে।

এদিকে, এছাড়া মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সরু চাল ৫৪-৬৪, মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা ৪৬-৫৫ এবং মোটা স্বর্ণা ও চায়না ইরি চাল ৩৮-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুদিপণ্যের মধ্যে মানভেদে আটা ২৭ থেকে ৩০ টাকা কেজি, সয়াবিন তেল লিটার ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মশুর ডাল কেজি ৬০ থেকে ১১০ টাকা, মুগ ডাল ৯০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ সপ্তাহেও ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতিহালি ৩২ থেকে ৩৫ টাকায়, চিনি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।