২৪ এপ্রিল ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণণে ই-কমার্সকে কাজে লাগানোর আহবান

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য বিপণণে ই-কমার্সকে কাজে লাগানোর আহবান

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশে ৫ কোটি মধ্যবিত্ত আছে উল্লেখ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহম্মেদ পলক বলেছেন, ৫ কোটি মধ্যবিত্তরা যেকোন পণ্য ক্রয় করার ক্ষমতা রাখে। তাই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পণ্যে শুধুমাত্র সনাতন পদ্ধতিতে বিক্রয় করলে চলবে না। গ্রামের একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাটির পণ্যটি ই-কর্মাসের মাধ্যমে সারা দেশে বিপণন করতে হবে। ই-কর্মাসের মাধ্যমে বাজার বিস্তৃত করতে আইসিটি বিভাগ এবং এসএমই ফাউন্ডেশন এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কর্মাসের সুবিধা শীর্ষক সেমিনারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহম্মেদ পলক বলেন, ১০ বছর আগে দেশে ৫৬ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারী ছিল, আর বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি। বছরে ৪ কোটি মোবাইল ফোন আমদানি করা হয় এবং আমদানি করা ফোনের ভিতর শতকরা ৭৭ ভাগ হচ্ছে স্মার্টফোন। আমাদের দেশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে এক বিশাল বাজার সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই বাজারকে কাজে লাগিয়ে আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে একজন উদ্যোক্তা আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, একজন উদ্যোক্তা আরেকজন উদ্যোক্তার মত করে ভাবতে পারেন। এই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সজীব ওয়াজেদ জয় মুখ্য ভ‚মিকা রেখেছে। তার সফল প্রচেষ্টার কারণে আমাদের দেশের প্রযুক্তি এতটা এগিয়েছে।

দেশে ২ হাজার ই-কর্মাস এবং ২০ হাজার ফ-কর্মাস উদ্যোক্তা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর আধিপত্য বিস্তার হচ্ছে। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও তাদের পণ্যেটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারে। এই জন্য সবার আগে বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ভাল ও খারাপ উভয় দিক আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোক মাধ্যম ব্যবহার করে দেশকে যেমন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়, তেমনি এর অপব্যবহার করে দেশকে অশান্ত করে তোলা যায়। সবাইকে প্রযুক্তির ভাল দিকগুলো ব্যবহার করতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকাকে সারা বাংলাদেশ ভাবলে চলবে না জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামকে শহরে পরিণত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গ্রামকে উন্নত করতে সবার আগে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে। এই জন্য আমরা দেশের সব গ্রামে ফাইবার অপটিক্যাল নিয়ে যাচ্ছি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল রাজনৈতিক মুক্তি অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সংস্কৃতির মুক্তি এ মন্তব্য করে পলক বলেন, দেশে ছেলে-মেয়ের ভিতর কোন ভেদাভেদ নেই। এই সরকার নারীদের সবার আগে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে উন্নত করতে ছেলে-মেয়ের এক সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। সফল উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী হচ্ছে আমাদের অর্থনীতি। আমাদের সকল প্রকার পণ্য উৎপাদন করার ক্ষমতা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বিদেশ থেকে কোন প্রকার পণ্যে আমদানি করতে চাই না। আমাদের বাজার রয়েছে, প্রযুক্তি রয়েছে তাহলে কেন আমরা বিদেশী পণ্যের উপর নির্র্ভরশীল হবো? নিজেদের ক্ষমতা দিয়ে আমাদের সকল চাহিদাপূর্ণ পণ্যে উৎপাদন করতে হবে।

উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, যত ছোট উদ্যোক্তা হোন না কেন স্বপ্ন কিন্তু ছোট দেখা যাবে না। স্বপ্নটা দেখতে হবে অনেক বড়। যুক্তরাষ্ট্রের আমাজন এবং চীনের আলিবাবার উদাহরন দিয়ে তিনি বলেন, তারা ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করেছিল, কিন্তু পরে তারা তাদের ব্যবসা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করেছে। আজকের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও ২০ বছর পরে বিশ্ব দরবারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কর্মাসের সুবিধা শীর্ষক সেমিনারে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান, সংগঠনটির পরিচালন পর্যদের সদস্য মানতাশা আহমেদসহ অনেকেই ই-কর্মাস নিয়ে আলোকপাত করেন।

তাদের বক্তৃতায় তারা বলেন, প্রযুক্তিকে ব্যবহারে করে স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। সবার আগে ক্রেতাদের মাঝে বিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে। ই-কর্মাসের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতে বিশ্বাস হচ্ছে প্রধান হাতিয়ার। নারীদের আচার, বুটিকস এবং পার্লারের ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বিশ্বব্যাপী তাদের পণ্যেটি ছড়িয়ে দিতে ই-কর্মাসের কোন বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য, শনিবার থেকে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাত দিনব্যাপী পণ্য মেলা শুরু হয়েছে। মেলাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এসেছে। মেলাতে ৩০৫টি স্টলের ভিতর শতকরা ৬৭ ভাগ স্টল রয়েছে নারীদের। এসএমই ফাউন্ডেশন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরি করতে মেলা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডআয়োজনকরে থাকে।