২২ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষক-অভিভাবকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

বুধবার প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়োকোচিত ইতিবাচক সিদ্ধান্তধর্মী যে বক্তব্য দিয়েছেন সে জন্য দেশের মানুষের ধন্যবাদ তিনি পাবেন। শিশুদের মন বোঝা সহজ কাজ নয়, আর তাদের জন্য একাডেমিক শিক্ষা গ্রহণের সুষ্ঠু ব্যবস্থা প্রণয়নও নয় সরল একটি কাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশু শিক্ষা তথা দেশের ভবিষ্যত নাগরিকদের শিক্ষার পথ সুগম ও আনন্দময় করার বিষয়টি নিয়ে যে গভীর চিন্তা এবং পর্যবেক্ষণ করেছেন সেটি তার চমৎকার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যথার্থই বলেছেন, স্কুলে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অধিকার। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় স্কুলে শিক্ষার্থীকে ভর্তি করাতে হবে। শিক্ষাকে আকর্ষণীয় করে তুলে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের যথাযথ বিকাশের বদলে শিশু অবস্থাতেই তাদের পড়াশোনার জন্য অতিরিক্ত চাপ না দিতে অভিভাবক, শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তিনি যে আহ্বান জানান সেটির জন্য দেশের মানুষের ভালবাসা তিনি পাবেন।

বর্তমান সরকার মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে যা প্রশংসাযোগ্য। ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগ তার ভেতর অন্যতম। ই-মনিটরিং সিস্টেমের আওতায় আসছে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ইতোমধ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা। এর ফলে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে গতি আসবে বলে ধারণা করা যায়। সব শিশুর মানসম্মত শিক্ষার জন্য ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকায় চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচী বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তবে শিশু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ভার থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ না নিলে তাদের আনন্দময় পাঠ সম্পন্ন হবে না। এ জন্য প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা গ্রহণের নিয়ম তুলে দেয়া জরুরী। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় পরীক্ষার প্রথম দিনেই অনুপস্থিত থেকেছে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী। বলা দরকার, এই পরীক্ষায় যারা অংশ নিয়ে থাকে সেই সব কোমলমতি শিশুর বয়স দশ-এগারোর মধ্যে। এই বয়সে একটি পাবলিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ নিঃসন্দেহে তাদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ। শিক্ষা মানে শুধু অর্থকরী কাজ বা চাকরির জন্য কিছু মানব-যন্ত্র উৎপাদন নয়; শিশুর ওপর শুধু বইয়ের বোঝা চাপিয়ে তাকে মানবিক গুণসম্পন্ন আদর্শ মানব রূপে গড়ে তোলাও অসম্ভব। রাশি রাশি হাসি আর মজার খেলার মধ্য দিয়ে শিশুর পাঠদান নিঃসন্দেহে সুফল বয়ে আনে। পরীক্ষার মতো চাপসম্পন্ন শৃঙ্খলা যে একটি শিশুর ওপর বিশেষ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আজকে আমরা যদি চিত্রকর, সঙ্গীতশিল্পী ও ফুটবল ক্রিকেটের মতো খেলার সঙ্গে জড়িত সফল ব্যক্তিদের দিকে তাকাই এবং তাদের জীবনে বেড়ে ওঠা সম্পর্কে খোঁজখবর নিই, তাহলে আমরা দেখব তারা শৈশবকাল থেকেই এ ধরনের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাদের ঝোঁক ছিল এসব বিষয়েই। তাই কোন শিশুর কোন দিকে ঝোঁক এবং কিসে সে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ও আগ্রহ বোধ করে সে সব বিবেচনা করে তার শিক্ষাদান নির্ধারণ করা দরকার। নিজের এলাকার একটি স্কুলে শিশু ভর্তি হবে, সময় ও অর্থ ব্যয়ে দূরে যেতে হবে না- এটাই তো স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার বিশ্ব শিশু দিবসে শিশু একাডেমির অনুষ্ঠানে এমন কথাই বলেছিলেন। ‘পাড়ার স্কুলে ভর্তি হওয়া একটি শিশুর অধিকার’, এই ছিল তাঁর বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁরা যেন প্রতিটি শিশু নিজের এলাকার বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। দেশের কর্ণধার যখন শিশু শিক্ষা বিষয়ে এত ভাবছেন তখন আগামীতে যে দেশে সত্যিকারের আনন্দময় শিশু শিক্ষার পথ সুগম হবে- এতে কোন সন্দেহ নেই।