২২ মার্চ ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পালকের বালিশ

অপ্রচলিত পণ্যের রফতানি বাজার বাড়ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত রফতানি পণ্যের বিদেশী বাজারের পাশাপাশি অপ্রচলিত পণ্যের রফতানি বাজার তৈরি হচ্ছে। এসব পণ্য রফতানি খাতে সরকারী প্রণোদনা এখনও মিলছে না যদিও, তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব খাতকে গুরুত্ব দিতে অনীহা করছে না। ভবিষ্যতে হয়ত এসব পণ্য রফতানির তালিকাভুক্ত হওয়া শুধু নয়, পৃষ্ঠপোষকতাও পেতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রগুলো যত সম্প্রসারিত হবে, ততই দেশ লাভবান হবে। বাড়বে প্রবৃদ্ধির হার। তৈরি হবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। আর্থিক স্বাদৃশ্যও বাড়বে। কোন কিছুই যে ফেলনা নয়, এমন মনোভাব থাকলে অনেক অপ্রচলিত পণ্য বিদেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। স্বল্পপরিসর থেকে বৃহৎ পরিসর তৈরি হবে এসব পণ্যের। লোকসান নয়, লাভের অংক বাড়তে থাকবেই। দেশে চাহিদা নেই কিংবা প্রয়োজনীয় নয় বা ব্যবহার করা হয় না এমন পণ্যকে বর্জ্য হিসেবে চিহ্নিত না করে, তার বিদেশে চাহিদা রয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে এই চাহিদা পূরণে অনেকে এগিয়ে এসেছেন। গত কয়েক বছর ধরে চীন ও তাইওয়ানে বাংলাদেশের পাখির পালকের ব্যাপক কদর বেড়েছে। এসব পালক থেকে বালিশ এবং কম্বল তৈরি করে দেশগুলো। বাংলাদেশী রফতানিকারকরা পালকের পাশাপাশি এখন পালকের তৈরি বালিশও রফতানি করছে। বৈজ্ঞানিকভাবে এই বালিশের অনেক সুফল রয়েছে বলেই এর চাহিদা ওই দুটো দেশে বেশ। দেশ দুটি দুবাই, মালয়েশিয়া এবং পাকিস্তান থেকেও পালকের তৈরি বালিশ আমদানি করে। এক কেজি থেকে ১২শ’ গ্রাম ওজনের একটি বালিশের দাম পড়ে তিন হাজার টাকার মতো। দেশের দশ শতাংশের মতো মানুষের এ বালিশ কেনার সক্ষমতা রয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ শৌখিনতার কারণেও সংগ্রহে রাখে। পালকের বালিশের যে গুণাগুণ ইতোমধ্যে মিলেছে তাতে দেখা যায়, এটি ঘাড়, কাঁধ, কোমর ও মাথা ব্যথার উপশমে কার্যকর। এ বালিশের স্থায়িত্ব আট থেকে দশ বছর। সহজলভ্য এই কাঁচামালের যোগান রয়েছে বলে এর সম্ভাবনা দেশে যেমন, বিদেশেও প্রচুর। এসব সরবরাহের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে সরবরাহকারী রয়েছে। দিন দিন এদের সংখ্যা বাড়ছে। একেকটি কারখানায় ৪০ থেকে ৫০ জন কর্মী কাজ করছে। সংগৃহীত পালককে ‘প্রসেসিং’ করে বালিশ বানানোর কাজে দক্ষ কর্মীৗ গড়ে উঠেছে। ইউরোপ, আমেরিকায় এই পণ্যের রফতানির বাজার এখনও গড়ে ওঠেনি। অদূর ভবিষ্যতে এই দুই মহাদেশে চাহিদা তৈরি করা গেলে, এই অপ্রচলিত পণ্য প্রচলিত পণ্য তালিকায় যথাযথ স্থান লাভ করতে পারবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব অপ্রচলিত পণ্যকে উৎসাহ প্রদান করলে এর বৈদেশিক চাহিদা যেমন বাড়বে, তেমনি আয়ের পথও সুগম হবে। দেশী এ পণ্যকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের এগিয়ে আসার বিকল্প নেই। দেশে আরও অনেক অপ্রচলিত পণ্য রয়েছে, যার বিদেশে বাজার গড়ে উঠতে পারে। মহিষের শিং দিয়ে দেশে ভিজিটিং কার্ড তৈরি হচ্ছে। গরুর হাড় দিয়ে চাবির রিং বানানো হচ্ছে। মসলিন শাড়ির আদলে বিশেষায়িত মসলিন শাল তৈরি হচ্ছে। এসব অপ্রচলিত পণ্যের বিদেশী বাজার পাওয়া গেলে সর্বক্ষেত্রে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। অপ্রচলিত পণ্যকে প্রচলিত করার জন্য প্রয়োজন প্রচুর বিনিয়োগ, গবেষণা এবং বাজারজাতকরণের ওপর সরকারী সহায়তা। সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে এসব পণ্যের কদর বিদেশে এবং স্বদেশে বাড়বে। ব্যাপক মুনাফা লাভের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নয়া ক্ষেত্রও তৈরি হবে। অপ্রচলিত পণ্য নিয়ে তাই ভাবা ও গুরুত্ব প্রদানের সময় বয়ে যায়।